জালালাবাদ ই-পেপার
সিলেট, | | |
logo
  • আজকের পত্রিকা
    • প্রথম পাতা
    • শেষ পাতা
    • সম্পাদকীয়
    • উপসম্পাদকীয়
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • সিলেট
    • সুনামগঞ্জ
    • মৌলভীবাজার
    • হবিগঞ্জ
  • প্রবাস
  • মুক্তমত
  • সংগঠন সংবাদ
  • খেলাধুলা
  • পর্যটন
  • সাহিত্য
  • অন্যান্য
    • এক্সক্লুসিভ
    • সপ্তডিঙা
    • নারী সমাজ
    • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
    • স্বাস্থ্য
    • আলোকিত জীবন
    • ফিচার
    • স্মরণ
  • প্রথম পাতা
  • শেষ পাতা
  • সিলেট
  • সুনামগঞ্জ
  • মৌলভীবাজার
  • হবিগঞ্জ
  • সম্পাদকীয়
  • উপসম্পাদকীয়
  • এক্সক্লুসিভ
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • সংগঠন সংবাদ
  • প্রবাস
  • মুক্তমত
  • সাহিত্য
  • খেলাধুলা
  • পর্যটন
  • সপ্তডিঙা
  • নারী সমাজ
  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  • স্বাস্থ্য
  • স্মরণ
  1. প্রচ্ছদ
  2. আলোকিত জীবন

উস্তাদ মাওলানা ফরিদ উদ্দীন চৌধুরী : জনবান্ধব এক বুজুর্গ আলেম


প্রকাশিত হয়েছে : ০৮ জুলাই ২০২৬, ৬:২৬:৪৯ অপরাহ্ন

মাওলানা সাদিক সিকানদার: 

