ছাতকে দুই মহল্লাবাসীর সংঘর্ষে পুলিশসহ ৭০ জন আ’হ’ত
প্রকাশিত হয়েছে : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮:৫৫:৩৮ অপরাহ্ন
ছাতক প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক পৌর এলাকায় চিকিৎসকের চে¤^ারে রোগী দেখানোর সিরিয়ালকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটির জের ধরে দুই মহল্লাবাসীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে| শুক্রবার রাত সাড়ে ৭টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্তত্ম পৌরসভার হাসপাতাল রোড (মন্ডলীভোগ) ও মোগলপাড়ার মধ্যবর্তী পাকা সড়কে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে|
দুই মহল্লাবাসীর ওই সংঘর্ষে পুলিশসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৭০ জন আহত হয়েছেন| এদের মধ্যে গুরুতর আহত সায়ান মিয়া, আনোয়ার হোসেন, কয়েছ মিয়া, আইনুল হক, সোহাগ মিয়া, আল আমিন ও সাইম উদ্দিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে| ওই সংঘর্ষের পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে|
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শহরের ট্রাফিক পয়েন্ট সংলগ্ন ‘দে ফার্মেসি’তে শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. মো.হেদায়েত হোসেন নিয়মিত রোগী দেখেন| শুক্রবার সন্ধ্যার পুর্বে রোগীর সিরিয়াল লেখানো নিয়ে চিকিৎসকের সহকারী মন্ডলীভোগের অনিক আহমেদ ও মোগলপাড়ার তাহমিনা আক্তারের মধ্যে বাকবিতন্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে| বিষয়টি নিয়ে দুই এলাকার লোকজনের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়|
ওই ঘটনার জের ধরে রাত সাড়ে ৭টার দিকে দুই মহল্লাবাসীর লোকজন দেশীয় ইটপাটকেল ও লাটি-সোটা নিয়ে সরকারী হাসপাতাল রোড (মন্ডলীভোগ) ও মোগলপাড়ার মধ্যবর্তী পাকা সড়কের উপর সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে| শুরু হয় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া| এসময় উভয় পক্ষের লোকজন টর্চ লাইট জ্বালিয়ে সড়কে একপক্ষ অন্য পক্ষের উপ আক্রমন করতে থাকে| উভয় পক্ষের লোকজনকে দেশীয় অস্ত্রের পাশাপাশি ইটপাটকেল ও কাচের বোতল নিক্ষেপ করেতে দেখা গেছে| দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা দাওয়া ঘটনায় হাসপাতাল রোডে বাসিন্দা নারী, শিশু ও হাসপাতালে অবস্থানরত রুগীর ¯^জনরাসহ হাসপাতালের লোকজন দিক বেদিক ছুটাছুটি করতে শুরু করেন|
সংঘর্ষে পুলিশসহ অন্তত ৭০ জন আহত হন এর মধ্যে ৮ জনকে সিলেটে ও অন্য আহত ৬২ জনকে ছাতক উপজেলা ¯^াস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা ও ভর্তি করা হয়েছে| প্রায় দু’ঘন্টা ব্যাপী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কোন টিয়ারসেল বা রাবার বুলেট নিক্ষেপ না করায় তাদের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই| শেষ পর্যায়ে রাত সোয়া ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে থানা পুলিশ ব্যাপক লাটিচার্জ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে|
সংঘর্ষ চলাকালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একাধিক বার চেষ্টা চালিয়ে সাবেক পৌর কাউন্সিল জসিম উদ্দিন সুমেন সহ থানার উপ-পরিদর্শক মো.রোমেন মিয়াসহ পুলিশের কয়েকজন আহত হয়ে উপজেলা ¯^াস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন| খবর পেয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (ছাতক সার্কেল) শেখ মো.মুরছালিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন| থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ঝলক মোহন্ত সংঘর্ষের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি ¯^াভাবিক রয়েছে| ঘটনাস্থলে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে|






