দেশভাগের পর প্রথম চালু হলো আসাম-ঢাকা নৌপথ
প্রকাশিত হয়েছে : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ৬:২৯:১৯ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক : দেশভাগের আগে চালু থাকা ভারতের আসামের ডিব্রুগড় থেকে বাংলাদেশের ঢাকার নৌপথ আনুষ্ঠানিকভাবে আবার চালু হয়েছে। ডেকান হেরাল্ড এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সোমবার ডিব্রুগড়ের বগীবিল থেকে ৫৪০ মেট্রিক টন মিথানল নিয়ে একটি জাহাজের বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরুর মধ্য দিয়ে এই নৌপথ পুনরুজ্জীবিত হল।
ব্রিটিশ আমলে কলকাতা হয়ে চা, কাঠ ও কয়লা পরিবহনে ব্যবহার করা হত এই নৌপথ। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর এ পথ বন্ধ হয়ে যায়। ভারতের অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান হয়ে যাওয়া নৌপথটি ১৯৪৭ সালে বন্ধ হলেও ডিব্রুগড়ের ব্রহ্মপুত্র নদীবন্দর বন্ধ হয় ১৯৫৬ সালে।
সোমবার বগীবিল থেকে ডিএলবি পাতকাই নামের জাহাজটির যাত্রার উদ্বোধন করেন ভারতের নৌপরিবহন ও জলপথমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল। আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত হন। ডিব্রুগড়ে বেড়ে ওঠা সোনোয়াল বলেন, আমাদের দাদা-দাদিরা ডিব্রুগড় ঘাটে স্টিমারের হুইসেল শুনে বড় হয়েছেন। ৭০ বছর ধরে, যখন ঘাটটি বন্ধ ছিল, সেই হুইসেল আর শোনা যায়নি, জাহাজও আসেনি।
বাংলাদেশে আসছে ৫৪০ টন মিথানল : আসামের নামরূপে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আসাম পেট্রো-কেমিক্যালস লিমিটেডের (এপিসিএল) উৎপাদিত মিথানলের চালানটির গন্তব্য ঢাকার পানগাঁও বন্দর। জাহাজটি ভারতের ব্রহ্মপুত্র নদে জাতীয় জলপথ-২ ধরে প্রায় ৭৬৮ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে পৌঁছাবে। এরপর যাবে ভারত-বাংলাদেশ প্রটোকল রুট বা আইবিপিআর দিয়ে।
বগীবিল, ডিব্রুগড় থেকে বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত জাহাজটির মোট যাত্রাপথ প্রায় ১ হাজার ৩০০ কিলোমিটার। আসামের নামরূপে উৎপাদিত পণ্য আসামের নিজস্ব নদীপথে আন্তর্জাতিক বাজারে যাচ্ছে বিষয়টিকে ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ হিসেবে বর্ণনা করেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তিনি বলেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চল আর ভারতের প্রান্তসীমা নয়। এটি পূর্বের দিকে ভারতের প্রবেশদ্বার।





