রূপপুরের বিদ্যুৎ উৎপাদনে বায়রার অনুমোদন
প্রকাশিত হয়েছে : ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ৯:১০:২০ অপরাহ্ন
ডিসেম্বরে গ্রিডে ৩০০ মেগাওয়াট সরবরাহের আশা

জালালাবাদ ডেস্ক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরবর্তী ধাপে যাওয়ার অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা)। প্রয়োজনীয় ফিজিক্যাল স্টার্টআপ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ‘স্টেজ-সি’ বা পাওয়ার স্টার্টআপ কার্যক্রম শুরুর এ অনুমোদনের ফলে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রস্তুতি আরও এক ধাপ এগিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সফল হলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রথম ইউনিট থেকে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান। তিনি জানান, বায়েরা চেয়ারম্যান এম মাহমুদুল হাসান প্রথম ইউনিটে পাওয়ার স্টার্টআপ কার্যক্রম শুরুর প্রয়োজনীয় অনুমোদন দিয়েছেন।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রথম ইউনিটের বি-২ ধাপের ফিজিক্স টেস্টসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এসব পরীক্ষার প্রতিবেদন নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে জমা দেওয়ার পর স্টেজ-সি পর্যায়ের কার্যক্রম শুরুর অনুমোদন পাওয়া যায়। এ পর্যায়ে কেন্দ্রটির পরিচালনাকারী সংস্থাকে ট্রায়াল অপারেশনাল অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বাড়িয়ে চলবে পরীক্ষা:
স্টেজ-সি পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা ধাপে ধাপে বাড়ানোর পাশাপাশি কেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি ও ব্যবস্থার কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে কুল্যান্ট ব্যবস্থা, টারবাইন-জেনারেটর, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং সুরক্ষা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা।
এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান জানান, বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও ব্যবস্থার পারস্পরিক সমন্বয় এবং স্বাভাবিক পরিচালন পরিস্থিতিতে সেগুলোর কার্যকারিতা যাচাই করা হবে। বিশেষ করে টারবাইনের নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষাব্যবস্থা, জেনারেটর এবং সংশ্লিষ্ট বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম যথাযথভাবে কাজ করছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে।
প্রাথমিক পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা কম রেখে পরীক্ষা শুরু হবে। পরীক্ষার ফলাফল ও কারিগরি মূল্যায়নের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে ক্ষমতা বাড়ানো হবে। রিঅ্যাক্টরের তাপীয় ক্ষমতা ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশে উন্নীত হলে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
তবে পাওয়ার স্টার্টআপের অনুমোদন পাওয়ার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হওয়া নয়। পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহ, কমিশনিং কার্যক্রম এবং বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়া পৃথক ধাপ। বাণিজ্যিক উৎপাদনের আগে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা সম্পন্ন করার পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থার সব শর্ত পূরণ করতে হবে। পুরো প্রক্রিয়ায় বিদ্যুৎ গ্রিড পরিচালনাকারী সংস্থা এবং নিরাপত্তা ও পারমাণবিক জরুরি পরিস্থিতি ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয়ও গুরুত্বপূর্ণ।
উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট:
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুটি ইউনিট নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। দুটি ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদনক্ষমতা দাঁড়াবে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।
কেন্দ্রটি নির্মিত হচ্ছে তৃতীয় প্রজন্মের উন্নত ‘থ্রি প্লাস’ (ঠঠঊজ-১২০০) প্রযুক্তিতে। নকশা অনুযায়ী, এর প্রাথমিক আয়ুষ্কাল ৬০ বছর। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা মূল্যায়ন ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষে ভবিষ্যতে এ মেয়াদ বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রকল্পটির মূল মেয়াদ ছিল ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। দুই দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে তা ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি ও অন্যান্য আর্থিক কারণে প্রকল্পের ব্যয়ও বেড়েছে। বর্তমানে এর মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা।
বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে কেন্দ্রটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।






