বিএনপির রাজনীতি মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা : খাল খনন উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী
প্রকাশিত হয়েছে : ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩:৩৪:৩৪ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি রাজনীতি হচ্ছে দেশের উন্নয়ন ও মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা। আর এই কাজটি দেশের মালিক জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব নয়। সে জন্য তিনি সব সময় জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতায় দেশ এগিয়ে নিয়ে যেতে চান।
গতকাল দিনাজপুরে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের রাজনীতি হচ্ছে কৃষকের উপকার করা, মা-বোনদেরকে স্বাবলম্বী করে তোলা, এলাকার মানুষ, দেশের মানুষ, গ্রামের মানুষ কিভাবে ভালো চিকিৎসা পেতে পারে সেই ব্যবস্থা গড়ে তোলা। আমাদের সন্তানেরা, ভবিষ্যৎ প্রজন্মরা কিভাবে লেখাপড়া করে মানুষ হতে পারে, সেটি হচ্ছে আমাদের রাজনীতি।’
তিনি বলেন, আমাদের রাজনীতি হচ্ছে কী করে মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব, সেটি কৃষিতেই হোক, সেটি শিল্পেই হোক, সেই ব্যবস্থা গড়ে তোলা। কিন্তু এই কাজগুলো যদি করতে হয় আমি কিন্তু একা পারব না। কাকে লাগবে সাথে? জনগণকে সাথে লাগবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনে যেমন আপনারা ধানের শীষের সাথে ছিলেন, যেমন সমর্থন দিয়েছেন, এখনো কিন্তু আপনাদের সমর্থন ছাড়া এই কাজগুলো করতে পারব না। জনগণের সমর্থন ছাড়া দেশ উন্নয়নের কাজ করা সম্ভব নয়। আমরা বিশ্বাস করি জনগণই হচ্ছে আমাদের সব ক্ষমতার উৎস।
অনেকে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে বিভ্রান্ত করতে চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সতর্ক-সজাগ থাকতে হবে। বিভিন্ন রকম কথাবার্তা বলে কারা দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের সজাগ থাকতে হবে। দেশের মালিক জনগণ সাথে থাকলে যে কোন কাজ যেকোনো পরিকল্পনা সফল করতে পারবেন বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, অর্থনৈতিকভাবে এবং রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। সে জন্যই আমি সবসময় একটা কথা বলি, ‘করবো কাজ’, গড়বো দেশ’। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। সবার আগে বাংলাদেশ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে এই খাল কাটা কর্মসূচি, এটিই হোক আমাদের প্রতিজ্ঞা, এটিই হোক আমাদের শপথ। ইনশাআল্লাহ এই খাল খনন কর্মসূচি কতটুক সফল হলো আমি খবর রাখব। আমি যখন শুনব যে এই ১২ কিলোমিটার খাল কমপ্লিট হয়ে গেছে, ইনশাআল্লাহ আমি দেখতে আসব। আবার দেখা হবে আপনাদের সাথে এই খালের পাড়ে ইনশাআল্লাহ। আবার দেখা হবে এই এলাকার মানুষের সাথে।
বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যারা বিএনপি করি, এমন একটি দল করি, যেই দলের কাজ হচ্ছে সেই কাজগুলো করা, যে কাজগুলো করলে মানুষের উপকার হবে। যেই কাজগুলো করলে মানুষ খুশি হবে, আমরা চেষ্টা করি সেই কাজগুলোই করতে। সে কারণেই আজ আনুষ্ঠানিকভাবে খাল পুনর্খননের কাজ শুরু করেছি।
১২ কিলোমিটার এই খাল খননে মানুষের কী কী উপকার হবে, তা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রায় ৩১ হাজার কৃষক এখান থেকে পানি পাবেন। প্রায় ১২০০ হেক্টর জমি সেচসুবিধার মধ্যে আসবে। সাড়ে তিন লাখ মানুষ এই খালের পানির সুবিধা পাবেন, এই খালের পানি বিভিন্নভাবে তারা ব্যবহার করতে পারবেন। শুধু তাই নয়, সবচেয়ে বড় যে বিষয়টি হচ্ছে এই এলাকার কৃষক ভাইয়েরা, এই এলাকার কৃষাণী বোনেরা তারা যে ফসল উৎপাদন করবে, এখন যে ফসল উৎপাদন হচ্ছে তার থেকে প্রায় ৬০ হাজার মেট্রিক টন বেশি হবে।
বাংলাদেশের প্রায় ২০ কোটি মানুষের বেশির ভাগ গ্রাম অঞ্চলে বাস করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের প্রধান পেশা হচ্ছে কৃষি। কৃষি যদি বাঁচে, কৃষক যদি ভালো থাকে, তাহলে বাংলাদেশের মানুষ ভালো থাকবে। সেই জন্যই আমরা বলেছিলাম নির্বাচনে আপনাদের ভোটে আল্লাহর রহমতে বিএনপি জয়যুক্ত হলে পরে সবচেয়ে প্রথম ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ ছিল সুদসহ আমরা মওকুফ করে দিবো। আমরা মওকুফের ব্যবস্থা করেছি।
