ফের বৈঠকে বসছে ইরান-আমেরিকা : স্থিতিশীল যুদ্ধবিরতির আশা
প্রকাশিত হয়েছে : ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০৩:২৫ অপরাহ্ন
জালালাবাদ রিপোর্ট : অবশেষে হতে চলেছে ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে বহু প্রত্যাশিত দ্বিতীয় দফার শান্তি বৈঠক। শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘাচি ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন প্রতিনিধি দল সঙ্গে নিয়ে।
অন্যদিকে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনার শনিবারই পাকিস্তানে পৌঁছেছেন।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করতে টেলিফোনে আলোচনা করেছেন মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাতি এবং পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার।
মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দুই মন্ত্রীই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনার বিষয়ে আশা ব্যক্ত করেছেন। তাঁরা আশা করছেন, এ আলোচনার মাধ্যমে এমন একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে, যা একটি স্থিতিশীল যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করবে, উত্তেজনা কমাবে ও বর্তমান সংঘাত বন্ধের পরিবেশ তৈরি করবে।
এর আগে শনিবার পাকিস্তানের চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস (সিডিএফ) ও চিফ অব আর্মি স্টাফ (সিওএএস) ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ইসলামাবাদে অবস্থিত ইরান দূতাবাস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বৈঠকে উভয় পক্ষ আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাকিস্তান ও ইরানের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়েও তাঁরা একমত হয়েছেন।
ইরান দূতাবাস জানিয়েছে, ইসলামাবাদ ও তেহরানের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মুহাম্মদ আসিম মালিক ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি উপস্থিত ছিলেন।
ইরানের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এবার সরাসরি কথা বলবে না দু’পক্ষ। পাকিস্তানই মধ্যস্থতা করবে এবং তারাই উভয়পক্ষের মধ্যে সংযোগ রক্ষা করবে।
তেহরান দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র এখন যুদ্ধ থেকে একটি ‘সম্মানজনক’ প্রস্থানের পথ খুঁজছে। শনিবার ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই মন্তব্য করে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে ইরানের সুপ্রিম লিডার-সহ একঝাঁক নেতৃত্বের মৃত্যু হয়েছে। তারপর প্রায় দেড়মাস ধরে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চলেছে। তারপর ৭ এপ্রিল দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধ থামাতে রাজি হয়েছে দুই দেশ। এই সময়টার মধ্যে দুপক্ষ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা মেটাবে, এমনটাই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে শান্তি বৈঠকে বসে দুই দেশ। সেই বৈঠক ব্যর্থ হয়। এবার নজর দ্বিতীয় বৈঠকের দিকে। এবার কি জট খুলবে? আপাতত এটাই লাখ টাকার প্রশ্ন।
এদিকে এবার মার্কিন প্রতিনিধি দলে থাকবেন না ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। প্রথম দফার বৈঠক চূড়ান্ত ব্যর্থ হওয়ার পর এবার জামাইয়ের উপরই ভরসা করতে চাইছেন ট্রাম্প। তবে প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে। এবার কি আলোচনার টেবিলে সাফল্য মিলবে? বন্ধ হবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ?




