সিলেটে হাম উপসর্গে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু
প্রকাশিত হয়েছে : ০৯ মে ২০২৬, ৯:৩৭:৪৯ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : সিলেটে থামছেনা হাম উপসর্গে মৃত্যু। গত ৩৬ ঘন্টায় হাম উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তি আরো ৩ শিশুর মৃত্যুর হয়েছে। এনিয়ে হাম উপসর্গে নিয়ে সিলেট বিভাগের মৃত্যু সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭ জনে।
শনিবার (৯ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে গত ২৪ ঘন্টায় ১ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানানো হয়। তবে ওসমানী ও শামসুদ্দিন হাসপাতাল সূত্রে গত ৩৬ ঘন্টায় ৩ শিশুর মৃত্যু তথ্য জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে মারা যান ৮ মাস বয়সী শিশু সাইফা। সে সিলেট জেলার ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলারর ঘিলাছড়া এলাকার বাসিন্দা। এছাড়া শনিবার সাড়ে ১১টায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যাওয়া ৯ মাস বয়সী আকরামুল হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার বাসিন্দা এবং একই হাসপাতালে শুক্রবার রাত ৮টায় মৃত্যুবরণকারী ৩ মাস বয়সী রাহিম আলী সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার বাসিন্দা।
এদিকে সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘন্টায় ল্যাব পরীক্ষায় কারও হাম শনাক্ত না হলেও হাম উপসর্গে আরো ২৯ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত ১ জানুয়ারি থেকে ৯ মে পর্যন্ত ল্যাব পরীক্ষায় প্রমাণিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৪২। এর মধ্যে হবিগঞ্জে ১৩ (রুবেলা আক্রান্ত ২), মৌলভীবাজারে ১৬, সুনামগঞ্জে ৭১ ও সিলেট জেলার রোগী ৪২ জন।
গত ২৪ ঘন্টায় হাম সন্দেহে আরো ২৯ জন শিশু সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ২৪৩ জন সন্দেহজনক হাম রোগী। তাদের মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে সর্বোচ্চ ১০৬, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯, সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪, আল হারামাইন হাসপাতালে ২, রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭, মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ২, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ২, পার্কভিউ হাসপাতালে ২, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১, বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২, আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩, বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪, দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২, শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৫৮, জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩, জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১৫ ও মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১৭ জন শিশু ভর্তি রয়েছেন।
এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. নুরে আলম শামীম জানান, সিলেটে হাম উপসর্গে রোগীর চাপ ক্রমশ বাড়ছে। উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবেলায় ওসমানী হাসপাতালে ৩২নং ওয়ার্ডটি হামের জন্য ডেডিকেটেড করা হয়েছে। বর্তমানে শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালকে হামের জন্য ডেডিকেটেড করা হয়েছে। দুটি হাসপাতালের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারী হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাম ও হাম উপসর্গের চিকিৎসা চলছে। হাম থেকে শিশুকে রক্ষায় হামের টিকা নিশ্চিত করতে হবে।