অধ্যক্ষ মাওলানা ফরিদ উদ্দীন চৌধুরী (রহ.) সিলেট অঞ্চলের ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের কাছে একজন ধর্মীয় ও আদর্শিক উস্তাদে পরিণত হয়েছিলেন। তাঁর ইলম ও আখলাকের প্রভাবে বহু মানুষ দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যুক্ত হয়েছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান সাহেবের আবেগঘন শোকবার্তায় বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়। আমীরে জামায়াত লিখেন- “যৌবনে হাতে গোনা যে দু-চারজন আল্লাহর বান্দাহকে দেখে দ্বীনি আন্দোলনের পথে হাঁটা শিখেছিলাম, মাওলানা ফরিদ উদ্দীন চৌধুরী রাহিমাহুল্লাহ তাঁদের অন্যতম। ছাত্রজীবন থেকেই তাঁকে দ্বীনি উস্তাদ হিসেবে পাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল।”
শুধু ডা. শফিকুর রহমানই নন, সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলায় জামায়াতের সাংগঠনিক ভিত্তি যারা গড়ে তোলেছেন তাদের প্রায় সকলের কাছেই তিনি ছিলেন অগ্রপথিক ও উস্তাদতূল্য ব্যক্তিত্ব।
দ্বীনের ব্যাপারে তাঁর গভীর জ্ঞান, দূরদৃষ্টি, সাংগঠনিক যোগ্যতা এবং সর্বোপরি দাঈ ইলাল্লাহ হিসেবে তিনি এই অঞ্চলের সর্বস্তরের ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের কাছে এক অনুকরণীয় মহান ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছিলেন। তিনি শুধু আদর্শিক উস্তাদই নন, শ্রেণিকক্ষেও উস্তাদ ছিলেন; শিক্ষকতা করেছেন। সিলেট অঞ্চলে মাওলানা ফরিদ উদ্দীন চৌধুরী (রহ.)-এর হাত ধরে বিপুল সংখ্যক মাদ্রাসা, স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যেগুলোর সুনাম সিলেটের সীমানা ছাপিয়ে জাতীয় পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে অসংখ্য আলেম-উলামা, মুফতি, মুহাদ্দিস, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী, বিচারক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, আমলা, বুদ্ধিজীবী ও উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছেন। তিনি তাঁর হাতেগড়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে যে অবস্থান ও মানে রেখে গেছেন, সেখান থেকে যুগযুগান্তর তাঁর ভাবশিষ্যরা জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হয়ে বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়বে, ইনশাআল্লাহ।
উস্তাদ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী ১৯৪৭ সালের ২৫ ডিসেম্বর সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের তালবাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন মাওলানা আব্দুল হক চৌধুরী। তিনি সিলেট আলিয়া মাদরাসা থেকে ১৯৫৯ সালে দাখিল, ১৯৬৩ সালে আলিম, ১৯৬৫ সালে ফাজিল এবং ১৯৬৭ সালে কামিল পাস করেন। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে সিলেট এমসি কলেজ থেকে বিএ পাস করেন। একই কলেজে তিনি বাংলায় অনার্স পড়েন।
