সিলেট বিভাগে ভোটের মাঠে ৫ বিদ্রোহী চ্যালেঞ্জের মুখে বিএনপি ও জোটের প্রার্থীরা
প্রকাশিত হয়েছে : ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:০৫:১৬ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা। মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছেন সিলেট বিভাগের ১৯ টি আসনের মধ্যে ৫টি আসনের শরীক ও বিএনপির দলীয় প্রার্থীরা। বহিস্কারের পরও দলের বিরাট একটা অংশ বিদ্রোহীদের পক্ষে মাঠে থাকায় নিজ দল ও জোটের শরীক প্রার্থীরা রয়েছেন ভরাঢুবির শঙ্কায়।
বৃহস্পতিবার সিলেটে বিএনপির সমাবেশে তাদের ব্যাপারে বিশেষ কোন বার্তা কিংবা হুশিয়ারী না থাকায় শঙ্কিত ৫টি আসনের প্রার্থীরা। যদিও বুধবার তারেক রহমানের সিলেট সফরের সময় ৫ বিদ্রোহী প্রার্থীকে দল থেকে বহিস্কার করেছে বিএনপি। তবে তারা মাঠে থাকায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছেন দল ও জোটের প্রার্থীরা।
জানা গেছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিলো মঙ্গলবার। এদিন সিলেট বিভাগের ১৯ টি আসনে মোট ২৬ জন প্রার্থী এদিন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া বিএনপির ৫ বিদ্রোহী শেষ দিনেও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। ফলে শেষ পর্যন্ত ভোটের লড়াইয়ে থাকছেন তারা।
সিলেট বিভাগে বিএনপির ৫ বিদ্রোহী প্রার্থী হলেন- সিলেট-৫ আসনে জেলা বিএনপির সদ্য বহিস্কৃত সহ-সভাপতি মামুনুর রশীদ (চাকসু মামুন), হবিগঞ্জ-১ আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি শেখ সুজাত, মৌলভীবাজার-৪ আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও শ্রীমঙ্গল পৌরসভার সাবেক মেয়র মহসিন মিয়া মধু, সুনামগঞ্জ-৩ আসনে জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন এবং সুনামগঞ্জ-৪ জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন। বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে এই পাঁচ আসনে বিএনপি ও তাদের জোটের প্রার্থীদের বিপাকে পড়তে হতে পারে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
সিলেট-৫ : সিলেট জেলার মধ্যে একমাত্র বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মামুনুর রশীদ। যিনি চাকসু মামুন নামে পরিচিত। তিনি সিলেট-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় মামুনকে দল থেকে বহিস্কারও করা হয়েছে। এই আসনটি জোটসঙ্গী জমিয়ত উলামায়ে ইসলামকে ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। এখানে প্রার্থী হয়েছেন জমিয়তের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক। আসনটিতে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী চাকসু মামুন শক্তিশালী থাকায় এবং জামায়াত জোট থেকে কওমী আলেম খেলাফত মজলিস নেতা মুফতী আবুল হাসানকে মনোনয়ন দেয়ায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন বিএনপি জোট মনোনীত প্রার্থী মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক।
সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ) আসনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য কয়ছর এম আহমদ। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন। ইতোমধ্যে শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেনের শক্তিশালী অবস্থান তৈরী হয়েছে। তাঁর সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিএনপির একটি পক্ষ কাজ করায় বিপাকে পড়েছেন বিএনপির প্রার্থী কয়ছর এম আহমদ। আসনটিতে জামায়াত জোট থেকে প্রার্থীতা উন্মুক্ত থাকায় মাঠে লড়ছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী এডভোকেট মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী, খেলাফত মজলিসের হাফেজ মোস্তাক আহমদ ও এবি পার্টির সৈয়দ তালহা আলম। শেষ সময়ে প্রার্থীতা জামায়াত প্রার্থী এডভোকেট ইয়াসীন খান মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় এই আসনে মূল লড়াইয়ে অবতীর্ণ হচ্ছেন বিএনপি প্রার্থী কয়ছর এম আহমদ ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন।
সুনামগঞ্জ-৪ (সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাড. নুরুল ইসলাম নুরুল। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন। আসনটিতে জামায়াত জোটের প্রার্থী হিসেবে জামায়াতের একক প্রার্থী এডভোকেট শামসুদ্দিন আহমদ। বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন ধানের শীষের প্রার্থী এডভোকেট নুরুল।
মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনে বিএনপি নেতা শ্রীমঙ্গল পৌরসভার চেয়ারম্যান মো. মহসিন মিয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হাজী মুজিবুর রহমান চৌধুরী।
হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া। এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত মিয়া। আসনটিতে বিদ্রোহী প্রার্থী মোকাবেলা করতে হচ্ছে ধানের শীষের প্রার্থী রেজা কিবরিয়াকে। এই আসনে জামায়াত জোট থেকে একক প্রার্থী রয়েছেন খেলাফত মজলিসের সিরাজুল ইসলাম মীরপুরী। বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন ধানের শীষের রেজা কিবরিয়া।
এ ব্যাপারে বিএনপির সিলেট বিভাগীয় একাধিক নেতা বলেন, দলের সকল নেতাকর্মীরা দল ও জোটের প্রার্থীর পক্ষে মাঠে রয়েছেন। বিদ্রোহীদের পক্ষে দলের কোন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা না থাকায় তারা বিশেষ সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। ভোটের সময় যত ঘনিয়ে আসবে ততই দল ও জোটের প্রার্থীরা এগিয়ে যাবেন।





