৩ হাজার ৭২৩ কুকুরকে জলাতঙ্কের টিকাদান
প্রকাশিত হয়েছে : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ৯:১৫:০৮ অপরাহ্ন

বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব ও জলাতঙ্কের ঝুঁকি মোকাবিলায় সিলেট নগরীতে ৩ হাজার ৭২৩টি বেওয়ারিশ ও মালিকানাধীন কুকুরকে জলাতঙ্কের প্রতিষেধক টিকা দিয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। নগরীর ৪২টি ওয়ার্ডে পরিচালিত গণটিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে এ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ হাজার কুকুর।
একসময় বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রবে সিলেট নগরীর মানুষের স্বাভাবিক চলাফেরা ছিল আতঙ্ক ও উদ্বেগের বিষয়। বিশেষ করে ভোরে ও রাতে চলাচলকারী পথচারী এবং বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীদের প্রায়ই ভোগান্তিতে পড়তে হতো। এ সমস্যা সমাধানে নগরবাসীর অনেকে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর কাছে প্রতিকার চেয়ে আবেদন জানান।
তবে বিদ্যমান প্রাণিকল্যাণ আইন অনুযায়ী কুকুর নিধন ও প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ছাড়া এ বিষয়ে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে। ফলে জনদুর্ভোগ নিরসনের পাশাপাশি প্রাণীর সুরক্ষা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কুকুর নিধনের পরিবর্তে গণটিকাদান কর্মসূচি গ্রহণ করে নগর কর্তৃপক্ষ।
সিসিক ও সিলেট জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে গত ১২ অক্টোবর মাস ডগ ভ্যাকসিনেশন (এমডিভি) কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। এরপর নগরীর ৪২টি ওয়ার্ডে ধাপে ধাপে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
টিকাদান কার্যক্রম শেষে প্রতিটি কুকুরকে গোলাপি রং দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। সিসিক সূত্র জানায়, এর মাধ্যমে কোন এলাকায় কতটি কুকুরকে টিকা দেওয়া হয়েছে, তা সহজে শনাক্ত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি কোনো কুকুর টিকাদানের আওতার বাইরে রয়েছে কি না, তা চিহ্নিত করতেও এ ব্যবস্থা সহায়ক হবে। ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমেও এ তথ্য কাজে লাগবে।
এ বিষয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, নগরীর যেখানে-সেখানে উচ্ছিষ্ট বা পরিত্যক্ত খাবার ফেলে রাখা হয়। বিশেষ করে বর্জ্য অপসারণের ঠিক আগের মুহূর্তে খাবারের সন্ধানে সেখানে বেওয়ারিশ কুকুরের আনাগোনা বেশি দেখা যায়। বাসাবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশেও তাদের বিচরণ লক্ষ করা যায়। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে জনস্বার্থ ও নাগরিক নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে গণটিকাদানের এ বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, জলাতঙ্কসহ বিভিন্ন রোগ থেকে নগরবাসীকে সুরক্ষা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। সেই দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে কুকুরের টিকাদান কর্মসূচি ছিল অত্যন্ত সময়োপযোগী। এ উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হওয়ায় সিলেট নগরীতে জলাতঙ্কের ঝুঁকি অনেকাংশে কমবে। বিজ্ঞপ্তি





