ঐতিহাসিক রায়ে হাসিনার ফাঁসি
প্রকাশিত হয়েছে : ১৮ নভেম্বর ২০২৫, ১২:৩৫:২৫ অপরাহ্ন

বহুল প্রতীক্ষিত শেখ হাসিনার মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষিত হয়েছে। খুনি হাসিনা ও তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়েছে। গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল দেশব্যাপী টান টান উত্তেজনার মধ্যে এই ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেন। মূলতঃ জুলাই-আগস্টের আন্দোলনকারীদের ব্যাপক ও পদ্ধতিগত হত্যাকান্ডের মূল হোতা ও নির্দেশদাতা হিসেবে শেখ হাসিনাকে এই সর্বোচ্চ দন্ড প্রদান করা হয়েছে। একইভাবে এই অপরাধ বাস্তবায়নে মূখ্য ভূমিকা পালনকারী হিসেবে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও একই দন্ড দেয়া হয়েছে। এই সাজা প্রদানের মাধ্যমে জুলাই বিপ্লবের শহীদদের পরিবার ও আহত পঙ্গু আন্দোলনকারীদের মনে অনেকখানি শান্তি ও স্বস্তি সৃষ্টি হয়েছে। অবশ্য তারা বলেছেন, শুধু মৃত্যুদন্ডের রায় দিলেই হবে না, এটা কার্যকর করতে হবে। আর এই রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত তারা সন্তুষ্ট হবে না। খুবই সংগত এই দাবি। খুনি হাসিনা এখন পলাতক অবস্থায় ভারতে অবস্থান করছেন। শুরু থেকেই ভারত তাকে সব ধরনের সহায়তায় দিয়ে যাচ্ছে। হাসিনার শাসনামলে তার কৃত খুন গুম লুটপাটসহ সব ধরনের কাজে এই দুর্বৃত্ত প্রতিবেশী দেশটি তাকে ও তার সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতা করেছে। আর এখন হাসিনার খুন গুমসহ সকল অপরাধের জন্য তাকে প্রদত্ত সকল শাস্তি থেকে তাকে রক্ষার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে ভারত, এটা প্রায় নিশ্চিত। দুনিয়ার কোন দেশ, সরকার কিংবা কোন মানবাধিকার সংস্থা বা সংগঠন হাসিনার পক্ষে নেই। কারণ জাতিসংঘসহ বিশ্বের সকল সংস্থা ও সংগঠন এবং বিবেকবান ও সচেতন মানুষ মাত্রেই হাসিনার খুন গুম, লুটপাট সর্বোপরি তার নৃশংসতা ও নিষ্ঠুরতা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। তাই জেনেশুনে তারা এই পিশাচ ও খুনির পক্ষাবলম্বন করেনি। বলা যায়, সবাই চেয়েছে তার সুষ্ঠু বিচার ও শাস্তি। আর শেষ পর্যন্ত তাই হয়েছে।
হাসিনার গণহত্যা এবং খুন গুম ও অন্যান্য মানবতাবিরোধী সকল অপরাধের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই রায় যেমন যুগান্তকারী তেমনি বিচার জগতে একটি সুষ্পষ্ট মাইলফলক। এই রায়ের ফলে এদেশে ভবিষ্যতে হাসিনার মতো আর কোন খুনী স্বৈরাচারী ও একনায়ক শাসক জন্ম নেবে না, এমনটি আশা করা যায়। নিদেনপক্ষে কেউ এমনটি হওয়ার আগে দশবার চিন্তা করবে, এমন অভিমত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
একটি আইনানুগ সুশৃংখল সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে এই মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিগত সরকারগুলোর শাসনামলে বিশেষভাবে গত দেড় দশকের শাসনামলে প্রশাসন ও বিচার বিভাগ তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারেনি। সীমাহীন দায় মুক্তি, আইনের প্রতি অবহেলা ও বিচার বিভাগকে কুক্ষীগতকরণের ফলে আইনের শাসন তলানীতে গিয়ে ঠেকেছিলো। সেই দুর্ভাগ্যজনক করুণ অবস্থা থেকে ওঠে আসা ও ঘুরে দাঁড়ানোর ভিত্তি হতে পারে এই যুগান্তকারী ন্যায়নিষ্ঠ ও সুষ্ঠু মামলার রায়। ভারত, শেখ হাসিনা ও তার দোসররা যতোই সমালোচনা ও নিন্দাবাদ করুক আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই বিচার পদ্ধতি সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক মানের, যা নিয়ে কোন দোষারোপ বা প্রশ্ন তোলার অবকাশ নেই। অবকাশ নেই এজন্য যে, এই আদালত পুনর্গঠনে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ ক্যাডম্যানের মতো ব্যক্তি সহযোগিতা করেছেন। আর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এর নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে সম্ভব সব কিছু করেছেন।
আমরা চাই, খুনি অপরাধী হাসিনা ও তার সহযোগী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদন্ড যথাসময়ে কার্যকর হোক, যা এদেশের সিংহভাগ মানুষের একান্ত প্রত্যাশা ও জোরালো দাবি। একই সঙ্গে এই যুগান্তকারী ঐতিহাসিক মামলার রায় এদেশের আইন ও বিচারের জগতে একটি স্পষ্ট মাইল ফলক ও বাতিঘর হয়ে থাকুক ন্যায় ও সুবিচারের সপক্ষে, এমন প্রত্যাশা আমাদের।



