ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, অর্থনৈতিক চাপ সামলাতে হবে : আনোয়ার ইব্রাহিম
প্রকাশিত হয়েছে : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ৬:২১:৩১ অপরাহ্ন

মালয়েশিয়া প্রতিনিধি : বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা করতে হবে মালয়েশিয়াকে। একই সঙ্গে বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও ভূরাজনীতিতে বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তনের প্রভাবও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। ২০২৬ সালের খাজানাহ ন্যাশনাল বারহাদের মেগাট্রেন্ড ফোরামে উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আনোয়ার ইব্রাহিম একই সঙ্গে মালয়েশিয়ার অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একটি বাণিজ্যনির্ভর দেশ হিসেবে বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন মালয়েশিয়ার জন্য কেবল তাত্ত্বিক বিষয় নয়। বিশেষ করে বৈশ্বিক চিপ সরবরাহ শৃঙ্খলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেশটিতে রয়েছে বিভিন্ন কারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান।
আনোয়ার বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত দেশ হিসেবে এসব পরিবর্তন সম্পর্কে মালয়েশিয়াকে সচেতন থাকতে হবে। প্রতিকূল বৈশ্বিক পরিস্থিতির মধ্যেও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে শক্তিশালী অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখে দেশটি এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যে মালয়েশিয়া উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। একই সঙ্গে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও ভারতকে ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে বিবেচনা করে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখছে দেশটি। অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি পশ্চিম ও পূর্বÑউভয় অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখাই মালয়েশিয়ার লক্ষ্য।
আনোয়ার বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানের সদস্য হওয়ায় মালয়েশিয়া কিছুটা স্থিতিশীলতার সুবিধা পাচ্ছে। তবে শুধু বৈঠক আয়োজন বা প্রতীকী সহযোগিতার মধ্যে আঞ্চলিক জোটের ভূমিকা সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়।
তিনি বলেন, আসিয়ানের কেন্দ্রীয় ভূমিকার নীতিকে সমর্থন করে মালয়েশিয়া। তবে এর অর্থ এমন সক্ষমতা অর্জন করা, যার মাধ্যমে বিভিন্ন বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক ঘটনাপ্রবাহে কার্যকর প্রভাব রাখা সম্ভব। শুধু সভা আয়োজন করাই যথেষ্ট নয়।
বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থায় জবাবদিহি ও সুশাসন আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিশ্বের ক্ষমতার কেন্দ্রগুলো দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং এই পরিবর্তনের গতি ক্ষমতা পরিচালনার জন্য গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতার চেয়েও বেশি।
আনোয়ারের মতে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় পর্যায়ে অর্থবহ জবাবদিহির ঘাটতি আধুনিক শাসনব্যবস্থার অন্যতম মৌলিক দুর্বলতা। এর ফলে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, একতরফা বাণিজ্যিক পদক্ষেপ এবং বৈশ্বিক ব্যবস্থায় কাঠামোগত ভারসাম্যহীনতা বাড়ছে।