কর্মজীবনের শুরুতে তিনি সিলেট নগরীর মিরাবাজারস্থ হজরত শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন। সিলেটের শীর্ষস্থানীয় এই প্রতিষ্ঠানটি জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানের গৌরব অর্জন করেছিল। সিলেট বিভাগের সর্ববৃহৎ ও জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কৃত প্রতিষ্ঠান শাহজালাল (রহ.) জামেয়া ইসলামিয়া কামিল মাদরাসার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও রেক্টর ছিলেন। সিলেট নগরীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আল-আমীন জামেয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, জালালাবাদ ইন্টারন্যাশনাল আলিম মাদরাসা ও জালালাবাদ কলেজের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। তিনি সিলেটে একটি বেসরকারি আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ফ্যাসিবাদের রোষানলে না পড়লে এটি এতদিনে স্বগৌরবে দাঁড়িয়ে যেত। তিনি তাঁর গ্রামের বাড়ি কানাইঘাটের তালবাড়ীতে ‘জামেয়া ইসলামিয়া ইউসুফিয়া ফাজিল মাদরাসা’ প্রতিষ্ঠাসহ সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় বিপুল সংখ্যক প্রতিষ্ঠান গড়তে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখেন। ব্যবসায়ী হিসেবেও তাঁর ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। তিনি সিলেটের আল-হামরা ইন্টারন্যাশনাল শপিং সেন্টারের ভাইস চেয়ারম্যান এবং আন-নূর প্রপার্টিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সিলেট-৫ আসনে একাধিকবার নির্বাচন করেন এবং ২০০১ সালে জয়ী হন। তিনি জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এবং সর্বশেষ সিলেট অঞ্চলের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
উস্তাদ ফরিদ উদ্দীন চৌধুরী (রহ.) সিলেটের ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের যেমন আদর্শিক উস্তাদ ছিলেন, তেমনি জামায়াতের রাজনীতি করে কীভাবে জনগণের হৃদয়ে স্থান করে নেওয়া যায়, তার বাস্তব উদাহরণ সৃষ্টি করেছিলেন। তিনি সিলেট বিভাগের একমাত্র দায়িত্বশীল, যিনি জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাঁর আগে বা পরে সিলেট থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে আর কেউ এমপি নির্বাচিত হতে পারেননি।
সিলেট বিভাগে জামায়াতের সাংগঠনিক শক্তি সর্বজনস্বীকৃত হলেও ভোটের রাজনীতিতে জামায়াত বরাবর দুর্বল। এর অন্যতম কারণ হিসেবে এ অঞ্চলের ধর্মীয় মহলের জামায়াতবিরোধী অবস্থানকে চিহ্নিত করা হয়। কওমি-আলিয়া উভয় ধারার আলেমগণ বারো মাস জামায়াতবিরোধী বয়ান, বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকেন। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, জামায়াতবিরোধী ইসলামী রাজনীতির প্রধান প্রধান নেতা ও বুজুর্গদের বাড়ি জকিগঞ্জ-কানাইঘাটে হলেও উস্তাদ ফরিদ উদ্দীন চৌধুরী ভোটের রাজনীতিতে সেখানেই বাজিমাত করেছেন।
১৯৮৬ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনে উস্তাদ ফরিদ উদ্দীন চৌধুরীর সঙ্গে প্রার্থী হতেন বিরোধী ধারার শীর্ষ উলামায়ে কেরাম, যারা জামায়াতকে নিয়ে সোচ্চার থাকতেন। কিন্তু সব বিরোধিতার মোকাবিলা করে উস্তাদ ফরিদ উদ্দীন চৌধুরীর দাঁড়িপাল্লা প্রতিবারই উল্লেখযোগ্য ও সম্মানজনক ভোট পেত। তাঁর জীবনের সবচেয়ে জটিল নির্বাচন ছিল ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে ফুলতলী মসলকের সর্বজ্যেষ্ঠ আলেম শায়খুল হাদিস আল্লামা হাবিবুর রহমান (রহ.) এবং কওমি অঙ্গনের শীর্ষ আলেম ও সাবেক এমপি মাওলানা ওবায়দুল হক (রহ.) প্রার্থী ছিলেন। ফলাফলে দেখা যায়, তিনি মাওলানা ওবায়দুল হক (রহ.)-এর চেয়ে প্রায় তিন গুণ এবং আল্লামা হাবিবুর রহমান (রহ.)-এর চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ বেশি ভোট পেয়েছিলেন।
