জকিগঞ্জে বৈধ পাম্পের আড়ালে অবৈধ এলপিজি কার্যক্রম
প্রকাশিত হয়েছে : ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ৮:৫৬:২১ অপরাহ্ন
এখলাছুর রহমান, জকিগঞ্জ : জকিগঞ্জ উপজেলা এলাকায় বৈধ গ্যাস (এলপিজি) পাম্পগুলোর কার্যক্রম ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, অনুমোদিত পাম্পগুলো লাইসেন্স অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি অবৈধভাবে সিলিন্ডারে গ্যাস ভরার কাজ করছে, যা প্রচলিত বিধিমালার পরিপন্থী। ফলে একদিকে বৈধ ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে জননিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলপিজি পাম্প থেকে সরাসরি সিলিন্ডারে গ্যাস রিফিলিং করা নিয়মবহির্ভূত হলেও অনেক পাম্প মালিক এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে তারা অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন করছেন এবং বাজারে অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হচ্ছে। বৈধ সিলিন্ডার ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, তারা কোম্পানির নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় গ্যাস সরবরাহ করলেও পাম্প থেকে সরাসরি গ্যাস ভরার কারণে তাদের বিক্রি কমে যাচ্ছে এবং তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
ক্রেতাসাধারণের একটি অংশ জানান, তুলনামূলক কম দামের কারণে অনেকেই এসব পাম্প থেকে সিলিন্ডার ভরছেন। তবে তারা স্বীকার করেন, এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, পাম্প থেকে সরাসরি সিলিন্ডারে গ্যাস ভরার প্রক্রিয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং সামান্য অসতর্কতায় অগ্নিকাণ্ড বা বিস্ফোরণের মতো ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এদিকে, পার্শ্ববর্তী বিয়ানীবাজার উপজেলায় এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশাসন ইতোমধ্যে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সেখানে জ্বালানি মজুত ও বিতরণ কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগে ‘ফারশিদ এলপিজি ফিলিং স্টেশন’-কে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত ২০ এপ্রিল দুপুরে উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের কনকলস এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে হাবিবা মজুমদার। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে প্রতিষ্ঠানটিতে সরকারি নিয়ম না মেনে সিলিন্ডারে গ্যাস ভরার সত্যতা পাওয়া যায়। পরে তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। অভিযানে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশের একটি দলও সহযোগিতা করে। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং কোনো প্রতিষ্ঠানই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।
এ বিষয়ে সিলেট জেলা এলপিজি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটর অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জুবের আহমদ চৌধুরী খোকন বলেন, এলপিজি পাম্প থেকে সরাসরি সিলিন্ডারে গ্যাস ভরা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এতে শুধু বৈধ ডিস্ট্রিবিউটররা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন না, বরং যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি, যাতে বাজারে শৃঙ্খলা ফিরে আসে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
অন্যদিকে জকিগঞ্জে একই ধরনের অভিযোগ থাকলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো কঠোর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এ বিষয়ে জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান বলেন, জকিগঞ্জ উপজেলায় দু’টি বৈধ পাম্প থাকলেও সেগুলোর বাইরে যদি কোনো অনিয়ম বা বিধিবহির্ভূত কার্যক্রম ঘটে, সেটিও আইনগতভাবে অপরাধ। আমরা এদের দমনে অচিরেই কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি।
সার্বিকভাবে দেখা যাচ্ছে, বৈধ পাম্পের আড়ালে অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনার ফলে জকিগঞ্জে একদিকে বৈধ ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের জীবনও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। বিয়ানীবাজারের মতো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে সকল উপজেলায় নজরদারি জোরদার ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।






