শাবি শিক্ষকের নিয়োগ বাতিল না করলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি
প্রকাশিত হয়েছে : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৮:০৪:১৬ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনামলের শেষদিকে ২০২৪ সালে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ‘অনিয়ম ও দুর্নীতি’র আশ্রয় নিয়ে ‘অযোগ্য প্রার্থী’ তাজবিউল ইসলামকে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তখন বুয়েট, শাবিপ্রবিসহ বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরা মেধাবীরা আবেদন করলেও তাদেরকে নিয়োগ না দিয়ে ভারতের একটি ইনস্টিটিউট থেকে পাস করা তাজবিউল ইসলামকে রহস্যজনক কারণে নিয়োগ দেন তৎকালীন ভিসি ফরিদ উদ্দিন ও প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. কবির হোসেন। নিয়োগে অনিয়েমের অভিযোগ তুলে শুরু থেকেই এই নিয়োগের বিরোধিতা করে আসছে পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এরই অংশ হিসেবে গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে সংবাদ সম্মেলনে ওই শিক্ষকের নিয়োগ বাতিল করা না হলে ২ মার্চের পর কঠোর কর্মসূচি শুরুর হুঁশিয়ারি দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।
জানা গেছে, তাজিবউল ইসলাম যোগদানের এক মাসের মাথায় আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটলে তিনি আর বিভাগে যোগদান করতে পারেননি। কিন্তু যোগদান না করলেও গত দেড় বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেতনভাতা পাচ্ছেন আলোচিত এই ব্যক্তি। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভয়ে প্রবেশও করছেন না তাজবিউল ইসলাম। কর্তৃপক্ষও তার নিয়োগ এখনো বাতিল করেনি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুল পরিমাণ অর্থ নষ্ট হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে ‘যোগ্যতা না থাকা’ সত্ত্বেও তাজবিউল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে ওই বিভাগে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ নিয়োগ বাতিল না হওয়া পর্যন্ত ২ মার্চ পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনেরও ঘোষণা দিয়েছে তারা।
পিএমই বিভাগের প্রধান অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, তাজবিউল ইসলাম ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি-শিবপুর থেকে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন। সেখানে স্নাতকে তার সিজিপিও ৭.৩৫। কিন্তু স্নাতকের সিজিপিএ ৭.৩৫ বাংলাদেশে প্রচলিত পদ্ধতি সিজিপিএ ৪-এ রূপান্তর করলে তা ৩.২১ হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে ন্যূনতম ৩.৫০ সিজিপিএ চাওয়া হয়েছিল। তাজবিউলের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা না থাকলেও তাকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয় এবং পরবর্তীতে নিয়োগ দেওয়া হয়।
এদিকে নিয়োগের দেড় বছর পর চাকরিতে যোগদানে বিরত রাখায় তাজবিউল চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি হাইকোর্টে রিট করেন। সে রিট খারিজের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আপিল করেছে। এ রিট খারিজের আপিল আগামী ২ মার্চ চেম্বার আদালতে শুনানি হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানায় শিক্ষার্থীরা। তাজবিউল ইসলামের নিয়োগ বাতিলের দাবিতে এর আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। এ ক্লাস পরীক্ষা বর্জন আগামী ২ মার্চ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। চেম্বার আদালতের রায়ের উপর নির্ভর করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবে তারা।
সংবাদ সম্মেলনে পিমএমই বিভাগের শিক্ষার্থী মুহয়ী শারদ বলেন, তাজবিউল ইসলাম নিয়োগ বহাল রাখার জন্য হাইকোর্টে রিট করেছেন। রিটের বিপরীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আপিল দায়ের করার কথা থাকলেও তা এখনো হয়নি। নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক তাজবিউল ইসলামের সকল কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে এই অবৈধ নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছি, কিন্তু কোনো ফলাফল দেখতে পাইনি। তিনি বলেন, আগামী সোমবার (২ মার্চ) এ রিটের শুনানি হবে। যদি এ নিয়োগ বাতিলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের যদি সদিচ্ছার কোনো ঘাটতি দেখি, তাহলে আমরা কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হব। একই সঙ্গে যদি হাইকোর্ট পর্যন্ত যাওয়া লাগে, আমরা তাও যাব।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সাজেদুল করিম বলেন, রিট খারিজের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে জানতে তাজবিউল ইসলামকে মোবাইল ফোনে একাধিক ফোন দিলেও তিনি ধরেননি।





