নিউইয়র্ক গেলেন প্রধানমন্ত্রী : জাতিসংঘ অধিবেশনে একগুচ্ছ কর্মসূচি
প্রকাশিত হয়েছে : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮:৫০:৩৭ অপরাহ্ন
জালালাবাদ ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে সোমবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিউইয়র্ক যাচ্ছেন। ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন।
ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানানোর জন্য উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তারসহ ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বলেন, প্রধানমন্ত্রী, তাঁর সহধর্মিণী ডা: জুবাইদা রহমান ও অন্য সফরসঙ্গীদের নিয়ে টার্কিশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট সকাল ৬টা ৫ মিনিটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে।
এর আগে ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম জানান, ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস কর্তৃক রাষ্ট্র-সরকারপ্রধানদের সম্মানে আয়োজিত এক স্বাগত প্রাতরাশ সভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি অন্য বিশ্বনেতাদের সঙ্গে সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দেবেন। সন্ধ্যায় রাষ্ট্র-সরকারপ্রধান ও তাঁদের জীবনসঙ্গীদের সম্মানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আয়োজিত একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি।
২৩ সেপ্টেম্বর সকালে প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক দাতব্য-মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি প্রাতরাশ সভায় মতবিনিময় করবেন। পরে তিনি ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে ও স্পেনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বৈশ্বিক বৈষম্য সংকট মোকাবিলাবিষয়ক একটি সভায় বক্তব্য দেবেন। এ ছাড়া তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘জলবায়ু পদক্ষেপ ও ন্যায়সংগত উত্তরণ’ শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যোগ দেবেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একই দিনে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে দ্রুততম সময়ে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে কার্যকর আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চেয়ে রোহিঙ্গা সংকটবিষয়ক একটি পার্শ্ব অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
পররাষ্ট্রসচিব জানান, জলবায়ুসংক্রান্ত বৈঠকগুলোতে প্রধানমন্ত্রী একটি জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন। বৈঠকগুলোতে জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, ক্ষয়ক্ষতি ও জলবায়ু ন্যায়বিচারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী ২৪ সেপ্টেম্বর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে সৃষ্টি হওয়া অস্তিত্বের হুমকি নিয়ে আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন। এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশ আয়োজিত দুটি গুরুত্বপূর্ণ পার্শ্ব অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
একই দিনে প্রধানমন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে মাতৃ-নবজাতকের স্বাস্থ্য ও ধাত্রীবিদ্যা সংক্রান্ত আরেকটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেবেন। এতে তিনি মাতৃ-শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নতুন সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসহ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরবেন। দক্ষ ও পেশাগতভাবে প্রশিক্ষিত ধাত্রীসেবার গুরুত্বের ওপর জোর দেবেন।
অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স এবং ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীদের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য-বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।





