শীর্ষ ঋণগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ ৪৫তম
প্রকাশিত হয়েছে : ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৫৬:৫৫ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক: বিশ্ব অর্থনীতিতে ঋণের পাহাড় ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই বিশ্বজুড়ে সরকারি, বেসরকারি ও ব্যক্তিগত ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ১০ ট্রিলিয়ন ডলার। সব মিলিয়ে বৈশ্বিক ঋণ এখন ৩৬৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি। ঋণের পরিমাণে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আর বৈশ্বিক তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৪৫তম।
বিপুল ঋণের পাশাপাশি বাড়ছে সুদ পরিশোধের চাপও। এর প্রভাব পড়ছে বিভিন্ন দেশের সরকারি ব্যয়ে। ঋণের সুদ মেটাতে অর্থের বড় অংশ চলে যাওয়ায় শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, অবকাঠামো ও পেনশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যয় ধরে রাখা কঠিন হয়ে উঠছে।
ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, কম মজুরি, আবাসন সংকট এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অর্থের ঘাটতি নিয়ে মানুষের ক্ষোভও বাড়ছে। ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ইতালি ও পর্তুগালে এসব ইস্যুতে বিক্ষোভ হয়েছে। কোথাও কোথাও বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে।
ঋণের ক্রমবর্ধমান চাপ ইউরোপের অর্থনীতির পাশাপাশি সরকারগুলোর আর্থিক ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। দীর্ঘদিন ধরে ঋণ নিয়ে ব্যয় চালানোর পর এখন অনেক দেশকে ঋণের সুদ পরিশোধের জন্য বাড়তি অর্থ জোগাড় করতে হচ্ছে। ফ্রান্সে ঋণ নেয়ার ব্যয় ২০০২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক বিশ্লেষণে বৈশ্বিক ঋণের আকার, সরকারগুলোর অর্থ সংগ্রহের পদ্ধতি এবং ঋণ পরিশোধের ক্রমবর্ধমান চাপ তুলে ধরা হয়েছে।
সরকারি ঋণের মোট পরিমাণের হিসাবে বিশ্বে সবার ওপরে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির সরকারি ঋণ ৪১.৪ ট্রিলিয়ন ডলার, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১২৭ শতাংশের সমান।
বিশ্বের প্রধান রিজার্ভ মুদ্রা মার্কিন ডলারে ঋণ নেয়ার সুযোগ যুক্তরাষ্ট্রকে বিশেষ সুবিধা দেয়। দেশটির সরকারি বন্ডের প্রতি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের চাহিদাও রয়েছে। তবে এ সুবিধা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ নেয়ার সক্ষমতা যে সীমাহীন, তা নয়।
তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে চীন। দেশটির সরকারি ঋণের পরিমাণ ২২.৫ ট্রিলিয়ন ডলার, যা জিডিপির ১০৪ শতাংশ।
তৃতীয় অবস্থানে থাকা জাপানের সরকারি ঋণ ৮.৭ ট্রিলিয়ন ডলার। বড় অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে জাপানের ঋণ-জিডিপি অনুপাত সবচেয়ে বেশিÑ১৯৯ শতাংশ।
যুক্তরাজ্যের সরকারি ঋণ ৪.৪ ট্রিলিয়ন ডলার, যা দেশটির জিডিপির ১০২ শতাংশ। এরপর রয়েছে ফ্রান্স। দেশটির সরকারি ঋণের পরিমাণ ৪.২ ট্রিলিয়ন ডলার, যা জিডিপির ১১৮.৫ শতাংশ।
এ ছাড়া ইতালির সরকারি ঋণ ৩.৭ ট্রিলিয়ন ডলার। দেশটির জিডিপির তুলনায় ঋণের অনুপাত ১৩৮ শতাংশ। অন্যদিকে জার্মানির সরকারি ঋণ ৩.৫ ট্রিলিয়ন ডলার হলেও দেশটির জিডিপির মাত্র ৬৫ শতাংশের সমান।
এদিকে, বৈশ্বিক ঋণের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৪৫তম। প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট ঋণের পরিমাণ ২০৪.৯ বিলিয়ন ডলার। ২০১০ সালে এই পরিমাণ ছিল ৪০.৯ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ দেড় দশকে দেশের ঋণ বেড়েছে প্রায় পাঁচ গুণ। তবে ঋণের মোট পরিমাণের পাশাপাশি অর্থনীতির আকারের সঙ্গে তার তুলনাও গুরুত্বপূর্ণ। এই হিসাবে বাংলাদেশের ঋণ-জিডিপি অনুপাত প্রায় ৪০ শতাংশ, যা তালিকার অনেক উন্নত অর্থনীতির দেশের তুলনায় কম।বাংলাদেশ সংবাদ
ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সের (আইআইএফ) হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বৈশ্বিক ঋণ ১০ ট্রিলিয়ন ডলার বেড়েছে। এর ফলে মোট ঋণের পরিমাণ ৩৬৫ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এই হিসাবের মধ্যে সরকার, ব্যক্তি ও করপোরেট খাতের ঋণ অন্তর্ভুক্ত। মাথাপিছু হিসাবে এই ঋণের পরিমাণ প্রায় ৪৪ হাজার ডলার।
ঋণের এই বিশাল বোঝার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সুদ পরিশোধের ব্যয়। গত এক বছরে উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোকে সরকারি বন্ডের সুদ বাবদ ৩.৩ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি পরিশোধ করতে হয়েছে।
ব্যয়ের এই পরিমাণ সামরিক খাতে বৈশ্বিক ব্যয়Ñ৩.১ ট্রিলিয়ন ডলারÑএবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে ব্যয় হওয়া ২.৬ ট্রিলিয়ন ডলারের চেয়েও বেশি। পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতে ২.৩ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয়ের তুলনায়ও ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় অনেক বড়।
এত বিপুল অর্থ সুদ হিসেবে চলে যাওয়ায় সরকারগুলোর উন্নয়ন ও জনসেবামূলক কর্মসূচিতে অর্থ জোগানোর সুযোগ সীমিত হতে পারে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কোনো সরকারকে কর বাড়াতে হতে পারে, আবার কোনো সরকারকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য বা অন্যান্য খাতে ব্যয় কমানোর পথ বেছে নিতে হতে পারে।