এই নির্বাচনে রেডিও ও টেলিভিশন প্রথমে তাঁকে বিজয়ী ঘোষণা করলেও পরবর্তীতে মাত্র ১,৩৬০ ভোটের ব্যবধানে নৌকার প্রার্থী হাফিজ আহমদ মজুমদার সাহেবকে বিজয়ী দেখানো হয়। মানুষের বদ্ধমূল ধারণা, ওই নির্বাচনে উস্তাদ ফরিদ উদ্দীন চৌধুরীই বিজয়ী ছিলেন। ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি জয়লাভ করেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে পরাজিত হলেও ৭৮,০৬১ ভোট পেয়ে তিনি দ্বিতীয় হয়েছিলেন।
২০১৭ সালে ওসমানীনগর উপজেলার রাউৎখাই গ্রামের জামায়াত নেতা জাকারিয়া চৌধুরীর পিতা মরহুম হাফিজ খালিসুর রহমান চৌধুরী সাহেবের জানাজায় উস্তাদ অংশগ্রহণ করেন। সেই জানাজার সফরে আমি তাঁর সফরসঙ্গী হই। দীর্ঘদিন থেকে আমার জানার ইচ্ছা ছিল, কানাইঘাট-জকিগঞ্জের মতো বিরোধী আলেমদের ঘাঁটিতে তিনি কীভাবে এমপি হয়েছিলেন? বিনয়ের সাথে জানতে চাইলাম- জনাব, এই অসম্ভবকে কিভাবে সম্ভব করলেন?
কয়েক মিনিট নীরব থেকে তিনি বললেন, “আল্লাহর দয়া ছাড়া আমার কোনো কৃতিত্ব নেই। তবুও যদি বলি, তাহলে এভাবে বলতে পারি- নবিজি (সা.)-এর একটি হাদিসের আমলই আমার ভোটের রাজনীতিতে সফলতার প্রধান কারণ।”
তিনি বুখারি-মুসলিমের একটি হাদিসের শেষাংশ পড়লেন, যার অর্থ হলো, “পরিচিত-অপরিচিত সবাইকে সালাম দেবে।” এরপর বললেন, “এই সালামই আমার মূল পুঁজি ছিল।” বললেন- “এলাকার কারো বিয়ে-শাদী কিংবা জানাজার খবর পেলে শরিক হতাম, অসুখ বিসুখের খবর পেলে দেখতে যেতাম। আশির দশকে শহর থেকে জকিগঞ্জ-কানাইঘাট যাওয়া খুবই কষ্টসাধ্য ছিল। তবুও যেতাম, মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করতাম। চেনা-অচেনা সবাইকে সালাম দিতাম। যখন যে এলাকায় যেতাম, সে এলাকার জামে মসজিদে সালাত আদায় করতাম। সালাত শেষে ছোট-বড় সবাইকে সালাম দিতাম।” অতঃপর বললেন- “১৯৮৬ থেকে ১৯৯৬ নিয়মিত এলাকায় যেতাম, বাড়ী বাড়ী যেতাম অনেক চেনা মানুষ তখন সালামের জবাব দিতেন না, মুখের ওপর কেউ কেউ কটু কথা বলতেন, তীব্র ভাষায় সমালোচনা করতেন, যুক্তিগ্রাহ্য ভাষায় উত্তর দেয়ার চেষ্টা করতাম, কখনো আবার নীরবে শুধু শুনে যেতাম। মনের ভেতরে কখনো কষ্ট অনুভব করলে দ্বীন কায়েমের আন্দোলনের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করে সব ভুলে যেতাম।
বললেন- “১৯৯৬ সালে যখন অন্যায়ভাবে আমার বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হলো, তারপর থেকে পুরো দৃশ্য বদলে গেল। এবার আমার প্রতি মানুষের দরদ বেড়ে গেল। কোনো গ্রাম বা বাজারে গেলে মানুষ জড়ো হয়ে যেত, সান্ত্বনা দিত, জড়িয়ে ধরত। বুঝতাম, মজলুমের চোখের পানি আল্লাহর দরবারে মঞ্জুরি পেয়েছে।” তিনি বললেন- “১৯৯৬ সালের ১২ জুন আমার নিশ্চিত বিজয় ছিনিয়ে নেওয়ার পর আমাদের সংগঠনের জনশক্তি ও এলাকার সর্বস্তরের মানুষের চোখের পানি আল্লাহর আরশ ছুঁয়েছে।”
