ছাতকে রাতের আঁধারে গাছের গাড়ি আটকিয়ে টাকা নিচ্ছেন নৈশপ্রহরী !
প্রকাশিত হয়েছে : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮:৪৪:০৯ অপরাহ্ন
ছাতক প্রতিনিধি ঃ সুনামগঞ্জের ছাতকে প্রতি রাতেই জ্বালানীর জন্য ব্যবহারের লাকড়ী (গাছ ও ডালপালা) বাহী ট্রাক-পিকআপ। এসব গাড়ি থেকে সুরমা ব্রিজ ও ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কে বিভিন্ন স্থানে গাড়ি আটকিয়ে টাকা নিচ্ছি বন বিভাগের লোকজন। বন বিভাগের দুই নৈশপ্রহরী বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেছেন গাড়ি চালকরা। বিষয়টি স্থানীয় বন বিভাগ অবগত থাকলেও এবিষয়ে কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায় মৌলভীবাজার জেলার শ্রীঙ্গলসহ সিলেটের বিভিন্ন স্থান থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি কাঠ প্রতিদিন (লাকড়ী) বুঝাই অন্তত ২০/৩০টি গাড়ি প্রতিদিন আসে ছাতকে ঢুকছে। এসব কাঠবাহী গাড়ি সড়কে থামিয়ে বা মোটরসাইকেল দিয়ে ধাওয়া করে বিভিন্ন অজুহাতে ৫শ’ টাকা ্এবং কোন কোন ক্ষেত্রে ৫ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকাও নেয়ার অভিযোগ রয়েছে দুইজনের বিরুদ্ধে। এসব টাকা আদায়কারীরা হলেন, উপজেলা বন বিভাগের নৈশপ্রহরী মহসিন মিয়া ও বনপ্রহরী আজিজুর রহমান।
গত রোববার রাত আনুমানিক ৯টার পর অভিযোগের বিষয়টি সরেজমিনে গণমাধ্যমকর্মীরা দেখতে গেলে ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কের একটি অন্ধকার স্থানে কাঠবাহী গাড়ি থামিয়ে চালকদের সঙ্গে বন বিভাগের কর্মীকে ওই দুই দীর্ঘ সময় কথাবার্তা বলতে দেখা যায়। পৌরসভার আবর্জনা ফেলার রাস্তার কাছাকাছি ওই স্থানে মোটরসাইকেল নিয়ে অবস্থান করছিলেন মহসিন মিয়া ও আজিজুর রহমান। কিছুক্ষণ পর দুটি কাঠবাহী পিকআপ ওই এলাকা অতিক্রম করলে তারা মোটরসাইকেল নিয়ে গাড়ি দু’টির পিছু নেন।
পরে পাগল হাসান চত্বর থেকে দোয়ারাবাজারমুখী সড়কের রেললাইন পার হওয়ার পর অন্ধকার এলাকায় গাড়ি দুটিকে থামানো হয়। এ সময় চালকদের সঙ্গে দীর্ঘসময় কথাবার্তা ও বাকবিতণ্ডা হয়। চালকদের মোবাইল ফোনে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করতেও দেখা যায়। ঠিক ওই সময়ে গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে গাড়ি আটকের কারণ জানতে চান। এসময় গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে গাড়ির চালকরা বলেন, কাঠ পরিবহনের জন্য তাদের নিয়মিত ৫০০ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গাড়ি আটক, মামলা বা হয়রানির ভয় দেখানো হয়। স্থানীয়দের দাবী, যেখানে শতশত একর বনভূমি ধংস হচ্ছে, সেখানে পাহারা নেই, অথচ স্থানীয় বন বিভাগের নৈশপ্রহরী রাস্তা পাহারা দিচ্ছেন। বিষয়টি সঠিক ভাবে তদন্ত করলে তলের বেড়াল বেড়িয়ে আসবে।
গাড়ি আটকের কারণ জানতে চাইলে দুই নৈশপ্রহরী বলেন, গাড়ি ও গাছের কাগজপত্র পরীক্ষা করা হচ্ছে। তারা এগুলো যাতে না আসে সেই লক্ষ্যে কাজ করছেন। এবিষয়টি তাৎক্ষণিক উপজেলা বন বিভাগের কর্মকর্তা কেবিএম ফেরদৌসকে জানানো পর তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে তার উপস্থিতিতে কাঠবাহী গাড়ি গুলো আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়। বন কর্মকর্তার কেবিএম ফেরদৌসের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই বিষয়টি আমি দেখতেছি।
সড়কের উপর গাড়ি থামিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সিলেট অঞ্চল বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা আব্দুর রহমান বলেন, এভাবে রাস্তায় টাকা আদায় করা অন্যায়। বন বিভাগের কর্মীরা এ ধরনের কাজ করতে পারেন না। তিনি এবিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।