আগামী পাঁচ বছরে প্রায় বিশ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই খাল খননের মাধ্যমে একদিকে বর্ষার সময় হঠাৎ করে উজান থেকে পানি চলে আসে, নদী খাল সব বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে উজান থেকে যখন হঠাৎ করে পানি আসে, তখন দেখি যে আমরা নদী-খালবিলের আশপাশে যে বাড়িঘর আছে মানুষজনের সেগুলো ভেসে যায়, গরু-ছাগল ভেসে যায়, মানুষের কাপড়-জামা নষ্ট হয়ে যায়। ঘরবাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। এরকম সমস্যা যাতে না হয়, আমরা চাই খাল খননের মাধ্যমে উজানের সময়, বর্ষার সময়ের অতিরিক্ত পানি ধরে রাখব। কারণ উজানের সময় যেই পানিটা আসে, আপনারা প্রত্যেকেই এটার উপরে অভিজ্ঞ, দেখেছেন, সাত দিন-দশ দিন থাকে, তারপর সেই পানির আর খবর নাই। এই পানি যদি ধরে রাখতে পারি, তাহলে শুষ্ক মৌসুমেই হোক, বর্ষা মৌসুমেই হোক, কৃষক ভাইদের যাতে পানি সরবরাহ করতে পারি। যাতে উৎপাদন বাড়াতে পারি।
এ সময় তিনি বলেন, চার কোটি পরিবারের মায়েদের কাছে, আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। সেই কাজটিও কিন্তু আমরা শুরু করেছি। আমি জানি, এই এলাকার কোন মা-বোন এখনো ফ্যামিলি কার্ড পান নাই। তবে এতটুকু বলতে পারি, ইনশাআল্লাহ আপনারা পাবেন, একটু সময় লাগছে কারণ সরকারের কিছু নিয়ম-কানুন আছে। পাইলট প্রজেক্ট প্রথমে শুরু করতে হয়। সেই পাইলট প্রজেক্টের কাজ শুরু করেছি। ইনশাআল্লাহ আপনাদের চিন্তা করার কোনো কারণ নাই, এই এলাকাসহ পুরো দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় সমগ্র এই রংপুর বিভাগের যত মায়েরা আছেন সবার কাছে ধীরে ধীরে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিব।
তিনি বলেন, আগামী মাস থেকে ধীরে ধীরে সব কৃষক ভাইদের কাছে, বিশেষ করে যারা ছোট কৃষক, ক্ষুদ্র প্রান্তিক কৃষক, মধ্যম কৃষক, তাদের কাছে আমরা এই কার্ডগুলো দিব যাতে করে এই কার্ডের মাধ্যমে তারা বিভিন্ন রকম সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেতে পারে।
তারেক রহমান বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে কৃষকের পাশে দাঁড়ানো। বিএনপি, শহীদ জিয়া, খালেদা জিয়া ছিলেন কৃষকদের বন্ধু। আপনাদের নির্বাচিত বর্তমান বিএনপি সরকার হচ্ছে কৃষকের বন্ধু। কৃষক ভালো থাকলে, কৃষাণী ভালো থাকলে এই দেশের মানুষ ভালো থাকবে। কাজেই কৃষক ভাইদের আমরা ভালো রাখতে চাই, কৃষাণী বোনদের আমরা ভালো রাখতে চাই। এই কৃষিকে আমরা শক্তিশালী ভিত্তির উপরে গড়ে তুলতে চাই।
এই এলাকার মানুষের জন্য আরেকটি খবর দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই যে এখানে ইপিজেড আছে দিনাজপুরে, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়ে, এই এলাকায় আর কী কী কৃষিনির্ভর মিল-ইন্ডাস্ট্রি করা যায় যাতে করে এই এলাকার যারা বেকার যুবক আছে, বোনেরা আছে, তাদের যাতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়। সেই উদ্যোগও ইনশাআল্লাহ আমরা গ্রহণ করেছি।
তিনি বলেন, এই দেশের মানুষই একাত্তর সালে যুদ্ধ করে এই দেশ স্বাধীন করেছিল। এই দেশের মানুষই ২০২৪ সালে আন্দোলনের মাধ্যমে এই দেশের ছাত্র-জনতা এই দেশ থেকে স্বৈরাচার বিদায় করেছিল। কাজেই এই দেশের মানুষই শহীদ জিয়ার সময় এই খাল খননের মাধ্যমে, পানি সরবরাহ বাড়ানোর মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন দ্বিগুণ করে এই দেশ থেকে বিদেশে খাদ্য রফতানি করেছিল। তাহলে এই দেশের মানুষ যদি এত বড় কাজ করতে পারে, ইনশাআল্লাহ আপনারাই গড়ে তুলতে পারবেন আগামী দিনের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ।
নানা-নানির কবর জিয়ারত
গতকাল কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়া এলাকায় খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৩ বছর পর দিনাজপুর শহরে আগমন করেন। এসেই তিনি নানি বেগম তৈয়বা মজুমদার, নানা ইস্কান্দার মজুমদার, বড় খালা বেগম খুরশিদ জাহান হক এবং খালাতো বোন মীমের কবর জিয়ারত করেন। এ সময় তিনি কবরস্থানে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে দোয়া ও মুনাজাত করেন।




