টানা পাঁচ মাস ৫ শতাংশের নিচে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি
প্রকাশিত হয়েছে : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭:০২:৫৬ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক : চলতি বছরের জুলাইয়ে বেসরকারি খাতে ব্যাংক ঋণের প্রবৃদ্ধি সামান্য বেড়ে ৪ দশমিক ৬২ শতাংশ হয়েছে। জুনে এ হার ছিল ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ, যা ছিল এ যাবৎকালের সর্বনিম্ন। তবে জুলাইয়ে কিছুটা বাড়লেও টানা পাঁচ মাস ধরে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের নিচে রয়েছে।
ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, নির্বাচনের পর দেশে নতুন ব্যবসা ও বিনিয়োগ বাড়বে এবং এর ফলে বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদাও বাড়বে এমন প্রত্যাশা ছিল। তবে নির্বাচনের পর ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ায় জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ৬ দশমিক ৮০ শতাংশ। সে হিসাবে জুলাই পর্যন্ত ঋণ প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অনেকটাই কম। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল ৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ। এপ্রিলে ছিল ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং মার্চে ৪ দশমিক ৭২ শতাংশ।
মার্চের ৪ দশমিক ৭২ শতাংশ তখন পর্যন্ত সর্বনিম্ন ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল। পরে জুনে তা আরও কমে ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশে নেমে নতুন সর্বনিম্ন রেকর্ড হয়। জুলাইয়ে সামান্য বাড়লেও ঋণ প্রবৃদ্ধি টানা পঞ্চম মাসের মতো ৫ শতাংশের নিচে রয়ে গেছে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) মহাপরিচালক ড. মো. এজাজুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনের পর বেসরকারি খাতে ব্যাংক ঋণ বাড়বে বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকট তীব্র হওয়ায় ব্যবসায়ীরা নতুন বিনিয়োগে যাচ্ছেন না। তবে আশা করা যায়, সামনের মাসগুলোতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ধীরে ধীরে কিছুটা বাড়বে।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, বেসরকারি খাতে ব্যাংক ঋণ তখনই বাড়ে, যখন এর চাহিদা থাকে। বর্তমানে ব্যবসায়ীদের নতুন ব্যবসা বা বিনিয়োগের তেমন পরিকল্পনা নেই। এর প্রধান কারণ জ্বালানি সংকট। গ্যাস ও তেলের তীব্র সংকটের মধ্যে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না। এটিই এখন বড় বাধা।






