আম্বরখানার যানজট নিরসনে মেগা প্রকল্পের উদ্যোগ সিউকের
প্রকাশিত হয়েছে : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ৯:০৫:০২ অপরাহ্ন
এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের আদলে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রস্তাব

সিলেট নগরীর অন্যতম ব্যস্ততম এলাকা আম্বরখানার দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনে সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি মেগা প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিউক)। শুধু সাময়িকভাবে যানজট নিয়ন্ত্রণ নয়, আম্বরখানাকে পরিকল্পিত, আধুনিক ও চলাচলবান্ধব এলাকায় রূপান্তরের লক্ষ্যে একটি বাস্তবসম্মত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে রোববার সকালে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সম্মেলনকক্ষে সুধীজন, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আম্বরখানার যানজট নিরসনে সম্ভাব্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ফুটপাত দখলমুক্তকরণ, যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। তিনি বলেন, সিলেটকে আধুনিক, আকর্ষণীয় ও দৃষ্টিনন্দন পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সিউক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আম্বরখানা পয়েন্ট সিলেটের যোগাযোগব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এ এলাকার যানজট নিরসনে একটি টেকসই ও আধুনিক প্রকল্প গ্রহণের লক্ষ্যে স্থাপত্য বিশেষজ্ঞ, ট্রাফিক বিভাগ ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সুনির্দিষ্ট মতামত এবং প্রস্তাবনার ভিত্তিতে বাস্তবসম্মত মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা হবে। তিনি আরও বলেন, এ প্রকল্প সফল করতে ব্যবসায়ী, সুশীল সমাজ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সভায় বিশেষভাবে আলোচনায় আসে চট্টগ্রামের লালখান বাজার থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত নির্মিত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের আদলে সিলেট নগরীতে কোনো প্রকল্প গ্রহণের সম্ভাবনা যাচাইয়ের বিষয়টি।
সিউকের নির্বাহী পরিচালক মো. সাদিউর রহিম জাদিদ বলেন, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে এ ধরনের মেগা প্রকল্প গ্রহণ করা সম্ভব কি না, তা বিবেচনা করা যেতে পারে। এ বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার প্রস্তাব দেন তিনি।
সভায় যানজট নিয়ন্ত্রণে বিকল্প প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনাগত প্রস্তাবও উঠে আসে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (ডিডি এলজি) মাহমুদা সুলতানা রাজধানী ঢাকার আদলে সিলেট নগরীর মার্কেটগুলোর সাপ্তাহিক ছুটির দিন সমন্বয়ের প্রস্তাব দেন। তাঁর মতে, একদিন একটি মার্কেট এবং পরদিন অন্য একটি মার্কেট বন্ধ রাখার ব্যবস্থা চালু করা হলে ব্যবসায়িক কার্যক্রম সচল রাখার পাশাপাশি নগরীর যানজট নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
অন্যদিকে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) গৌতম দেব যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, বাস ও রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি এসব যানবাহনের জন্য নির্দিষ্ট চলাচল এলাকা ও নিয়মনীতি কার্যকর করা জরুরি। পরিকল্পিতভাবে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা গেলে নগরীর যানজট অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
সভায় জানানো হয়, আম্বরখানার যানজট নিরসনে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, ট্রাফিক বিভাগ, ব্যবসায়ী সমিতি, পরিবহন সমিতি, মসজিদ কমিটি এবং এলাকার অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা করা হবে। তাঁদের মতামতের ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।
মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের লক্ষ্যে স্থপতি ও নগর পরিকল্পনাবিদ জেরিনা হোসাইনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরেজমিনে আম্বরখানা এলাকা পরিদর্শন করে যানবাহনের চাপ, সড়কের ব্যবহার, বাস্তব পরিস্থিতি এবং বিদ্যমান অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২৩-এর আলোকে পরিবেশ ও প্রতিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে পর্যটনবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিকল্পিত মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করা গেলে আম্বরখানার দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনের পাশাপাশি সিলেট নগরীর সামগ্রিক যোগাযোগব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। বিজ্ঞপ্তি





