বৈরী আবহাওয়ার কবলে পরীক্ষা
প্রকাশিত হয়েছে : ১৫ জুলাই ২০২৬, ১২:০১:২৭ অপরাহ্ন
এবার বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা। ঝড় বৃষ্টি ও বন্যার কারণে দেশের অনেক জেলায় পরীক্ষার্থীদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পরীক্ষা দিতে গিয়ে। এ নিয়ে অনেক স্থানে বিক্ষোভ ও অবরোধও করেছে শিক্ষার্থীরা। এ অবস্থায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ সত্বেও কেনো পরীক্ষা স্থগিত করা হয়নি, এর একটি ব্যাখ্যাও প্রদান করেছে শিক্ষাবোর্ড। বোর্ডের এ সংক্রান্ত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যেও কেনো পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, এ বিষয়ে অনেক শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ীর উদ্বেগ ও প্রশ্নের বিষয়টি বোর্ডের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।
ব্যাখ্যায় বলা হয়, ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা দেশের সব শিক্ষাবোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অতিবৃষ্টিজনিত বন্যায় চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবং পরীক্ষার্থীদের নিরাপদে কেন্দ্রে উপস্থিত হতে না পারার কারণে শুধু চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড ও চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড এলাকার আওতাধীন মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড ও কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। অন্যদিকে দেশের অন্যান্য শিক্ষাবোর্ডের অধিকাংশ পরীক্ষা কেন্দ্র কার্যক্রম পরিচালনার উপযোগী রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয়ের ভিত্তিতে পরীক্ষা গ্রহণের পরিবেশ বিদ্যমান রয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসন প্রতিবেদন প্রেরণ করেছে। এই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে পূর্ব নির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী অন্যান্য বোর্ডের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, অপ্রত্যাশিতভাবে গত ১৩ জুলাই সকালে বিরূপ আবহাওয়ার কারণে কিছু কেন্দ্রে বিশেষ করে কুমিল্লা সরকারী মহিলা কলেজ কেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। তবে স্থানীয় প্রশাসন, কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও অভিভাবকদের আন্তরিক সহযোগিতায় শিক্ষার্থীরা যথাসময়ে কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে সক্ষম হন। এ ব্যাপারে আন্ত শিক্ষাবোর্ড সমন্বয় কমিটি বলেছে, ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ শিক্ষার্থীর পরীক্ষার প্রস্তুতি উপলব্ধি করে এবং পরীক্ষা বার বার স্থগিত করা হলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন, ফলাফল প্রকাশ, বিশ^বিদ্যালয় ও অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি কার্যক্রম এবং সামগ্রিক শিক্ষা শিক্ষাপঞ্জি ব্যাহত হওয়ার আশংকা থাকে। একই সঙ্গে অভিন্ন প্রশ্নপত্র ব্যবস্থায় একটি বোর্ডের কারণে সব বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত রাখাও বাস্তবসম্মত নয়।
জানা গেছে, এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ৬ষ্ঠ দিনের পরীক্ষায় সাড়ে ১৯ হাজারেরও বেশী পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন স্থানে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশ নিতে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। কোন কোন স্থানে শিক্ষার্থীদের কোমর পানি পেরিয়ে কিংবা রাস্তায় নৌকা দিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হতে হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে বিশেষভাবে এলাকা বাড়িঘর জলমগ্ন হওয়ার দরুন অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হতে পারেননি।
শিক্ষামন্ত্রী ও বোর্ড কর্তৃপক্ষের যে বিষয়টি জানা নেই এমন নয়। কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থী যাদের এমন দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে, তাদের শিক্ষাজীবনে বড় ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশংকা রয়েছে। পরীক্ষা দিতে না পারলে কিংবা পরীক্ষা খারাপ হলে তাদের নিজেদেরই বাকী জীবন এর খেসারত দিতে হবে। তাই এসব শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের ক্ষোভ খুবই স্বাভাবিক। এ অবস্থায় শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী ২০২৭ সালের শিক্ষাবর্ষ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা জানুয়ারী মাসে এবং এইচএসসি পরীক্ষা জুন মাসে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। পাবলিক পরীক্ষার সময়সূচী পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক সময় সাশ্রয় ও শিক্ষাবর্ষকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে এই উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। কথা হচ্ছে, বাংলাদেশ একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ দেশ। ঝড় বৃষ্টি ও বন্যার সাথে লড়াই করে টিকে থাকতে হয় এদেশের মানুষকে। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগুলোর সময়সূচী যাতে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় তথা বর্ষা মৌসুমের খারাপ সময়ে না পড়ে সেদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর খেয়াল রাখা উচিত। প্রতিটি শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন তার নিজের ও নিজের পরিবারের কাছে মহামূল্যবান। তাদের শিক্ষাজীবন নষ্ট করার অধিকার কারো নেই। আমরা এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রণালয়সহ নীতি নির্ধারক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।






