জিয়ার দর্শনের মাধ্যমেই দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে: শাবিপ্রবিতে সিসিক প্রশাসক
প্রকাশিত হয়েছে : ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ৮:০৬:৪৪ অপরাহ্ন

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। একদলীয় বাকশাল শাসনের অবসানের পর তিনি সব রাজনৈতিক দলের রাজনীতি করার অধিকার ফিরিয়ে দেন। এমনকি আওয়ামী লীগও তাঁর উদ্যোগে পুনরায় রাজনীতি করার সুযোগ পায়। অন্যদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে আবারও গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে শনিবার সকালে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা জাতিকে দিকনির্দেশনা দিয়েছিল। একজন সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার ঝুঁকি উপেক্ষা করে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। শুধু স্বাধীনতার ঘোষণাই দেননি, একজন সেক্টর ও ব্রিগেড কমান্ডার হিসেবে সম্মুখসমরেও নেতৃত্ব দিয়েছেন। সিলেটের জকিগঞ্জ, কানাইঘাটসহ বিভিন্ন এলাকায় তাঁর যুদ্ধের ইতিহাস রয়েছে। এমসি কলেজ এলাকাতেও সংঘটিত যুদ্ধে বহু মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের ইতিহাসে জিয়াউর রহমানের এই ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী সুশাসন ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। রাজনৈতিক অস্থিরতা, দলীয়করণ, হত্যা, নির্যাতন ও নানা অনিয়মের কারণে সাধারণ মানুষ হতাশ হয়ে পড়ে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের পর দেশে একের পর এক অভ্যুত্থান ও পাল্টা অভ্যুত্থানের ঘটনা ঘটে। এতে রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও সশস্ত্র বাহিনীতে চরম অস্থিরতা সৃষ্টি হয়।
৭ নভেম্বরের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে সিসিক প্রশাসক বলেন, সে সময় জিয়াউর রহমানকে বন্দি রাখা হয়েছিল এবং সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছিল। এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে তিনি মুক্তি লাভ করেন। এ ঘটনা দেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তন করে। পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে তিনি জাতীয় ঐক্য, সুশাসন ও অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে কাজ করেন। তিনি আরও বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। জনগণের প্রত্যক্ষ ম্যান্ডেট নিয়ে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর রাজনৈতিক দর্শন ও রাষ্ট্র পরিচালনার ধারাবাহিকতায় পরবর্তী সময়ে বেগম খালেদা জিয়াও গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মিনি অডিটোরিয়ামে গণিত বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. আশরাফ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সম্মানিত অতিথির বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. জি এম রবিউল ইসলাম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোরাদ। স্বাগত বক্তব্য দেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কালাম আহমেদ।






