চার মাসে ‘প্রায় শতাধিক’ ভূ-কম্পন, বড় ভূমিকম্পের বার্তা : সেমিনারে তথ্য
প্রকাশিত হয়েছে : ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ৯:৫০:০৮ অপরাহ্ন

জালালাবাদ রিপোর্ট : চলতি বছরের প্রথম চার মাসেই বাংলাদেশ ও আশেপাশের অঞ্চলে ‘প্রায় শতাধিক’ ভূমিকম্প হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে প্রকৌশলীদের এক সেমিনারে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ যে ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে আছে, এগুলো তারই ইঙ্গিত বহন করে|
এ কারণে তারা দেশের অনিরাপদ ভবনগুলো নিরাপদ করার ক্ষেত্রে সরকারি উদ্যোগে জোর দিয়েছেন|
শুক্রবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘ভূমিকম্প: পরিপ্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারটির আয়োজক ‘প্রগতিশীল প্রকৌশলী, পরিকল্পনাবিদ ও স্থপতি সমাজ’|
কয়েক দশকের মধ্যে দেশের সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্প হয়েছে গেল ২১ নভে¤^র সকালে| রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ওই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকার পাশে নরসিংদীর মাধবদীতে| সে ভূমিকম্পে ১০ জন প্রাণ হারায়| আহত হয় ছয় শতাধিক মানুষ|
সেমিনারের সভাপতি প্রকৌশলী মোশাররফ হোসেন মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন, সেখানে ওই ভূমিকম্পে প্রাণহানি ছাড়াও ভবনের ক্ষয়ক্ষতি ক্ষয়ক্ষতি ও মাটিতে ফাটল ধরার প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়, এসব কারণে জনমনে একটা ভীতির সঞ্চার হয়|
তিনি বলেন, এরপর ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসেই বাংলাদেশ ও আশেপাশের অঞ্চলে প্রায় শতাধিক ভূমিকম্প রেকর্ড হয়েছে, যার মধ্যে ১৫-২০টি সাধারণ মানুষ অনুভব করতে পেরেছে| যা দেশের ভূমিকম্প ঝুঁকির একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে|
বাংলাদেশে সিসমোগ্রাফ দিয়ে ভূ-কম্পন জরিপের ক্ষেত্রে ‘অনেক বেশি দুর্বলতা’ থাকার কথা তুলে ধরে এই প্রকৌশলী বলেন, যে কারণে ‘ইউএসজিএস’ এর প্রাপ্ত তথ্যকেও ভিত্তি হিসেবে আলোচনা করতে দেখা যায়|
আমাদের জানামতে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূতত্ত্ব বিভাগে ১৩টি সিসমোগ্রাফ যন্ত্র দিয়ে ২০০৩ সালে একটি প্রজেক্টে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করলেও অর্থ বরাদ্দের অভাবে সেগুলো আর ব্যবহার করা হচ্ছে না|
ভূমিকম্পসহ ভূ-প্রকৃতি সম্পর্কিত তথ্যাদি সংগ্রহ করা হয় বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরকে দিয়ে, যেখানে পেশাজীবি ও গবেষকদের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ প্রকৌশলী মোশাররফ হোসেনের| তার দাবি, আমলাতান্ত্রিকভাবে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিদের প্রশাসনিক ক্ষমতা অনুযায়ী পরিচালিত হওয়ার কারণে এই প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না| ভূমিকম্প সম্পর্কে আমাদের বিশেষজ্ঞদের গবেষণায় বাংলাদেশে নিজ¯^ তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের ব্যবস্থা করা তাই জরুরি| ভূমিকম্পের সময়ে মানুষের নিরাপদ অবস্থান কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কাজের গুরুত্বের দিকও তুলে ধরেন এই প্রকৌশলী| উদ্ধার তৎপরতায় নাগরিকদের যুক্ত করতে হলে ক্রেন, বুলডোজার, হ্যামার, ড্রিলসহ পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতির ব্যবস্থা, জনবল ˆতরি, দুর্যোগকালীন সম্ভাব্য কার্যক্রমের অনুশীলন, ইত্যাদির ব্যবস্থা করার বিষয়েও জোর দেন তিনি|
ভূমিকম্প ও ভবনের নকশা বিষয়ক গবেষক, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়-বুয়েটের অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারির মতে, ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সবচেয়ে জরুরি তৃতীয় পক্ষকে দিয়ে ভবনের নকশা, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-রাজউককে দিয়ে নিরীক্ষণ করার মাধ্যমে নিরাপদ ভবন ˆতরি করা|
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও গবেষক মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ভূমিকম্প নিয়ে ঝুঁকি যাই থাকুক, প্রয়োজন সতর্কতা ও করণীয় নিয়ে মানুষকে সচেতন করা| শুধু আইন করে ঝুঁকি এড়ানোর বদলে জনগণকে সচেতন হতে হবে, যাতে অনিরাপদ ভবন ˆতরি না হয়|চিলিতে ৮ এর বেশি মাত্রার ভূমিকম্পে ৭০০ জনের প্রাণহানির সঙ্গে হাইতিতে ৭ মাত্রায় ২ লাখ মানুষের প্রাণহানির তুলনা করে বিজ্ঞানসম্মত ধারণা নিয়ে নিরাপদ ভবন নির্মাণকেই সমাধান হিসেবে তুলে ধরেন তিনি|
বুয়েটের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ স্থপতি ইন্সটিটিউটের সাবেক সভাপতি খন্দকার সাব্বির আহমেদ বলেন, অনিরাপদ ভবনকে নিরাপদ করার জন্য সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে| যাদের সামর্থ্য নেই, সেই সব ভবনের ক্ষেত্রে করপোরেট প্রতিষ্ঠান থেকে তাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর ফান্ড) তহবিল নিয়ে এটা করা সম্ভব|
নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনাবিদ খন্দকার নিয়াজ রহমান বলেন, কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামের কোস্টাল বেল্টে মেরিন ড্রাইভ নির্মাণ, কোস্টাল বেল্টকে অনিরাপদ করছে| প্রাণ প্রকৃতি ও মানবিক বিপর্যয় ঘটানোর হাত থেকে রক্ষার দাবি জানান তিনি| সেমিনার সঞ্চালনা করেন প্রকৌশলী ইমরান হাবিব রূমন|





