জকিগঞ্জের সমৃদ্ধ নৌপথ এখন শুধুই স্মৃতি!
প্রকাশিত হয়েছে : ০৪ মে ২০২৬, ৭:১০:৫৯ অপরাহ্ন
এখলাছুর রহমান, জকিগঞ্জ: সিলেটের সীমান্তবর্তী জনপদ জকিগঞ্জ একসময় ছিল নদীপথনির্ভর যোগাযোগ ও বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। সুরমা ও কুশিয়ারা নদী ঘিরে গড়ে ওঠা এই অঞ্চল ঔপনিবেশিক আমল থেকেই আধুনিক নৌ-যোগাযোগের আওতায় ছিল। জকিগঞ্জ-শিলচর-করিমগঞ্জ হয়ে ভৈরববাজার ও নারায়ণগঞ্জ পেরিয়ে কলকাতা পর্যন্ত নিয়মিত স্টিমার চলাচল করত। ফলে এই জনপদের মানুষ সহজেই যাতায়াত, বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের সুযোগ পেত।
ঐতিহাসিকভাবে আসাম-বাংলা জলপথে ইন্ডিয়া জেনারেল স্টিম নেভিগেশন কোম্পানি-এর স্টিমার সার্ভিস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। প্রতিদিন একাধিক স্টেশন অতিক্রম করে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন করা হতো। চা, পাট, ধানসহ নানা পণ্য সহজেই বড় বাজারে পৌঁছাত। এতে জকিগঞ্জের স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য যেমন সমৃদ্ধ হয়েছিল, তেমনি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাও ছিল গতিশীল।
কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে সেই নৌ-যোগাযোগ এখন প্রায় বিলুপ্ত। ভারত বিভাজন ১৯৪৭-এর পর জকিগঞ্জ-করিমগঞ্জ সীমান্ত আন্তর্জাতিক সীমানায় রূপ নেয়। কুশিয়ারা নদীর একটি অংশ সীমান্ত হওয়ায় নিরাপত্তাজনিত কারণে নৌ চলাচল সীমিত হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে নদীতে পলি জমে নাব্যতা কমে যাওয়ায় বড় নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে একসময়কার ব্যস্ত স্টিমারঘাটগুলো এখন নিস্তব্ধ।
উপজেলার সুলতানপুরের প্রবীণ ব্যক্তি মো. আব্দুল কাইয়ুম বলেন, আগে নদীপথেই সবকিছু হতো। যাতায়াত, ব্যবসা সব সহজ ছিল। এখন আমাদের অনেক দূর ঘুরে যেতে হয়। আরেক বাসিন্দা আব্দুর রহমান জানান, স্টিমার চলাচল বন্ধ হওয়ার পর ব্যবসা অনেক কমে গেছে। আগের মতো সুযোগ-সুবিধা নেই।
একসময় আটগ্রাম বাজার সংলগ্ন সুরমা নদী-তেও স্টিমার চলাচল ছিল নিয়মিত। কিন্তু নাব্যতা হারানোর ফলে সেই পথও অচল হয়ে পড়ে। বর্তমানে কুশিয়ারা নদীর অনেক অংশে, বিশেষ করে রাতে নৌ চলাচল বন্ধ থাকে। এতে সীমান্তঘেঁষা এই অঞ্চলের মানুষ নানা ধরনের অসুবিধার মুখোমুখি হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নৌ-যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জকিগঞ্জের মানুষ সাশ্রয়ী পরিবহন, দ্রুত পণ্য পরিবহন এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যের বড় একটি সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এতে স্থানীয় অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।
স্থানীয়দের দাবি, নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং নৌ-যোগাযোগ পুনরায় চালু করা গেলে এই অঞ্চলের অর্থনীতি ও জীবনযাত্রায় আবারও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।





