সিলেটে আইন কমিশনের সেমিনার
প্রকাশিত হয়েছে : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ৯:০০:৪৩ অপরাহ্ন

সিলেটে আইন কমিশনের আয়োজনে রোববার ‘ফৌজদারী অপরাধে দন্ডিত ব্যক্তির মৃত্যুর পর দন্ডিতের পক্ষে আপিলের অধিকার এবং ‘দ্য কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিজিওর ১৮৯৮’ এর প্রয়োজনীয় সংশোধনী’ শীর্ষক দিনব্যাপী এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কমিশন চেয়ারম্যান বিচারপতি জিনাত আরা’র সভাপতিত্বে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সম্মেলন কক্ষে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইন কমিশনের গবেষণা কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোছাম্মৎ মনিরা সুলতানা। বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা করেন কমিশনের মূখ্য গবেষণা কর্মকর্তা ও জেলা ও দায়রা জজ শাহরিয়ার আরাফাত, আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন আইন কমিশনের সচিব ও সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ ফারুক হোসেন।
সেমিনারে সিলেটের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বিজিবি, এসআরবি ও আইন ও বিচার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ এবং সিলেট প্রেসক্লাব সভাপতি উপস্থিত ছিলেন।
সমাপনি বক্তব্যে বিচারপতি বলেন, ফৌজদারী অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার পক্ষে আপিল চালু রাখা বা করার অধিকার এই সংক্রান্ত আইনি সীমাবদ্ধতা দূর করতে ‘দ্য কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিজিওর ১৮৯৮’ (ফৌজদারি কার্যবিধি)-এর সংশোধনী একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মানবিক আইনি ইস্যু।
বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনীত ফৌজদারি অভিযোগ বা তার দণ্ড কেবল ব্যক্তিগত দায় হিসেবে গণ্য হয়। তবে রায়ের পর ব্যক্তির মৃত্যুর পরেও তার সামাজিক সম্মান এবং উত্তরসূরিদের ওপর এর আর্থিক বা মানসিক প্রভাব থেকে যায়।
১৮৯৮ সালের ঔপনিবেশিক আমলের ফৌজদারি কার্যবিধি মূলত শাস্তিকেন্দ্রিক ছিল। কিন্তু আধুনিক বিচারব্যবস্থায় নাগরিকের সম্মান ও মানবাধিকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার পরিবারের পক্ষে আপিল করার অধিকার দিয়ে সিআরপিসি-তে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হলে তা বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে একটি প্রগতিশীল ও মানবিক মাইলফলক হিসেবে গণ্য হবে।






