বড়লেখায় বিজিবি সদস্যদের হুমকি-ধমকি দিয়ে ভারতীয় মহিষের চালান পাচার
প্রকাশিত হয়েছে : ০৪ মার্চ ২০২৬, ৮:১৫:৪৯ অপরাহ্ন
বড়লেখা প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের বড়লেখায় বিজিবির টহলদলের সদস্যদের মব সৃষ্টি করে অপদস্থের অপচেষ্টা ও হুমকি-ধমকি দিয়ে রাস্তা বদলিয়ে বড় একটি ভারতীয় অবৈধ মহিষের চালান নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠেছে এলাকার চিহ্নিত ভারতীয় গরু-মহিষ ও মাদক পাচারকারি চক্রের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার ভোররাতে বড়লেখা পৌরশহরের পাখিয়ালা চৌরাস্তা পয়েন্টে এই ঘটনাটি ঘটেছে।
বিজিবি বিওসি টিলা বিওপি ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোরে সীমান্তবর্তী বিওসি কেছরীগুল এলাকা থেকে ভারতীয় অবৈধ মহিষের একটি বড় চালান পাচারের গোপন সংবাদ পায় বিজিবি বিওসি টিলা ক্যাম্প। এর প্রেক্ষিতে হাবিলদার আলভার্ট সাংবার নেতৃত্বে ৬ সদস্যের টহলদল ডিমাইবাজার ও বড়লেখা পৌরশহরের পাখিয়ালা চৌমুহনী এলাকায় নজরদারি চালায়। ভোররাত সাড়ে পাঁচটার দিকে পাখিয়ালা পয়েন্টে সাব্বির নামক ১৬/১৭ বছরের এক কিশোরকে মোটরসাইকেলে বসে সন্দেহজনক আচরণ করতে দেখে বিজিবি তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। সন্তোষজনক জবাব না দেওয়ায় তার হাতে থাকা মোবাইল ফোন যাচাই করে কেছরীগুল এলাকার এক চিহ্নিত চোরাকারবারির নম্বর পাওয়ায় বিজিবি নিশ্চিত হয় সে পাচারকারি চক্রের সোর্স। পরে বিজিবির জেরায় সে কেছরীগুলের শরফ উদ্দিন নবাবের ভাতিজা বলে জানায়। এরমধ্যে তার চাচা শরফ উদ্দিন নবাব ২০/২৫ জন লোক নিয়ে ওই ছেলের মোবাইল নেওয়া ও যাচাই নিয়ে বিজিবির সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়েন, আঙ্গুল উচিয়ে হুমকি-ধমকি ও মব সৃষ্টির মাধ্যমে টহল দলের প্রধান হাবিলদার আলভার্ট সাম্বাকে অপদস্থ ও হেনস্থার অপচেষ্টা চালান। প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় সূত্র জানায়, বিজিবির টহলদলকে সুকৌশলে ব্যস্ত ও ভীতসন্ত্রস্ত করে রোড পরিবর্তন করে অবৈধ মহিষের চালান নিয়ে গেছে পাচারকারি চক্র।
বিজিবি বিওসি টিলার হাবিলদার আলভার্ট সাংবা জানান, মহিষ পাচারের গোপন সংবাদে ৬ সদস্যের টহলদল নিয়ে তিনি ভোর পাঁচটার দিকে ডিমাই বাজার, কেছরীগুল ও বড়লেখা পাখিয়ালা চৌরাস্তা পয়েন্ট পর্যন্ত টহল দিচ্ছিলেন। কেছরীগুল এলাকার দশম শ্রেণি পড়ুয়া এক ছাত্র মোটরসাইকেল নিয়ে বসে ফোনে কথা বলতে দেখে সন্দেহ করেন। মোবাইল চেকিংয়ে দেখা যায় সে একজন পাচারকারির সাথে কথা বলেছে। জেরায় বলেছে সে শরফ উদ্দিন নবাবের ভাতিজা এবং তার নাম সাব্বির আহমদ, দশম শ্রেণির ছাত্র। নিশ্চিত হন সে ওই অবৈধ ভাতীয় মহিষ পাচারকারি নবাবের সোর্স এবং মহিষের চালান নবাবেরই। কিছুক্ষণ পর শরফ উদ্দিন নবাব ঘটনাস্থলে পোঁছে বিজিবির সাথে চরম অসদাচরণ, হুমকি-ধমকি ও নানা তকমা লেপনের অপচেষ্টা করেন। পরে মোবাইল ফোন ফেরৎ দিয়ে বিজিবি সদস্যদের নিয়ে তিনি ক্যাম্পে চলে যান। এব্যাপারে বিজিবি-৫২ ব্যাটালিয়ন থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এ ব্যাপারে শরফ উদ্দিন নবাব জানান, বিজিবির কোনো টহল দলের সাথে তার কোনো ধরণের বাক-বিতন্ডা এমনকি দেখা সাক্ষাতও হয়নি। পুরো ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, তিনি অবৈধ কোনো ব্যবসা করেন না, ভারতীয় অবৈধ গরু-মহিষ পাচারের সম্পৃক্ত থাকার প্রশ্নই আসে না।





