জকিগঞ্জে মাঠজুড়ে সবুজ ধান: অনুকূল আবহাওয়ায় আশাবাদী কৃষক
প্রকাশিত হয়েছে : ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮:২৬:১৬ অপরাহ্ন

এখলাছুর রহমান, জকিগঞ্জ : সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় চলতি মৌসুমে আমন ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকেরা। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠজুড়ে এখন সবুজ ধানের সমারোহ। কোথাও ধানের শিষ বেরিয়েছে, আবার কোথাও শিষের দানা পুষ্ট হচ্ছে। এখনো ধান পাকেনি, তবে জমির বর্তমান অবস্থা দেখে ভালো ফলনের প্রত্যাশা করছেন কৃষকরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলে এ বছর আমনের আশানুরূপ ফলন পাওয়া যাবে বলে তাঁদের বিশ্বাস।
উপজেলার বারঠাকুরী ইউনিয়নের দেব উত্তর গ্রামের কৃষক ছমেদ আলী, কাজলসার ইউনিয়নের কৃষক কবির আহমদ এবং সুলতানপুর ইউনিয়নের কৃষক আব্দুস শাকুরের সঙ্গে কথা বলে আমন চাষের বর্তমান পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য ফলন নিয়ে কৃষকদের আশাবাদের চিত্র পাওয়া গেছে।
বারঠাকুরী ইউনিয়নের দেব উত্তর গ্রামের কৃষক ছমেদ আলী বলেন, এ বছর আমন ধানের জমির অবস্থা দেখে ভালো ফলনের আশা করছি। তবে এখনো ধান পাকেনি। ধানের শিষের দানা পরিপুষ্ট হওয়া থেকে শুরু করে ফসল ভালোভাবে ঘরে তোলা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আশানুরূপ ফলন পাওয়া সম্ভব। তবে সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের পেছনে অনেক টাকা খরচ হয়। ভালো ফলনের পাশাপাশি ধানের ন্যায্যমূল্য পেলে আমাদের পরিশ্রম সার্থক হবে।
কাজলসার ইউনিয়নের কৃষক কবির আহমদ বলেন, আমন ধান আমাদের এলাকার কৃষকদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারের খাদ্যচাহিদা পূরণের পাশাপাশি অনেক কৃষকের জীবিকা এই ফসলের ওপর নির্ভরশীল। এ বছর জমির অবস্থা দেখে ভালো ফলনের আশা করছি। তবে শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকতে হবে। রোগবালাই ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলের ক্ষতি না হলে কৃষকেরা লাভবান হতে পারবেন। উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সুলতানপুর ইউনিয়নের কৃষক আব্দুস শাকুর বলেন, ধান চাষে আমাদের অনেক পরিশ্রম করতে হয়। জমি তৈরি থেকে শুরু করে ধান ঘরে তোলা পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে খরচ রয়েছে। বর্তমানে জমির অবস্থা দেখে আশাবাদী হলেও ফসল পুরোপুরি ঘরে না তোলা পর্যন্ত নিশ্চিন্ত হওয়া যায় না। আমরা চাই, এ বছর আমনের ভালো ফলন হোক। পাশাপাশি ধান কাটার মৌসুমে কৃষকেরা যেন ন্যায্য দাম পান। এতে কৃষকেরা আর্থিকভাবে উপকৃত হবেন এবং আগামী মৌসুমে চাষাবাদে আরও উৎসাহ পাবেন।
কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। জকিগঞ্জের গ্রামীণ জনপদেও মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে কৃষি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আমন ধানের ভালো ফলন হলে কৃষকদের পরিবারের খাদ্যচাহিদা পূরণের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তবে বাম্পার ফলনের প্রত্যাশা বাস্তবে রূপ দিতে ফসলের যথাযথ পরিচর্যা, রোগবালাই দমন এবং অনুকূল আবহাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে উৎপাদন খরচ বিবেচনায় কৃষকেরা যাতে ধানের ন্যায্যমূল্য পান, তা নিশ্চিত করাও প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে, জকিগঞ্জের কৃষকেরা এখন আমন ধানের ভালো ফলনের প্রত্যাশায় দিন গুনছেন। মাঠের সবুজ ধান শেষ পর্যন্ত সোনালি ফসলে রূপ নেবে, আর সেই ফসল কৃষকের ঘরে স্বস্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনবে-এমন প্রত্যাশাই তাঁদের।