উস্তাদ ফরিদ উদ্দীন চৌধুরী (রহ.) নিজ এলাকার মানুষের বাহিরের জনশক্তির সুখে-দুঃখে শরিক হতেন। সিলেটের খ্যাতিমান মুফাসসিরে কুরআন মাওলানা আবু তায়্যিব সৎপুরী (রহ.)-এর জানাজায় তাঁকে দেখে হাজারো মানুষ কান্নায় ভেঙে পড়ে। কারণ সে সময় তিনি মারাত্মক অসুস্থ ছিলেন এবং দীর্ঘদিন আইসিইউতে ছিলেন। তবুও তিনি তার দ্বীনি ভাইয়ের জানাজায় শরিক হয়েছিলেন। আমার (সাদিক সিকানদার) বিয়ের অনুষ্ঠানে তিনি আসলেন। বললেন- “আজ আমরা দামান্দের সঙ্গে বসে খাব।” অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, মাওলানা হাবিবুর রহমান এবং মরহুম আজিজুর রশিদ চৌধুরী বাবুল (রহ.)-কে নিয়ে আমার সঙ্গে বসলেন, খেলেন। আমি খুব প্রীত অনুভব করলাম। আমার স্বজনরা সম্মানিত বোধ করলেন। সেই দৃশ্য যখন মনে পড়ে, তখন অনুভব করি, তিনি তাঁর এলাকার মানুষের সঙ্গে হয়তো আরো গভীরভাবে মিশে যেতেন এবং তাঁদের হৃদয়কে আন্দোলিত করতে পারতেন।
২০১৫ সালে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার খালপার গ্রামের আব্দুল গাফফার বাবুল (রহ.)-এর লাশ নিয়ে তিনি কবরে নামতে চাইলেন। কর্দমাক্ত কবর হওয়ায় আমরা তাঁকে না নামার অনুরোধ করলাম। কিন্তু তিনি কবরে নেমে তাঁকে শেষ বিদায় দিলেন। তিনি জীবনের পড়ন্ত সময়ে অসুস্থ শরীর নিয়েও এলাকায় যেতেন, মানুষের সঙ্গে মিশতেন। জামায়াতের রাজনীতিতে তাঁর মতো জনবান্ধব, দায়িত্বশীল নেতা বিরল।
উস্তাদের সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় হয় ২০০৪ সালের রমাদান মাসে। তখন তিনি জাতীয় সংসদ সদস্য। বাদ জোহর পীর মহল্লার বাসায় গিয়ে দেখলাম, তিনি কুরআন তিলাওয়াত করছেন। আমি উস্তাদের একমাত্র পুত্রসন্তান নাজমুস সাকিব চৌধুরীর ব্যাক্তিগত রিপোর্ট দেখতে গিয়েছিলাম। রিপোর্ট দেখলাম, প্রয়োজনীয় আলাপ শেষ করলাম। অন্তত ৪০ মিনিট পর যখন বেরিয়ে আসছিলাম, তখনও তিনি তিলাওয়াত করছিলেন। ইশারায় বসতে বললেন। অন্তত আরও ২০ মিনিট তিলাওয়াত করলেন। অতঃপর আমার সঙ্গে কথা বললেন; বাড়িঘর, পড়াশোনাসহ সব বিষয়ে খোঁজ নিলেন। সে সময়ে আমি বহুবার উস্তাদের বাসায় গিয়েছি। প্রায়ই দেখতাম, তিনি কুরআন তিলাওয়াত করছেন বা কিতাব ঘাঁটাঘাঁটি করছেন। উস্তাদ ফরিদ উদ্দীন চৌধুরীর কাছে গেলে মনে হতো, তিনি একজন নেতা, দায়িত্বশীল ও বুজুর্গ ব্যক্তি।
২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে বিএনপি ড. কামাল হোসেনকে নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র ২০-দলীয় জোটের সঙ্গেও তাদের আসন-সমঝোতা হয়। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর আসন-সমঝোতায় জামায়াতকে ২৫টি আসন ছেড়ে দেয় বিএনপি। ২৮ নভেম্বরের দৈনিক প্রথম আলোসহ গুরুত্বপূর্ণ পত্রপত্রিকায় সেই তালিকা প্রকাশিত হয়। আসন-সমঝোতার মাধ্যমে সিলেট-৫ আসনে মাওলানা ফরিদ উদ্দীন চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। নির্বাচনের মাত্র ২২ দিন আগে, ৮ ডিসেম্বর ২০১৮ ইংরেজি, বিএনপি একতরফা সিদ্ধান্তে জামায়াতের ২৫টি আসন থেকে আরও তিনটি কমিয়ে দেয়। সিলেট-৫ মাওলানা ফরিদ উদ্দীন চৌধুরী, সিলেট-৬ মাওলানা হাবিবুর রহমান এবং সাতক্ষীরা-৩ মুহাদ্দিস রবিউল বাশার এই তিনজনের মনোনয়ন প্রত্যাহার করা হয়।
