জগন্নাথপুর পৌর শহরে যানজটে ভোগান্তি
প্রকাশিত হয়েছে : ০৫ মার্চ ২০২৬, ৮:১০:৩৩ অপরাহ্ন

জগন্নাথপুর প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌর শহরে হঠাৎ করে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। যানজটে জনভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। রোজার দিনে দীর্ঘসময় ধরে রোদে গাড়ি নিয়ে যানজটে আটকেপড়া মানুষদের ক্ষোভের যেন শেষ নেই। এই যানজট থেকে মুক্তি পেতে নলজুর নদীতে আর্চব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। এতে যানজট কমেনি বরং আরো বেড়েছে। কারণ সময়ের পরিক্রমায় দিনে দিনে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও রাস্তাঘাট বা জায়গা-জমি বাড়ছে না। একই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে যানবাহনের সংখ্যা। ফলে দিনে দিনে যানজট বেড়েই চলেছে।
জগন্নাথপুর পৌর শহরের বুকচিরে বয়ে যাওয়া নলজুর নদীতে প্রথম পাকা ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছিল এরশাদ সরকারের আমলে। এ ব্রিজ নির্মাণ হওয়ায় জগন্নাথপুর থেকে সরাসরি সিলেটের সাথে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা হয়। পরে আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে সুনামগঞ্জের ডাবর থেকে জগন্নাথপুর রাণীগঞ্জ সেতু হয়ে সৈয়দপুর ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়ক চালু হয়। মূলত রাণীগঞ্জ সেতু হওয়ায় সুনামগঞ্জবাসীর ঢাকার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন সম্ভব হয়েছে।
সময়ের পরিক্রমায় মানুষ ও গাড়ির চাপে জগন্নাথপুর পৌর শহরে যানজট লেগেই থাকতো। কারণ সরু সেতুতে মানুষের সংকুলান হয়নি। এ যানজট থেকে মুক্তি পেতে বড় করে দৃষ্টিনন্দন আর্চব্রিজ নির্মাণ করা হয়। এখন সেই আর্চ ব্রিজই মানুষ ও গাড়ির চাপে মনে হয় সরু হয়ে গেছে। ফলে জনভোগান্তি বেড়েছে।
যানজটে আটকে থাকা গৌরহরি, রবিউল ইসলাম, আনকার মিয়াসহ বেশ কয়েকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, যেই লাউ সেই কদু। পৌর শহরে আগেও যানজট ছিল, বর্তমানেও আছে। আর্চব্রিজ নির্মাণ হওয়ায় আমরা খুশি হয়েছিলাম, ভেবেছিলাম হয়তো যানজট থেকে মুক্তি পেয়েছি। আসলে তা হয়নি। আর্চব্রিজ নির্মাণ হওয়ার পর শহীদ মিনার এলাকার সেতুটি ভেঙে ফেলা হয়েছে, নতুন সেতু হবে বলে। এখানে রাখা হয়নি বিকল্প সড়ক ব্যবস্থা। ফলে পেয়ে হেঁটে চলাচল করা গেলেও গাড়ি চলে না। তার পর ভেঙে দেয়া হয় হেলিপ্যাড হয়ে সি/এ মার্কেট পর্যন্ত বিকল্প সেতু। এতে দুই দিক থেকে কমেছে চলাচল ব্যবস্থা। সব চাপ পড়েছে একমাত্র আর্চ ব্রিজের উপরে। তার উপর ঈদকে সামনে রেখে বেড়েছে জনসমাগম।
বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, যানজটে নাকাল পৌরবাসী। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জগন্নাথপুর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) সোহরাব হোসেন জানান, আর্চ ব্রিজের সামনে পৌর শহরে গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে যানজট সৃষ্টি হয়। শহীদ মিনার এলাকায় নতুন ব্রিজ নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। এখানে বিকল্প হিসেবে বাঁশের সেতু নির্মাণ করা হবে। আর নদীতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হেলিপ্যাড-সি/এ মার্কেট বিকল্প সেতুটি ভেঙে দেয়া হয়েছে।




