পদোন্নতি জটে প্রশাসনে অচলাবস্থা
প্রকাশিত হয়েছে : ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:১৭:৩৯ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক: নিয়মিত পদোন্নতি না হওয়ায় প্রশাসনের তিন স্তরের বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তা চরম হতাশা ও ক্ষোভে ভুগছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর পদোন্নতি প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তায় পড়েছে। পদোন্নতি জটে প্রশাসনে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনের তফসিল নিয়মিত পদোন্নতির ক্ষেত্রে কোনো বাধা নয়। সময়মতো পদোন্নতি না হলে প্রশাসনিক কাজকর্মে স্থবিরতা তৈরি হবে। তারা বলছেন, এসব কর্মকর্তার কেউই নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট নন। প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন নিয়েই পদোন্নতি দেওয়া সম্ভব। তা না হলে একটি হতাশাগ্রস্ত প্রশাসনের জন্ম হবে এবং প্রশাসনিক কাজকর্ম ব্যাহত হবে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের প্রায় ৮০০ কর্মকর্তা এখনও পদোন্নতি পাননি। এতে তারা চরম ক্ষুব্ধ ও হতাশ। বঞ্চিতদের মধ্যে অতিরিক্ত সচিব পদে অন্তত ৩৫০ জন, যুগ্ম সচিব পদে ৩৪৫ জন এবং উপসচিব পদে পদোন্নতিপ্রত্যাশী আরও অন্তত ৮৪ জন কর্মকর্তা রয়েছেন।
উপসচিব ও যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তার সংখ্যাও বাড়ছে। সম্প্রতি জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব থেকে উপসচিব পদে পদোন্নতি পাননি বিসিএস ৩০তম ব্যাচের ৭৯ জন কর্মকর্তা। তাদের প্রায় সবাই পুনরায় পর্যালোচনার জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন।
সূত্র জানায়, উপসচিব থেকে যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে নিয়মিত ব্যাচ হিসেবে বিসিএস ২৪তম ব্যাচের অন্তত ১৮৩ জন কর্মকর্তা বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গত ২০ মার্চ প্রশাসনের ১৯৬ জন কর্মকর্তাকে যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হলেও নিয়মিত ব্যাচের ৩২০ জনের মধ্যে মাত্র ১৩৭ জন পদোন্নতি পান। বাদ পড়েন পাঁচজন জেলা প্রশাসকসহ মোট ১৮৩ জন কর্মকর্তা।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র আরও জানায়, যুগ্ম সচিব থেকে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে নিয়মিত ব্যাচ হিসেবে ২০তম ব্যাচকে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। এবারের পদোন্নতিতে প্রশাসন ক্যাডারের ২৪৪ কর্মকর্তার পাশাপাশি অন্যান্য ক্যাডার থেকেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কর্মকর্তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সব মিলিয়ে প্রায় ৩০০ কর্মকর্তাকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। তবে এই ব্যাচের ৪৩ জন কর্মকর্তা শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং ৪০ জন মন্ত্রীর একান্ত সচিব (পিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় তাদের পদোন্নতি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে না।
২০তম ব্যাচের নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হয় ১৯৯৯ সালে। তারা ২০১৯ সালে যুগ্ম সচিব হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করলেও পদোন্নতি পান ২০২১ সালে। নিয়ম অনুযায়ী যুগ্ম সচিব হিসেবে দুই বছর চাকরি করলেই অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জিত হয়। সে হিসেবে ২০২৩ সালেই এই ব্যাচের কর্মকর্তারা যোগ্য হয়েছেন। ইতোমধ্যে তাদের চাকরিজীবনের সব তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এসএসবি পদোন্নতির তালিকা চূড়ান্ত করলেও শেষ সময়ে এসে প্রজ্ঞাপন জারি করতে পারেনি সরকার।
এছাড়া প্রশাসন ক্যাডারের বাইরে অন্যান্য ক্যাডারের দেড় শতাধিক কর্মকর্তা পদোন্নতিযোগ্য হলেও যুগ্ম সচিব হতে পারেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের অধিকাংশই পুনরায় পর্যালোচনার আবেদন করেছেন। বিষয়টি আমলে নিয়ে এসএসবি একাধিক বৈঠকও করেছে। তবে যাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, দুদক বা বিভাগীয় মামলা চলমান, কিংবা ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) বা জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে না বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব এহসানুল হক বলেন, নিয়মিত পদোন্নতি না পাওয়াদের বিষয়ে আমরা ওয়াকিবহাল আছি। আমরা তথ্য নিচ্ছি। এ বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত অবশ্যই আসবে। মন্ত্রিপরিষদসচিব ড. শেখ আবদুর রশীদ বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি, বেশ কিছু আবেদন পেয়েছি। তার আলোকে কয়েকটি মিটিংও হয়েছে। দেখা যাক, এই সময়ের মধ্যে কতটুকু করতে পারি।
প্রশাসন বিশেষজ্ঞ সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. ফিরোজ মিয়া বলেন, সময়মতো পদোন্নতি না দিলে প্রশাসনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। যোগ্যদের সময়মতো পদোন্নতি না দিলে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়, প্রশাসনিক কাজকর্ম বিঘ্নিত হয়। নির্বাচনের তফসিল নিয়মিত পদোন্নতির ক্ষেত্রে কোনো বাধা নয়। প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশনের অনুমতি নিয়ে হলেও সময়মতো পদোন্নতি দেওয়া উচিত। এখনও সময় আছে, সরকার চাইলে পদোন্নতি দিতে পারবে।





