প্রধানমন্ত্রীর খাল খনন কর্মসূচিকে সাধুবাদ বিরোধী নেতার
প্রকাশিত হয়েছে : ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩:৪১:১৯ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রীর খাল খনন কর্মসূচিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা: শফিকুর রহমান।
গতকাল নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে তিনি লেখেন, বাংলাদেশ একসময় কার্যত নদীমাতৃক দেশ হিসেবে পরিচিত ছিল। নদীগুলো সচল ছিল। নদীপথে যাতায়াত, পণ্য পরিবহন এবং কৃষিক্ষেত্রে নদী ছিল বিশাল নিয়ামক শক্তি। তার পাশাপাশি মৎস্যসম্পদ, জমির উর্বরা সংরক্ষণ এবং বর্ষাকালে পানি প্রবাহ সঠিক থাকার কারণে ঘন ঘন বন্যা এবং এ জনিত দুর্ভোগের প্রাদুর্ভাব কমই হতো।
কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকে একদিকে ফারাক্কা বাঁধের অভিশাপ অন্য দিকে প্রধান প্রধান নদীগুলোসহ সব গুরুত্বপূর্ণ নদনদী, খাল এবং বিল ভরাট হওয়ার ফলে একসময়ের স্রোতস্বিনী নদীগুলো এখন ভরা মৌসুমে পানি ধারণ করতে পারে না। ফলে অকাল বন্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, শুকনো মৌসুমে মরুভূমির রূপ ধারণ করে। বর্ষায় পানির প্রবাহ বিঘিœত হয়ে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমনকি প্রধান প্রধান শহর ও নগরগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। আবার শুকনো মৌসুমে যেখানে নৌ-চলাচল ও কৃষির জন্য পানির প্রয়োজন হয় সেখানে ন্যূনতম চাহিদা পূরণ করার মতো পানি থাকে না। তিনি লেখেন, দেশ বাঁচাতে হলে প্রধান প্রধান নদীগুলোতে পর্যাপ্ত ড্রেজিং সম্পন্ন করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের উচিত হবে দেশ বাঁচানোর স্বার্থে নদনদীগুলোর জীবন ফিরিয়ে আনার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা।
দুর্নীতির বিষয়টি স্মরণ করে দিয়ে তিনি বলেন, মনে রাখতে হবে- অতীতে ড্রেজিং-এর নামে, নদী শাসনের নামে, নদী সংস্কারের নামে বাজেট বরাদ্দ হলেও তার কোন সুফল পাওয়া যায়নি। কারণ লুটপাটতন্ত্র ছিল তখন শাসকদের মূলনীতি।
তিনি লেখেন, সবক্ষেত্রে স্বচ্ছতার কোনো বিকল্প নেই। দেশবাসীর আমানত সর্বোত্তম পন্থায় স্বচ্ছতার সাথে কাজে লাগানো সরকারের দায়িত্ব। সরকার মূলত দেশবাসীর পক্ষে সব কর্মকাণ্ডে ব্যবস্থাপকের ভূমিকা পালন করবে। এমনকি খাল খননের সুফল তখনই পাওয়া যাবে- যখন নদীগুলো প্রাণ ফিরে পাবে, নাব্যতা ফিরে পাবে। অন্যথায় খাল খনন থেকেও জনগণ কাক্সিক্ষত সুফল পাবে না।
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ক্রিকেট সিরিজ জয়ে অভিনন্দন : ওয়ান ডে ক্রিকেটে পাকিস্তানের বিপক্ষে এক শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে সিরিজ জয়ের জন্য বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জামায়াত আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান এমপি। গতকাল এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, রোববার ঢাকার মিরপুর স্টেডিয়ামে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের বিপক্ষে এক শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে ওয়ান ডে সিরিজে ২-০ ব্যবধানে ঐতিহাসিক জয়লাভ করায় বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলকে আমি এবং আমার দল ও দেশবাসীর পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। তিনি আরো বলেন, পাকিস্তানের বিপক্ষে রোববারের রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে বাংলাদেশের সাহসী ও মেধাবী ক্রিকেটাররা অসাধারণ দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস এবং দলগত ঐক্যের পরিচয় দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ১১ রানের জয় এবং সিরিজ নিশ্চিত করা জাতির জন্য অত্যন্ত গৌরবের বিষয়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের এ নজরকাড়া পারফরম্যান্স সমগ্র দেশবাসীকে আনন্দিত ও গর্বিত করেছে। খেলাধুলার এ সাফল্য দেশের তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা আরো সুদৃঢ় করবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল ভবিষ্যতেও তাদের এ সাফল্যের ধারা অব্যাহত রেখে দেশের জন্য আরো গৌরব ও সুনাম বয়ে আনবে।
টঙ্গীতে মিল্লাত অ্যালামনাই ইফতার মাহফিল
গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি জানান, পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা টঙ্গী অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার মিল্লাত টঙ্গী ক্যাম্পাসের এ অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন শিক্ষার্থী, আলেম-উলামা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্টজন অংশগ্রহণ করে। অনুষ্ঠানটি যেন এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর, বিরোধীদলীয় নেতা ও এমপি ডা: শফিকুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা: শফিকুর রহমান বলেন, পবিত্র মাহে রমজান মানুষকে আত্মশুদ্ধি, নৈতিকতা ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় এ মূল্যবোধগুলো বাস্তবায়িত হলে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। তিনি বলেন, সমাজে যত বেশি ঈমানদার ও মুত্তাকি মানুষের সংখ্যা বাড়বে, সমাজ তত বেশি সুস্থ ও সুন্দর হবে। আর যদি এ সংখ্যা কমে যায়, তাহলে সমাজ ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাবে। তিনি বলেন, জাতি গঠনে প্রয়োজন মেধাবী ও চরিত্রবান তরুণ প্রজন্ম। আমরা ট্যালেন্ট চাই, কিন্তু কোনো ইভিল ট্যালেন্ট চাই না। আমরা চাই এমন মেধাবী তরুণ, যারা চরিত্রবান হবে, তাদের অন্তরে থাকবে দেশপ্রেম, মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং সবার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা টঙ্গী অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট মাওলানা আতিকুর রহমান এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা টঙ্গী অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল এহসান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করেন কারী, তুরাগ শিল্পীগোষ্ঠী, আব্দুল্লাহ আল জাওয়াদ। পরে ইসলামী সঙ্গীত পরিবেশন করে তুরাগ শিল্পীগোষ্ঠী।
সংবর্ধিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবনা-১ আসনের এমপি ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন, গাজীপুর-৪ আসনের এমপি সালাহ উদ্দিন আইয়ুবী, শেরপুর-১ আসনের হাফেজ মো: রাশেদুল ইসলাম এবং নোয়াখালী-৬ আসনের আ: হান্নান মাসুদ। আলোচনা পর্বে বক্তব্য রাখেন তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা টঙ্গীর অধ্যক্ষ ড. হিফজুর রহমান, তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা ঢাকার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. খলিলুর রহমান মাদানী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী সদস্য আব্দুর রব, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সিবগাতুল্লাহ সিগবাহ। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাজীপুর মহানগরীর নায়েবে আমির মো: হোসেন আলী এবং গাজীপুর মহানগরীর সেক্রেটারি আ. স. ম. ফারুক।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মুনাজাত পরিচালনা করেন উপাধ্যক্ষ, তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা টঙ্গী, মাওলানা মিজানুর রহমান। পরে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন চেয়ারম্যান, চ্যারিটি কেয়ার বাংলাদেশ ও প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, তা’মীরুল মিল্লাত অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, ড. হাফিজুর রহমান।