সারা দেশে এর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে সিলেট-৫ আসন নিয়ে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। কারণ সাবেক এমপি মাওলানা ফরিদ উদ্দীন চৌধুরীকে বাদ দিয়ে এমন একজনকে প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়া হয়, যিনি পূর্ববর্তী নির্বাচনে মাত্র ৮,৯৪৬ ভোট পেয়েছিলেন, যা ওই নির্বাচনে মাওলানা ফরিদ উদ্দীন চৌধুরীর প্রাপ্ত ভোটের প্রায় দশ ভাগের এক ভাগ। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বিএনপির মহাসচিবের সঙ্গে দেখা করেন। পত্রপত্রিকার ভাষ্যমতে, রাতভর দরকষাকষি হলেও বিএনপি অনড়ই রয়ে গেল। অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দীন চৌধুরী ও মাওলানা হাবিবুর রহমানের বিষয়টি পুরো সিলেটের জনশক্তিকে ব্যথিত করে। আমি উস্তাদের সঙ্গে দেখা করার জন্য সময় চাইলাম। তিনি বললেন, আল হামরার অফিসে যেতে। সেখানে গিয়ে দেখি, উস্তাদ ধবধবে সাদা পাঞ্জাবি পরে ফুরফুরে মেজাজে বসে আছেন। আমি তাঁর ভিডিও বক্তব্য নিতে চাইলাম। তিনি বললেন, “আমার কোনো বক্তব্য নেই। কেন্দ্রীয় সংগঠন যা বলেছে, সেটাই আমার বক্তব্য।” তিনি ১৯৮৬ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত সিলেট-৫ আসন থেকে নির্বাচন করেছেন। জয়-পরাজয় দুটোই পেয়েছেন। তিনি বললেন- “কখনোই আমি আমার নিজের ইচ্ছায় নির্বাচন করিনি, কাজেই আমার ব্যক্তিগত ক্ষোভ অভিমান অসন্তোষ কিছুই নাই।” সত্যিকার অর্থেই তিনি ছিলেন একজন নির্মোহ, আনুগত্যশীল মুখলেস বান্দাহ।
২০২২ সালের ৫ নভেম্বর লন্ডনপ্রবাসী দায়িত্বশীল মাওলানা আসআদ আহমদ, মাওলানা মাহমুদুর রহমান দেলোয়ারসহ আমরা ক’জন উস্তাদের বাসায় তাঁকে দেখতে গিয়েছিলাম। ওই দিন অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জোবায়ের ভাইও তাঁকে দেখতে এসেছিলেন। আরেকজনের কাঁধে হাত রেখে তিনি আমাদের কাছে আসলেন। একদম জোবায়ের ভাইয়ের কাছে গিয়ে বসলেন। দেশ ও সংগঠনের খোঁজ নিলেন। মরণব্যাধি ক্যান্সার যার শরীরে বাসা বেঁধেছে, তিনি তাঁর নিজের ব্যাপারে কোনো উদ্বেগ দেখালেন না। তাঁর যাবতীয় উদ্বেগ ছিল দেশ ও ইসলামী আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নিয়ে। কারণ তখন ফ্যাসিবাদের জুলুমে পুরো দেশ অতিষ্ঠ।
সেদিন আমি তাঁর বর্ণাঢ্য জীবনের ওপর একটি ভিডিও বায়োগ্রাফি করার জন্য সময় চাইলাম, কিছুই বললেন না। ক’দিন পর নাজমুস সাকিব চৌধুরীকে ফোন দিয়ে তাগিদ দিলাম। সাকিব জানালেন, উস্তাদের সম্মতি নেই।
আরও ক’দিনপর হঠাৎ উস্তাদের নম্বর থেকে আমার মোবাইলে ফোন এলো। আমার শ্বশুর আব্দুল গাফফার বাবুল (রহ.)-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা থাকায় তিনি আমাকে স্নেহ করে ‘দামান্দ’ বলে সম্বোধন করতেন। তিনি তাঁর সেই স্নেহমাখা ভাষায় সম্বোধন করে বললেন, “আমাকে নিয়ে সময় নষ্ট না করে তোমরা আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর জীবনাদর্শ বেশি বেশি প্রচার করো। এই প্রজন্মের সামনে রাসুলের জীবনাদর্শ যত বেশি প্রচার করবে, এই প্রজন্ম এই দেশ তত বেশি আলোকিত হবে।”
ইন্তেকালের পর উস্তাদের তেমন কোনো ভালো ছবি বা ভিডিও খুঁজে পেলাম না। বুঝলাম প্রচারবিমুখ এই বুজুর্গ আলেম জীবনভর দ্বীন প্রচার ও প্রতিষ্ঠার কাজ করেছেন। নিজের প্রচার প্রতিষ্ঠাকে যথাসাধ্য নিয়ন্ত্রিত রেখে গেছেন। ১৩ জুন, ২০২৬ ইংরেজি উস্তাদ মাওলানা ফরিদ উদ্দীন চৌধুরীর দুনিয়ার সফর সমাপ্ত হয়েছে। আল্লাহ তাঁকে জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করুন। আমীন।

