ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন : প্রতীক পেলেন প্রার্থীরা, আজ থেকে প্রচারণা
প্রকাশিত হয়েছে : ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ২:০০:২৪ অপরাহ্ন
২৯৮ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৯৬৭ প্রার্থী

স্টাফ রিপোর্টার : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময় শেষে দেশের ২৯৮ সংসদীয় আসনে চূড়ান্ত প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। ইসির হিসাব অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট ১ হাজার ৯৬৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ৩০০ সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ করা হবে। একই দিনে হবে গণভোট। পাবনা ১ ও ২ আসনের নতুন তফসিল অনুযায়ী, আসন দুটিতে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় আছে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত। তাই এই দুই আসনের প্রার্থীদের চুড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হয়নি।
চুড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর গতকাল বুধবার প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ হয়েছে। তফসিল অনুযায়ী, আজ ২২ জানুয়ারি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা শুরু হবে এবং ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার ৪৮ ঘণ্টা পূর্ব পর্যন্ত এই প্রচারণা চালানো যাবে। অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি ভোর সাড়ে ৭টা পর্যন্ত প্রচারণা চালানো যাবে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে সারা দেশে মোট ৩০৫ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এবারের নির্বাচনে সারাদেশে মোট ৩ হাজার ৪২২টি মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে দাখিল করেছিলেন ২ হাজার ৫৮৫ জন প্রার্থী। প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে ১ হাজার ৮৫৮ জনকে বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং ৭২৬টি মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে ৬৩৯ জন ইসিতে আপিল করেন। আপিল নিষ্পত্তি শেষে ৪৩১ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পান। সব প্রক্রিয়া শেষে ৩০৫ জন প্রার্থী সরে দাঁড়ালে চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১ হাজার ৯৬৭ জনে।
বুধবার উৎসবমুখর পরিবেশে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রতীক পাওয়ার পর আজ বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণায় নামতে পারবেন প্রার্থীরা।
এবারের নির্বাচনে ৫৯টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫১টি অংশ নিচ্ছে। প্রার্থীদের অধিকাংশই বিভিন্ন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মনোনীত, তবে শতাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থীও ভোটের মাঠে রয়েছেন। এর মধ্যে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র প্রার্থীদের নিয়ে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।
বিভিন্ন জনমত জরিপের পূর্বাভাস বলছে, এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে। যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে নির্বাচনে আসন সমঝোতা করেছে বিএনপি। যে আসনগুলোতে ধানের শীষের প্রার্থী নেই সেগুলোতে সমঝোতার ভিত্তিতে শরিকদের প্রার্থী রাখা হয়েছে। আবার অনেক আসনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে অনেক বিএনপির নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীসহ ১০টি দল নির্বাচনী ঐক্য গড়েছে। যেসব আসনে জামায়াতে ইসলামীর দলীয় প্রার্থী নেই সেখানে নির্বাচনী ঐক্যে থাকা শরিক দলের প্রার্থী আছে।
গতকাল আল জাজিরা বলেছে, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো কোনো নির্বাচনী জোটের প্রধান শক্তি হিসেবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা দেখছে দেশটির বৃহত্তম ইসলামী দল জামায়াতে ইসলামী।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালনে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি ভোটারদের কেন্দ্রমুখী করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। রিটার্নিং অফিসারদের সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ৩০০ সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ করা হবে। একই দিনে হবে গণভোট। পাবনা ১ ও ২ আসনের নতুন তফসিল অনুযায়ী, আসন দুটিতে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় আছে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত।





