সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ পৌনে ১২ লাখ কোটি টাকা
প্রকাশিত হয়েছে : ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৪১:৫৮ অপরাহ্ন
# এক বছরে বেড়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা
# জুলাইয়ে ব্যাংকঋণ প্রায় ছয় গুণ

জালালাবাদ ডেস্ক: বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ গ্রহণ বাড়ছে। এক বছরের ব্যবধানে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণের স্থিতি বেড়েছে প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাই শেষে এ ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৭৫ হাজার ৫৮২ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এর মধ্যে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ঋণ গ্রহণের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। জুলাই মাসে ব্যাংক থেকে সরকারের নিট ঋণ গ্রহণ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ছয় গুণ বেড়ে ১৫ হাজার ৫৭৪ কোটি ৯০ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। বিপরীতে ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে ঋণ গ্রহণ কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণের এ চিত্র।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই শেষে সরকারের নিট অভ্যন্তরীণ ঋণের স্থিতি ছিল ১০ লাখ ৩০ হাজার ২৫৭ কোটি ১০ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৭৫ হাজার ৫৮২ কোটি ৬০ লাখ টাকায়। অর্থাৎ এক বছরে ঋণের স্থিতি বেড়েছে প্রায় ১৪ দশমিক ১ শতাংশ। শুধু চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসেই সরকার অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে নিট ১৯ হাজার ৬৬৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছে।
সাধারণত বাজেটের আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঋণ নিয়ে থাকে। ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও ব্যাংকবহির্ভূত খাত—এ দুই উৎস থেকে নেওয়া হয় এ ঋণ। চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকারের নিট অভ্যন্তরীণ ঋণ গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি এবং ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণের বড় অংশই আসছে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাইয়ে ব্যাংক থেকে সরকারের নিট ঋণ গ্রহণের পরিমাণ ছিল ১৫ হাজার ৫৭৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা। গত অর্থবছরের একই মাসে এ পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৫৬৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংক থেকে নিট ঋণ গ্রহণ বেড়েছে প্রায় ছয় গুণ।
২০২৬ সালের জুলাই শেষে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে সরকারের নিট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার ৫৯৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা। গত বছরের একই সময়ে এ স্থিতি ছিল ৫ লাখ ৪৮ হাজার ৫৯৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ফলে সরকারের ব্যাংকঋণের স্থিতিও এক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
ব্যাংকের বাইরে বিভিন্ন উৎস থেকে চলতি অর্থবছরের জুলাইয়ে সরকার নিট ৪ হাজার ৯২ কোটি ৪০ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছে। গত অর্থবছরের একই মাসে এ পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ৯৫৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক বছরে ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে নিট ঋণ গ্রহণ কমেছে ১ হাজার ৮৬৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
জুলাই শেষে ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে সরকারের নিট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৭৯ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৮১ হাজার ৬৫৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
এ খাতের অন্যতম উৎস জাতীয় সঞ্চয় প্রকল্প। চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে এসব প্রকল্পের বিক্রি থেকে সরকারের নিট ঋণ গ্রহণ হয়েছে ২ হাজার ৫৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এ ছাড়া ট্রেজারি বিল, ট্রেজারি বন্ড ও বাংলাদেশ সরকারি বিনিয়োগ সুকুকের মাধ্যমে ব্যাংকের বাইরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কাছ থেকে সরকার নিট ২ হাজার ৩২ কোটি ৯০ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছে।
সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণের এই প্রবণতায় বাজেটের অর্থায়নে ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা বাড়ার চিত্র ফুটে উঠেছে।






