খালেদা জিয়া স্মরণে নাগরিক শোকসভা
প্রকাশিত হয়েছে : ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:২০:১৩ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক : বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে নাগরিক শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বেলা আড়াইটায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এই সভা শুরু হয়।
খালেদা জিয়ার শোকসভায় যোগ দেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তাঁর স্ত্রী জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান, খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শামিলা রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা। এছাড়া খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত এই নাগরিক শোকসভায় যোগ দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, গবেষক, চিকিৎসক, শিক্ষক, ধর্মীয় প্রতিনিধি, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি ও বিভিন্ন পেশাজীবী নেতারা।
শোকসভা ঘিরে নিরাপত্তায় বলয় তৈরি করে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), কোস্টগার্ড, আনসারসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এর পাশাপাশি নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা।
শোকসভায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেন, বেগম খালেদা জিয়া যখন বন্দী ছিলেন, অসুস্থ ছিলেন তখন তার পক্ষে কথা বলার কেউই ছিলেন না। তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা খালেদা জিয়াকে সবার কাছে পৌঁছে দিয়েছে, আর আরেকজনকে বিতাড়িত করেছে। বাংলাদেশকে ভালো থাকতে হলে খালেদা জিয়াকে ইন্টারালাইজড করতে হবে।
লেখক ও গবেষক অধ্যাপক ড. মাহবুবউল্লাহ বলেন, এই জনপদের মানুষ তাকে মনে রাখবে তার ত্যাগ, সততা, অত্যাচার সহ্য করার অপরিসীম ক্ষমতাসহ নানা গুণের কারণে। তার দেয়া মন্ত্রগুলো ধারণ করলে তার দল এবং দেশ রক্ষা পাবে, অন্যথায় পাবে না। তার মৃত্যুতে সময় এবং আগামীর মৃত্যু হয়নি, বরং খালেদা জিয়া এবং তার আদর্শই হবে আগামীর বাংলাদেশের চালিকাশক্তি।
বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা-সংক্রান্ত বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) নথিপত্র জব্দের দাবি জানিয়েছেন তার চিকিৎসকদলের প্রধান অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। এই বিষয়ে আইনগতভাবে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির মাধ্যমে ম্যাডামের চিকিৎসা জনিত অবহেলার তিনটি বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন এই চিকিৎসক। বিষয় তিনটি হলো, সরকার গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্য কারা ছিলেন এবং কোন দক্ষতার ভিত্তিতে তারা ম্যাডামের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার দায় তাদের ওপর বর্তায় কিনা। ভর্তিকালে কোন কোন চিকিৎসক উনার চিকিৎসার সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং চিকিৎসায় অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায় কিনা। মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা চলাকালে ম্যাডাম আইনজীবীর মাধ্যমে তার তিনি বলেন, ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছিলেন, তখন কী কারণে সেটি হয়নি বা কারা বাধা দিয়েছিল।
আমার দেশ-এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ও সংগ্রামের পতাকা আজ তারেক রহমানের হাতে ন্যস্ত হয়েছে। এটি যেমন গর্বের বিষয়, তেমনি এক গভীর দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জেরও বিষয়। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের গত ৫৫ বছরের ইতিহাসে মাত্র দুইজন নেতা-নেত্রী জন্মেছেন, যাদের সমতুল্য হওয়া কঠিন। আর তারা যদি পিতা-মাতা হন, তাহলে সেই সন্তানদের জন্য দায়িত্ব আরো অনেক বেশি কঠিন হয়ে ওঠে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় গত ৩০ ডিসেম্বর ইন্তেকাল করেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এর পরদিন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে জিয়া উদ্যানে দাফন করা হয়।





