মে মাসে মব-গণপিটুনিতে নিহত ৩১
প্রকাশিত হয়েছে : ০৫ জুন ২০২৬, ৮:২৩:৩০ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক : মে মাসে সারাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতায় পাঁচজন নিহত হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন দলের ২৮৯ জনের বেশি নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বিএনপির একজন, জামায়াতের একজন, পার্বত্য চট্টগ্রাম কেন্দ্রিক রাজনৈতিক দল ইউপিডিএফের দু’জন ও একজন সাধারণ নারী। অন্যদিকে গণপিটুনি ও মব সহিংসতায় নিহত হয়েছেন অন্তত ৩১ জন। শুক্রবার (৫ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি–এইচআরএসএস’। ‘আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক বিরোধ ও হামলা, দলীয় ও অন্তকোন্দল, ও চাঁদাবাজি কেন্দ্রিক অধিকাংশ সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে’ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া গত মাসে বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের নামে ২৩টির বেশি মামলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের ১৬টি জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ এবং হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) সংগ্রহ করা তথ্য ও ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত মে মাসের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে ৬৪টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৫ জন এবং আহত হয়েছেন ২৮৯ জন। মে মাসে রাজনৈতিক সহিংসতা ও হতাহতের সংখ্যা এপ্রিল মাসের তুলনায় কমেছে। গত এপ্রিল মাসে ৯৮টি ‘রাজনৈতিক সহিংসতার’ ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৬ জন এবং আহত হয়েছেন ৫৩৩ জন।
রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় মে মাসে ৬৪টি ঘটনার মধ্যে বিএনপির অন্তর্কোন্দলে ১টি ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১১৪ জন। বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে ১০টি সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয়েছেন ৪৯ জন, নিহত হয়েছেন একজন, বিএনপি-আওয়ামী লীগের মধ্যে ১৪টি সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয়েছেন ৭২ জন, নিহত হয়েছেন দু’জন। বিএনপি-এনসিপির মধ্যে দুটি সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয়েছেন দু’জন, বিএনপি-অন্যান্য দলের মধ্যে ১১টি সংঘর্ষের ঘটনায় ২৭ জন আহত হয়েছেন। বিভিন্ন দলের মধ্যে সাতটি ঘটনায় আহত হয়েছেন ২৫ জন। মব সহিংসতা ও গণপিটুনির ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, এ মাসে গণপিটুনি ও মব সহিংসতায় সারাদেশ চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, বাক-বিতণ্ডা, আধিপত্য বিস্তার, ধর্মীয় অবমাননাসহ নানা অভিযোগে ৬৬টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন অন্তত ৩১ জন, আহত হয়েছেন ৬৮ জন।
মে মাসে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনার তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে, মে মাসে ৩৯টি ঘটনায় ৭৮ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এ সকল ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্ততপক্ষে ৪২ জন, লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন ১৮ জন, হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন ৯ জন সাংবাদিক। একজন সাংবাদিককে আটক করা হয়েছে। এছাড়া দুটি মামলায় ৮ জন সাংবাদিককে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
বিচারবহির্ভূত হত্যা, থানা ও কারাগারে মৃত্যুর বিষয়ে সংস্থাটির পক্ষ থেকে উদ্বেগ জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ, ভিকটিমের পরিবার ও এইচআরএসএসের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, ১৮ মে সুন্দরবনের খুলনা রেঞ্জের শতমুখী খাল এলাকায় বনবিভাগের কর্মকর্তার গুলিতে একজন এবং মাদকবিরোধী অভিযানের সময় পালাতে গিয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া, এ মাসে সারাদেশে কারাগারে কমপক্ষে ৭ জন আসামি মারা গেছেন, যার মধ্যে চারজন কয়েদি ও তিনজন হাজতি। এর মধ্যে একজন আওয়ামী লীগের এবং ৬ জন সাধারণ কয়েদি মারা গেছেন।
ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতন ও মাজারে হামলার ঘটনার উদ্বেগ জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ মাসে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ৩টি হামলার ঘটনায় ৫ জন আহত হয়েছে। এছাড়া ৬টি বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর এবং ১টি ভূমি দখলের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া কুষ্টিয়া ও ঢাকায় পৃথক ২টি মাজারে হামলার ঘটনা ঘটেছে, এ সময় বেশ কয়েকজন আহত হন।
সীমান্তে হতাহত ও আটকের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে এইচআরএসএসের প্রতিবেদনা বলা হয়, মে মাসে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ৬টি হামলার ঘটনায় ৬ জন নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এছাড়া বিএসএফ কর্তৃক ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে। অপরদিকে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে পুঁতে রাখা স্থলমাইন বিস্ফোরণে ৩ জন নিহত ও ১ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ৪টি ঘটনায় ১৮ জনকে আটক করেছে আরাকান আর্মি।
এ মাসে ৩০৫ জন নারী ও কন্যা শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, মে মাসে ৮৩ জন নারী, শিশু ও কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৫৭ জন ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু ও কিশোরী। ১৭ জন নারী ও কন্যা শিশু গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। অন্যদিকে ৭৬ জন নারী ও কন্যা শিশু যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন যার মধ্যে শিশু ৪২ জন। যৌতুকের জন্য নির্যাতনের ঘটনায় নিহত ৩, আহত ৪ এবং আত্মহত্যা করেছেন ১ জন নারী। পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়ে নিহত হয়েছেন ৬৩ জন, আহত হয়েছেন ৩১ জন এবং আত্মহত্যা করেছেন ৪৫ জন নারী। এছাড়া, এসিড নিক্ষেপের ঘটনায় আহত হয়েছেন ১ জন। অন্যদিকে, অন্তত ২১৫ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন যাদের মধ্যে ৫৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ২১১ জন শিশু শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।





