ব্রিটেনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন: দুই সিলেটির দখলে টাওয়ার হেমলেট্স ও নিউহাম মেয়রের চেয়ার
প্রকাশিত হয়েছে : ০৯ মে ২০২৬, ৯:২৪:৩০ অপরাহ্ন

এনাম চৌধুরী: দুই সিলেটির দখলে ব্রিটেনের বাংলাদেশ অধ্যুষিত টাওয়ার হেমলেট্স ও নিউহাম কাউন্সিলের মেয়রের চেয়ার ! ব্রিটেনের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রাজধানী লন্ডনের আলোচিত দুটি বারা কাউন্সিল ‘লন্ডন বারা অব টাওয়ার হেমলেট্স এবং নিউহাম কাউন্সিলের নির্বাচনে দুজন সিলেটি ব্রিটিশ-বাংলাদেশী মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। এর একজন ব্রিটেনের বহুল আলোচিত এবং প্রথম নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান এবং অপরজন ফরহাদ হোসেন। মেয়র হিসেবে লুৎফুর রহমান চতুর্থ বার এবং ফরহাদ হোসেন প্রথমবার মেয়রের চেয়ারে বসলেন। মেয়র লুৎফুর রহমান ষোলো হাজার দুইশত পঁচিশ (১৬২২৫) ভোটে নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী লেবার পার্টির প্রার্থী এবং কাউন্সিলের বিরোধী দলীয় নেতা সিরাজুল ইসলামকে পরাজিত করে বিজয়ী হন। মেয়র লুৎফুরের প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা পঁয়ত্রিশ হাজার ছয়শত ঊনআশী (৩৫৬৭৯) এবং সিরাজুল ইসলামের উনিশ হাজার চারশত চুয়ান্ন (১৯৪৫৪) টি।
অপরদিকে নিউহাম কাউন্সিলে নির্বাচিত লেবার পার্টির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত মেয়র ফরহাদ হোসেন তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নিউহাম ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রার্থী মাহমুদ মির্জা কে পাঁচ হাজার তিনশত চার ভোটে (৫৩০৪) পরাজিত করে প্রথম ব্রিটিশ বাংলাদেশী মেয়র হিসেবে নির্বাহী ক্ষমতা গ্রহণ করছেন। ফরহাদ হোসেনের প্রাপ্ত ভোট পঁচিশ হাজার পাঁচশত আটত্রিশ (২৫৫৩৮) এবংমাহমুদ মির্জার বিশ হাজার দুইশত চৌত্রিশ (২০২৩৪) টি। ১৯৬৩ সালে কাউন্সিল হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর কখনো লেবার পার্টির হাত ছাড়া হয়নি এ কাউন্সিলটি।
টাওয়ার হেমলেট্স কাউন্সিল ও লন্ডন বারা অব নিউহাম দুটি পাশাপাশি কাউন্সিলের মোট জনসংখ্যার বড় অংশই ব্রিটিশ বাংলাদেশী নাগরিক অধ্যুষিত। এখানকার ব্যবসা-বাণিজ্যেও নানাভাবে তাদের শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। ব্রিটেনের জাতীয় (পার্লামেন্টারী) ও স্থানীয় সরকার (কাউন্সিল) নির্বাচনে ব্রিটিশ বাংলাদেশী ভোটাররা এখানকার মূল শক্তি হিসেবে বিবেচিত। ২০১০ সালে টাওয়ার হ্যামলেট্স কাউন্সিলের প্রথম নির্বাহী মেয়র হিসেবে লুৎফুর রহমান প্রতিদ্বন্দিতা করলে তখন তাঁর বিপরীতে লেবার পার্টির প্রার্থী করা হয় অপর এক বাংলাদেশীকে। কারণ বাংলাদেশী ভোটারদের আলাদা না করলে এখানকার ভোটের শক্তিকে প্রতিহত করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
লন্ডনের টাওয়ার হেমলেট্স কাউন্সিলের ভেতরে বর্তমানে দুটি সংসদীয় আসন রয়েছে এবং এর দুটিতেই দু’জন নির্বাচিত ব্রিটিশ বাংলাদেশী রোশনারা আলী এবং আফসানা বেগম পার্লামেন্টে এর প্রতিনিধিত্ব করছেন।
মেয়র লুৎফুর রহমান সিলেট জেলার অবিভক্ত বালাগঞ্জ বর্তমান ওসমানী নগর উপজেলার উমরপুর ইউনিয়নের সিকন্দরপুর গ্রামে এবং ফরহাদ হোসেন এর বাড়ি বালাগঞ্জ উপজেলার বোয়ালজুড়ে ।





