বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে হামলা-গুলিবর্ষণ: আ.লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের ২৮ জনের নাম উল্লেখ করে বিস্ফোরক আইনে মামলা দায়ের
প্রকাশিত হয়েছে : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১০:২৯:৪৮ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে হামলা, মারপিট ও গুলিবর্ষণের অভিযোগে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের শাহপরাণ (রহঃ) থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের ২৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এতে অজ্ঞাতনামা আরো দেড় শ’ জনকে আসামী করা হয়।
গতকাল ১ সেপ্টেম্বর (২০২৪) শাহপরাণ (রহঃ) থানায় মামলার এজাহার দায়ের করেন শাহপরাণ থানাধীন সোনারপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোঃ শাহেদ আলীর পুত্র আলাল আহমদ।
মামলার আসামীরা হলেন- সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামানের এপিএস শহীদুল ইসলাম চৌধুরী (৪০), আমিনুল ইসলাম চৌধুরী শিমুল (৩৪), সিলেট জেলা ছাত্রলীগ নেতা নাজমুল ইসলাম (৩৫),
জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, রাহেল সিরাজ (৩০), সাজলু লস্কর (৪০) সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা দেবাংশু দাস (মিন্টু) (৪০), এম.সি কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি দেলোয়ার হোসেন রাহি (৩০), এম.সি কলেজ ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব (২৬), সুধীন্দ্র দাস শুভ্র (৩৫), জেলা যুবলীগ নেতা এবং ৩৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম (৫০), ৩২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রুহেল আহমদ(৩২), সাবেক মন্ত্রী আব্দুল মোমেন, নবারুন ৪৩৪ এর আব্দুল জলিল এর পুত্র খলিলুর রশিদ(৩৫),সিলাম ইউ/পি আ’লীগ নেতা ওমর ফারুক ফরহাদ(৩৭), সুনামগন্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার মখলিছ মিয়ার ছেলে
কামরুল হোসেন (৩০), দক্ষিণ সুরমা উপজেলা খাজাকালু গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে মোঃ নোমান আহমদ(৪০), নগরীর তেররতনের বাসিন্দা খায়ের মাস্টারের পুত্র আব্দুলাহ আল মামুন (২৮), এডভোকেট গিয়াস উদ্দিন(৪০), আরজু উরফে কালা আরজু(২৮), বাদল, হিরন, লোকমান, নাবিল আহমদ, রফিক মিয়া, তানভীর ইসলাম শিপন, হোসাইন আহমদ নোমান, ইব্রাহিম, জুনেদ আহমদ প্রমুখ। এছাড়াও মামলায় ১০০ থেকে ১৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামী করা হয়।
মামলার এজাহারে আলাল আহমদ উল্লেখ করেন, গত ৪ আগস্ট (২০২৪) দেশব্যাপী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক দফায় ছাত্রদের সাথে একাত্মতা পোষণ করে সিলেট নগরীর উপশহর রোজ ভিউ সামনে থেকে ই ব্লকের মেইন রোডে মিছিল নিয়ে আসলে উৎপেতে থাকা উল্লেখিত আসামীরা মিছিলে হামলা চালায়। এসময় তারা আগ্নেয়াস্ত্র, দা, রড, হকিস্টিক, চাপাতি লোহার পাইপ ও লাটিসোঁটা নিয়ে আক্রমণ করে। এছাড়াও এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করে দেয়। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা ছাত্র আন্দোলনে মিছিলে থাকা ছাত্রদের বেধরক মারপিট করে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে যুক্ত হওয়া ছাত্ররা প্রাণ বাঁচাতে দিক-বেদিক ছুটোছুটি করতে থাকে। এসময় সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাহেল সিরাজ, সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা দেবাংশু দাস (মিন্টু), জেলা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক ও ৩৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম, ৩২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রুহেল আহমদ অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে মিছিল লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করেন। এসময় মামলার বাদি আলাল আহমদের পিঠে গুলি লেগে তিনি গুরুতর আহত হন। আলাল আহমদকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে মৃত ভেবে সন্ত্রাসীরা স্থান ত্যাগ করেন। পরে স্থানীয় লোকজন ও পথচারীরা মিলে তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। এছাড়াও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ ও মারপিটের শিকার হন।
শাহপরান রহঃ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামলা দায়েরের কথা স্বীকার করে বলেন” মামলাটি এফআইআর করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে,বাকীটা তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।