লেখক: মুফাসসিরে কুরআন।

আলোকিত জীবন এর আরও খবর
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তিত্বের তালিকা প্রকাশ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তিত্বের তালিকা প্রকাশ

একটি রক্তাক্ত শুক্রবার

একটি রক্তাক্ত শুক্রবার

প্রেরণার বাতিঘর: অধ্যক্ষ মাওলানা ফরীদ উদ্দিন চৌধুরী (রহ.)

প্রেরণার বাতিঘর: অধ্যক্ষ মাওলানা ফরীদ উদ্দিন চৌধুরী (রহ.)

সর্বশেষ সংবাদ
আন্তর্জাতিক বিজয়ী হাফেজ হীরাকে যুবদলের সংবর্ধনা
আন্তর্জাতিক বিজয়ী হাফেজ হীরাকে যুবদলের সংবর্ধনা
ড. মুমিনুল হক অ্যাওয়ার্ড পেলেন কবি আবদুল হাই
ড. মুমিনুল হক অ্যাওয়ার্ড পেলেন কবি আবদুল হাই
জিডিএফের সংবর্ধনা পেলেন নিহার রঞ্জন
জিডিএফের সংবর্ধনা পেলেন নিহার রঞ্জন
বড়লেখায় সাংবাদিক কাজী রমিজ উদ্দিনের মাতৃবিয়োগ
বড়লেখায় সাংবাদিক কাজী রমিজ উদ্দিনের মাতৃবিয়োগ
মালয়েশিয়া থেকে ১৬ বাংলাদেশিসহ ২৭ বন্দিকে প্রত্যাবাসন
মালয়েশিয়া থেকে ১৬ বাংলাদেশিসহ ২৭ বন্দিকে প্রত্যাবাসন
পুলিশ ক্যাম্প আর ভূমি অফিসের পাশে চলছে টিলা কেটে মাটি বিক্রি
পুলিশ ক্যাম্প আর ভূমি অফিসের পাশে চলছে টিলা কেটে মাটি বিক্রি
হবিগঞ্জে ৫৫ বিজিবির ৪৮ কেজি গাঁজাসহ আটক ১
হবিগঞ্জে ৫৫ বিজিবির ৪৮ কেজি গাঁজাসহ আটক ১
সীমান্তে সাড়ে ১৯ বিজিবির ২৩ লাখ টাকার চোরাইপণ্য জব্দ
সীমান্তে সাড়ে ১৯ বিজিবির ২৩ লাখ টাকার চোরাইপণ্য জব্দ
সিলেটে হামে আরেক শিশুর মৃত্যু
সিলেটে হামে আরেক শিশুর মৃত্যু
সিলেটে ডেঙ্গুতে এবার শিশুর মৃত্যু
সিলেটে ডেঙ্গুতে এবার শিশুর মৃত্যু
এসএমপির ২৪ ঘন্টার অভিযানে গ্রেফতার ৫৭
এসএমপির ২৪ ঘন্টার অভিযানে গ্রেফতার ৫৭
এসআরবির অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র বিস্ফোরক সাউন্ড গ্রেনেড উদ্ধার
এসআরবির অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র বিস্ফোরক সাউন্ড গ্রেনেড উদ্ধার
সিলেটে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট ঘিরে এসএমপির নিরাপত্তা সমন্বয় সভা
সিলেটে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট ঘিরে এসএমপির নিরাপত্তা সমন্বয় সভা
এসএমপির মিনি ম্যারাথন প্রতিযোগিতা সম্পন্ন
এসএমপির মিনি ম্যারাথন প্রতিযোগিতা সম্পন্ন
জৈন্তায় কলেজের পাশ থেকে মরদেহ উদ্ধার
জৈন্তায় কলেজের পাশ থেকে মরদেহ উদ্ধার
© 2019 dailyjalalabad.com
All Rights Reserved

সম্পাদক: মুকতাবিস উন নূর

কার্যালয়: কুদরত উল্লাহ মসজিদ কমপ্লেক্স (৩য় তলা) বন্দরবাজার, সিলেট
ফোন : 8802996634163, মোবাইল: বার্তা-01711-173428,
বিজ্ঞাপন : 01712-991855, সার্কুলেশন : 01686934010

Editor
Muqtabis Un Noor
Qudratullah Mosque Complex
Bondorbazar, Sylhet-3100.

ইমেইল ::
বার্তা : dailyjbad@gmail.com
বিজ্ঞাপন : jalalabadad@gmail.com
সাহিত্য : jalalabadshahitta@gmail.com
নারী পাতা : jalalabadnari@gmail.com
পর্যটন পাতা : Jalalabadtourism@gmail.com
ধর্মীয় পাতা : alokitojibonjb@gmail.com

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh

Facebook
Go to top