পাল্টাপাল্টি হামলা চলছেই : ইরানে ১,২৩০ জন নিহত
প্রকাশিত হয়েছে : ০৫ মার্চ ২০২৬, ১১:৩৯:২৫ অপরাহ্ন
জালালাবাদ রিপোর্ট : বোমার শব্দে এখন ঘুম ভাঙছে ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বিরতিহীনভাবে নিরীহ ইরানীদের উপর হামলা করছে, অন্যদিকে সর্বশক্তি দিয়ে লড়ছে খামেনির উত্তরসুরিরাও।
আল-জাজিরা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ইরানে কমপক্ষে ১ হাজার ২৩০ জন নিহত হয়েছেন।
ইরানের হামলায় ইসরায়েলে ১১ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১ মার্চ ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলের বেইত শেমেশে ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৯ জন নিহত।
ইরানের হামলায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর ছয় সদস্য নিহত হয়েছে। কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় তারা নিহত হন।
লেবাননে গত সোমবার থেকে ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ৭৭ জন নিহত হয়েছেন।
এছাড়া কুয়েতে ইরানের হামলায় দুই কুয়েতি সেনাসহ ৪ জন নিহত হয়েছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতে তিনজন নিহত হয়েছেন।
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা মধ্যপ্রাচের তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের ২০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে গতকাল হামলা চালিয়েছে। কুয়েত, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত এসব মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলায় সেগুলোর উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
কুয়েতে মার্কিন বাহিনীর ওপর এবার ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি আরিফজানে মার্কিন বাহিনীর ওপর ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান।
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি) বলেছে, তারা উপসাগরে একটি মার্কিন তেল ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগের বিবৃতির বরাত দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানায়, ইরানের নৌবাহিনী সফলভাবে একটি আমেরিকান তেল ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে।
কাতারের রাজধানী দোহায়ও একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। দোহায় অবস্থানরত বার্তা সংস্থা এএফপির একজন প্রতিবেদক এই তথ্য জানিয়েছেন।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা গত মঙ্গলবার এক রুদ্ধদ্বার ব্রিফিংয়ে আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা ও সম্পদের ওপর ইরানের হামলায় ব্যবহৃত প্রতিটি ড্রোন তাঁরা ভূপাতিত না-ও করতে পারেন। তাঁদের এই সক্ষমতা না-ও থাকতে পারে। এই বিষয়ের সঙ্গে পরিচিত দুজন ব্যক্তি এই তথ্য জানিয়েছেন।
জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনের নেতৃত্বে কর্মকর্তারা বলেছেন, ইরান হাজার হাজার ‘ওয়ান-ওয়ে’ (একমুখী) অ্যাটাক ড্রোন মোতায়েন করছে। যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ ড্রোন ভূপাতিত করার সক্ষমতা আছে ঠিকই। তবে এই বিশাল সংখ্যার সব কটি ঠেকানো সম্ভব নয়।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো সতর্কতা ছাড়াই আন্তর্জাতিক জলসীমায় থাকা ইরানি যুদ্ধজাহাজে হামলা চালিয়েছে। এই হামলার ফল যুক্তরাষ্ট্রকে ভোগ করতে হবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ইরানি যুদ্ধজাহাজটি ভারতের নৌবাহিনীর অতিথি ছিল। ইরানি যুদ্ধজাহাজে মার্কিন হামলার প্রসঙ্গে আজ বৃহস্পতিবার এক্স পোস্টে আব্বাস আরাগচি লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যে নজির স্থাপন করেছে, তার জন্য তারা তীব্র অনুশোচনা করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করে আব্বাস আরাগচি বলেন, ট্রাম্প শুধু কূটনীতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি, তিনি তাঁকে নির্বাচিত করা আমেরিকান জনগণের সঙ্গেও বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।
এদিকে, ইরানের দুটি স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম। তবে এতে কেউ হতাহত হয়েছে কিনা তা উল্লেখ করা হয়নি।
ইরানের আধাসরকারি ফারস নিউজ এজেন্সি জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের রাজধানী তেহরানের দক্ষিণ-পশ্চিমে পারান্দ শহরের দুটি স্কুলে আঘাত হেনেছে। ফারস নিউজ, একটি শ্রেণিকক্ষের ক্ষয়ক্ষতি এবং ধ্বংসাবশেষের ছবি শেয়ার করেছে। হামলায় স্কুলের কাছাকাছি বেশ কয়েকটি আবাসিক ইউনিটও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের মিনাব শহরের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে আঘাত হানে। এতে অন্তত ১৬৫ শিক্ষার্থী নিহত হয়।
এছাড়া ইরানের বিভিন্ন শহরে একের পর এক শক্তিশালী বিস্ফোরণ ও সেটির কম্পন অনুভূত হচ্ছে। আল-জাজিরার প্রতিনিধি জানিয়েছেন, প্রাণভয়ে তেহরানের বাসিন্দাদের একটি বিশাল অংশ শহর ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে।
বিশেষ করে যাদের শহরের বাইরে বাড়ি রয়েছে, তারা দ্রুত রাজধানী ত্যাগ করছেন। যারা যেতে পারছেন না, তারা চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত ইরানের অন্তত ১৫০টি শহরে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল জোট।



