আশ্রয়প্রার্থীদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে শুরু করেছে মালয়েশিয়া
প্রকাশিত হয়েছে : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭:৪১:৫৭ অপরাহ্ন
মালয়েশিয়া প্রতিনিধি: মিয়ানমারের প্রায় দেড় হাজার নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে মালয়েশিয়া। মঙ্গলবার শুরু হওয়া ‘অপস পিয়ার ১.০’-এর প্রথম ধাপে ১ হাজার ৪৭৬ জনকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। দুই দেশের সমঝোতার আওতায় ধাপে ধাপে মোট ৫ হাজার মিয়ানমার নাগরিককে প্রত্যাবাসনের পরিকল্পনা রয়েছে।
মালয়েশিয়া সরকারের ভাষ্য, পুরো প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া স্বেচ্ছামূলক, নিরাপদ ও দায়িত্বশীলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তবে মিয়ানমারে চলমান সংঘাতের মধ্যে ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) ও বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন।
মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (কেডিএন) উপ-মহাসচিব (নীতি ও নিয়ন্ত্রণ) দাতুক মাখজান মাহিউদ্দিন জানান, দেশটির ১৪টি ইমিগ্রেশন আটককেন্দ্র থেকে প্রথম ধাপের ১ হাজার ৪৭৬ জনকে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৩৭০ জন পুরুষ, ৭৯ জন নারী, ২০ জন ছেলে ও ৭ জন মেয়ে। তাদের বয়স ৮ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে।
আটকদের বহনকারী ৪৬টি বাস ভোর ৪টা থেকে পর্যায়ক্রমে মানজুং মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিল স্টেডিয়ামে পৌঁছায়। সেখানে পরিচয় ও নথিপত্র যাচাই শেষে তাদের লুমুতের রয়্যাল মালয়েশিয়ান নেভি (টিএলডিএম) ঘাঁটিতে নেওয়া হয়।
লুমুত নৌঘাঁটির কেডি ইন্দেরা সাকতিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মাখজান মাহিউদ্দিন বলেন, মিয়ানমার সরকার এসব নাগরিককে শনাক্ত করে গত ১৩ আগস্ট কূটনৈতিক নোটের মাধ্যমে তাদের তালিকা মালয়েশিয়ার কাছে পাঠায়। নাগরিকত্ব যাচাই, প্রয়োজনীয় নথিপত্র, নিজ দেশে গ্রহণ এবং প্রত্যাবাসনের পদ্ধতি নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট দেশের সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, মালয়েশিয়া ও মিয়ানমার সরকারের মধ্যে আলোচনা এবং প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে ধাপে ধাপে ৫ হাজার মিয়ানমার নাগরিককে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, কর্মসূচিটি মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে পারস্পরিকভাবে সম্মত পদ্ধতি অনুসরণ করে স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও দায়িত্বশীলভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
প্রথম ধাপের অভিযান সমন্বয় করছে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও রয়্যাল মালয়েশিয়ান নেভি সহযোগিতা করছে। প্রধান অপারেশনাল সংস্থা হিসেবে কাজ করছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ।
ইমিগ্রেশন বিভাগ পরিচয় ও নথিপত্র যাচাই, নিরাপত্তা এবং লজিস্টিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করছে। যাদের কাছে পরিচয়পত্র ছিল না, তাদের নাগরিকত্ব ইমিগ্রেশন বিভাগ, মিয়ানমার দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে যাচাই করেছে। পরে তাদের প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি দেওয়া হয়। প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমার নৌবাহিনীর তিনটি জাহাজ পাঠিয়েছে। এর মধ্যে ইউএমএস মোয়াত্তামা প্রধান জাহাজ হিসেবে প্রত্যাবাসনকারী ব্যক্তিদের বহন করছে। ইউএমএস কিং সিন ফিউ শিন রয়েছে এসকর্ট জাহাজ হিসেবে এবং ইউএমএস থানলউইনকে হাসপাতাল জাহাজ হিসেবে রাখা হয়েছে।
মিয়ানমারের জাহাজগুলোকে মালয়েশিয়ার নৌবাহিনীর কেডি লেকির ও কেডি তেগুহ সামুদ্রা মালয়েশিয়ার জলসীমার নির্ধারিত পয়েন্ট পর্যন্ত পাহারা দেবে। পাশাপাশি মালয়েশিয়ান মেরিটাইম এনফোর্সমেন্ট এজেন্সি (এপিএমএম) ও মেরিন পুলিশের টহল নৌযান এবং হেলিকপ্টারের মাধ্যমে নজরদারি থাকবে।
ইউআইটিএমের যুদ্ধ মনস্তত্ত্ব বিশেষজ্ঞ ও নিরাপত্তা-রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. নূর নিরওয়ান্দি মাত নূরদিন বলেন, এ সমঝোতা আন্তঃসীমান্ত সমস্যা মোকাবিলায় কূটনৈতিক পথ ব্যবহারের সক্ষমতা তুলে ধরেছে। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে আঞ্চলিক সমস্যার আঞ্চলিক সমাধানে আসিয়ান দেশগুলোর ভূমিকারও প্রতিফলন ঘটেছে। অপস পিয়ার ১.০ শেষ হওয়ার পর ইমিগ্রেশন বিভাগ পুরো কার্যক্রমের ফলাফল যাচাই করবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নথিপত্র, নিরাপত্তা, লজিস্টিক এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়গুলো মূল্যায়ন করবে।





