নীরবে খুলল মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার
প্রকাশিত হয়েছে : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯:০৩:২২ অপরাহ্ন
* আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই ২৮ বাংলাদেশি কর্মীর চাহিদাপত্র সত্যায়ন
আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া : কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই কার্যত আবারও খুলতে শুরু করেছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। সোমবার মালয়েশিয়ার সুপরিচিত সুপারমার্কেট চেইন এনএসকে ট্রেড সিটির চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ২৮ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের চাহিদাপত্র সত্যায়ন করেছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। বিষয়টি হাইকমিশন ও বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সি গুডনেস সার্ভিসেস লিমিটেড (আরএল-২০৬৮) নিশ্চিত করেছে।
এই চাহিদাপত্র সত্যায়নের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম কার্যত শুরু হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। তবে এখনো দুই দেশের পক্ষ থেকে নতুন করে শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী প্রবেশের সুযোগ ২০২৪ সালের ৩১ মে বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে কর্মী নিয়োগে অনিয়ম, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। পরে দুই দেশের কূটনৈতিক তৎপরতা ও ধারাবাহিক আলোচনার পর শ্রমবাজার পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
আগস্টে বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছিল, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে মালয়েশিয়া বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার কর্মী ‘জিরো কস্টে’ নেওয়ার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
শ্রমবাজার কার্যত চালু হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলেও কর্মী পাঠানোর পূর্ণাঙ্গ প্রক্রিয়া, সম্ভাব্য ব্যয় এবং নিয়োগের ধাপ নিয়ে এখনো নানা প্রশ্ন রয়েছে। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত সরকারি পর্যায়েও নিয়োগব্যবস্থার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় চূড়ান্ত না হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল।
এদিকে, মালয়েশিয়া থেকে কর্মী নিয়োগের সুযোগ তৈরি হওয়ার খবরে চাকরিপ্রত্যাশীদের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে। তবে তথ্যের ঘাটতির সুযোগে দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীদের তৎপরতা বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এর আগে সরকার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত পাসপোর্ট জমা, মেডিকেল পরীক্ষা কিংবা কোনো ধরনের অর্থ লেনদেন না করার জন্য সতর্ক করেছিল।
মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে অতীতে নির্ধারিত ব্যয়ের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি অর্থ নেওয়ার অভিযোগ ছিল। ২০২২-২৪ সালের নিয়োগপর্বে সরকারি নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয়ের তুলনায় কর্মীদের কাছ থেকে অনেক বেশি অর্থ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এবারও নতুন করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শ্রমবাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, নিয়োগের শুরুতেই সরকার নির্ধারিত ব্যয়, কর্মী নির্বাচনের পদ্ধতি এবং রিক্রুটিং এজেন্সির দায়িত্ব স্পষ্ট করা জরুরি। অন্যথায় মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
নতুন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকারি ডাটাবেজ ও নির্ধারিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, যোগ্য কর্মীদের সরকারি ডাটাবেজ থেকে নির্বাচন করা গেলে দালালনির্ভরতা ও অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় কমানো সম্ভব।
মালয়েশিয়ার নতুন নিয়োগব্যবস্থায় বাংলাদেশ থেকে ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সি সরাসরি নির্বাচিত হয়েছে এবং আরও ৩১২টি এজেন্সিকে সহযোগী হিসেবে যুক্ত করার কথা জানানো হয়েছে। তবে এসব এজেন্সি কীভাবে চাহিদাপত্র প্রক্রিয়াকরণ ও কর্মী পাঠাবে, তা নিয়ে এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে, মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে নিয়োগ-সংক্রান্ত ব্যয় ছাড়াই পাঠানোর যে উদ্যোগের কথা সরকার জানিয়েছে, তার বাস্তবায়নের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন চাকরিপ্রত্যাশীরা। সরকারি ব্যবস্থায় স্বল্প বা বিনা খরচে কর্মী পাঠানো নিশ্চিত করা গেলে দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর প্রক্রিয়ায় এবার স্বচ্ছতা, অভিবাসন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং কর্মীদের নিরাপত্তাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার দাবি উঠেছে। অতীতের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি ঠেকিয়ে নিয়মতান্ত্রিক ও নিরাপদ প্রক্রিয়ায় কর্মী পাঠানো সম্ভব হবে কি না, সেটিই এখন চাকরিপ্রত্যাশীদের প্রধান উদ্বেগ।






