ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য ৪ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা
প্রকাশিত হয়েছে : ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬:৩০:৩১ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক : দেশের ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য বেড়ে ৪ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা না বাড়ায় আমানতের তুলনায় কম অর্থ ঋণ হিসেবে বিতরণ করছে ব্যাংকগুলো। ফলে অলস অর্থের পরিমাণ বাড়ছে, কমছে ঋণ ও আমানতের অনুপাত।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সেপ্টেম্বরের ‘মেজর ইকোনমিক ইন্ডিকেটরস’ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্ট শেষে ব্যাংক খাতের মোট তারল্য ছিল ৭ লাখ ৮১ হাজার ২১৪ কোটি টাকা। এর বিপরীতে বিধিবদ্ধ ন্যূনতম তারল্যের প্রয়োজন ছিল ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৬০ কোটি টাকা। সে হিসাবে উদ্বৃত্ত তারল্যের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ লাখ ৪১ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা।প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, প্রচলিত ধারার বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে উদ্বৃত্ত তারল্য সবচেয়ে বেশি। আগস্ট শেষে এসব ব্যাংকের উদ্বৃত্ত তারল্য ছিল ২ লাখ ৭১ হাজার ৬৯১ কোটি টাকা। রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্য ছিল ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা।
তবে ব্যাংক খাতের সব প্রতিষ্ঠানে সমানভাবে এ তারল্য নেই। অনিয়ম ও দুর্বল আর্থিক অবস্থার কারণে কিছু ব্যাংক এখনো তারল্য সংকটে রয়েছে।অন্যদিকে, ব্যাংক খাতে ঋণ ও আমানতের অনুপাতও ধারাবাহিকভাবে কমছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর শেষে এ অনুপাত ছিল ৮০.৩৮ শতাংশ। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে ৮১.৩২ শতাংশে উঠলেও পরে কমতে থাকে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তা ৭৮.২৮ শতাংশে নেমে আসে। ওই বছরের ডিসেম্বর শেষে কমে দাঁড়ায় ৭৭.৭২ শতাংশে।
চলতি বছরের মার্চ শেষে তা আরও কমে ৭৫.৮০ শতাংশ হয়েছে।ব্যাংকারদের মতে, বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা দুর্বল থাকায় ব্যাংকগুলো নতুন ঋণ বিতরণে প্রত্যাশিত গতি পাচ্ছে না। ফলে উদ্বৃত্ত অর্থের একটি অংশ সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, কিছু অর্থ ব্যাংকগুলোতে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকছে।






