চড়া সুদে ১৬০ কোটি ডলার ঋণ নিতে তোড়জোড়
প্রকাশিত হয়েছে : ০২ মে ২০২৬, ৬:৩১:২৩ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক : বাজেট সহায়তা হিসেবে চড়া সুদে ১৯০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ| এই ঋণ নিতে তোড়জোড় শুরু করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়| প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৯৫ পয়সা ধরে এই ঋণের পরিমাণ ২৩ হাজার ৩৬০ কোটি ৫ লাখ টাকা| তবে উদ্বেগের বিষয় হলো এই ঋণের বড় অংশই সহজ শর্তের নয়| মোট প্রস্তাবিত অর্থের প্রায় ১৬০ কোটি মার্কিন ডলারই নন-কনসেশনাল অর্থাৎ বেশি সুদ, কম গ্রেস পিরিয়ড এবং দ্রুত পরিশোধযোগ্য ঋণ|
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রাজস্ব আয় না বাড়িয়ে ও ব্যয় সংযম ছাড়া এমন ঋণ ভবিষ্যতে অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে| এক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প ব্যয়, বিদেশ সফর ও অপচয় কমানো গেলে চড়া সুদে ঋণ নেওয়ার প্রয়োজন অনেকটাই কমে যাবে|
এরই মধ্যে উন্নয়ন সহযোগীদের পাঁচটি ঋণ প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার| চার উন্নয়ন সহযোগীর কাছ থেকে এ অর্থ নেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে| এর মধ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে ১০৫ কোটি ডলার, জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) থেকে ৫০ কোটি ডলার, এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) থেকে ২৫ কোটি ডলার এবং ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ওএফআইডি) থেকে ১০ কোটি ডলার উচ্চ সুদে ঋণ নেবে সরকার| মূলত এই অর্থ দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে বাংলাদেশ বিদ্যমান আর্থিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা হবে|
এসব ঋণের মধ্যে ১৬০ কোটি ডলার নেওয়া হবে কঠিন শর্তে| এতে ৫ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ পর্যন্ত সুদ দিতে হবে| এর মধ্যে দুই প্রকল্পে এডিবি দেবে ৭৫ কোটি ডলার| এছাড়া এআইআইবি দেবে ২৫ কোটি ডলার, ৫০ কোটি ডলার মিলবে জাইকা থেকে এবং ওএফআইডি দেবে ১০ কোটি ডলার|
সহজ শর্তের ঋণে সুদের হার এক দশমিক ৫ শতাংশ, অব্যবহৃত অর্থের ওপর সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ প্রতিশ্রুতি ফি (কমিটমেন্ট ফি) প্রযোজ্য হয়| এ ঋণের মেয়াদ থাকে ২৫ বছর, যার মধ্যে ৫ বছরের গ্রেস পিরিয়ড অন্তর্ভুক্ত| অথচ কঠিন শর্তের ঋণে গ্রেস পিরিয়ড মাত্র ৩ বছর এবং ১২ বছরেই এই ঋণ পরিশোধ করতে হবে| ক্ষেত্র বিশেষে এই ঋণে ৫ শতাংশের ওপরে সুদ পরিশোধ করতে হবে বাংলাদেশকে|






