আবহাওয়ার পূর্বাভাস উদ্বেগজনক : সুনামগঞ্জে বন্যার শঙ্কা, ধান কাটার নির্দেশনা
প্রকাশিত হয়েছে : ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ৮:৪১:৫৪ অপরাহ্ন

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: আবহাওয়া পূর্বাভাসে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সুনামগঞ্জে অতি ভারী বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আগামী ২৮ এপ্রিলের মধ্যে ৮০ শতাংশ পাকা বোরো ধান দ্রুত কেটে ঘরে তোলার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
আজ শুক্রবার সকালে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ সতর্কবার্তা জারি করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আবহাওয়া অধিদপ্তর ও আন্তর্জাতিক আবহাওয়া সংস্থাগুলোর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৩ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে। ২৪ থেকে ২৬ এপ্রিল হালকা ও মাঝারি বৃষ্টির পর ২৭ এপ্রিল থেকে বৃষ্টির তীব্রতা বাড়তে শুরু করবে। ২৮ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত এ অঞ্চলে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে।
পাউবো জানায়, বর্তমানে সুরমা নদীর পানি সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর পয়েন্টে বিপদসীমার ১ দশমিক ৭৬ মিটার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে পারে। ২৮ এপ্রিল থেকে সুরমা, কুশিয়ারা, ধনু-বউলাই ও কংশসহ জেলার প্রধান নদ-নদীর পানি দ্রুত বেড়ে কোথাও কোথাও বিপৎসীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার বলেন, ‘ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ২৮ এপ্রিল থেকে জেলায় আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির ঝুঁকি রয়েছে। এতে হাওরের বোরো ফসলের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই যেসব জমির ধান ৮০ ভাগ পেকেছে, সেগুলো দ্রুত কেটে ফেলতে কৃষকদের অনুরোধ করছি।’ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বোরো মৌসুমে সুনামগঞ্জের ১৩৭টি হাওরে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন, যার বাজারমূল্য পাঁচ হাজার কোটি টাকা। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। জেলায় ৬০২টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার ও ১৪৬টি রিপার কাজ করছে। এর বাইরে অন্য জেলা থেকে আনা হয়েছে আরও ২৫টি হারভেস্টার।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, ‘পুরোদমে ধান কাটা চলছে। শ্রমিকের পাশাপাশি হারভেস্টার ও রিপার দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। তবে এ বছর প্রকৃতি কৃষকদের সঙ্গে বৈরী আচরণ করছে।’





