ভোলাগঞ্জ-ছনবাড়ী রাস্তা তিন কিলোমিটারে শতাধিক গর্ত, লক্ষাধিক মানুষের ভোগান্তি
প্রকাশিত হয়েছে : ১৭ মে ২০২৬, ৭:৫৪:১৬ অপরাহ্ন

আব্দুল জলিল, কোম্পানীগঞ্জ : সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ-শাহ আরেফিন-ছনবাড়ী রাস্তা যেন দুই জেলার যোগাযোগের প্রধান বাঁধা হয়ে দাড়িয়েছে| মাত্র ৩ কিলোমিটার রাস্তার জন্য সিলেট জেলার সাথে সুনামগঞ্জের সেতুবন্ধন হচ্ছে না| দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগেও এই সড়কের উন্নয়ন হয়নি| বড় বড় খানাখন্দভরা রাস্তা দেখে বোঝার উপায় নাই এটি পুকুর না গাড়ি চলাচলের সড়ক| বিকল্প কোন পথ না থাকায় ঐ এলাকার প্রায় লক্ষাধিক মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা এই সড়ক| এ পথ দিয়ে যাত্রী নিয়ে যাওয়ার সময় প্রায়ই গাড়ির ইঞ্জিনে পানি ঢুকে বিকল হয়ে যায়| ফলে চালক ও যাত্রীদের চড়ম ভোগান্তি পোহাতে হয় এ সড়কে চলাচল করতে|
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর অফিস থেকে ইতোমধ্যে ভোলাগঞ্জ-শাহ আরেফিন-ছনবাড়ী রাস্তার ৩.৩ কিলোমিটারের জন্য প্রায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয় ধরে একটি প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে| এছাড়া অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই রাস্তাটি নির্মাণ করতে বেশ কয়েকটি প্রকল্পেও দেওয়া হয়েছে| তবে এখনো এসড়ক নিয়ে সরকার থেকে কোন সিদ্ধান্ত আসেনি|
ইতোমধ্যে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার সুনাই নদীর উপর একটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে| যা সিলেট ও সুনামগঞ্জ দুই জেলাকে সংযুক্ত করেছে| কিন্তু এই তিন কিলোমিটার রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী থাকায় সেতু দিয়েও তেমন কোন গাড়ি চলাচল করে না| সুনাই নদীর উপর নির্মিত সেতুটির মাধ্যমে দুই জেলার যোগাযোগের যুগান্তকারী ভূমিকা রাখলেও সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার এই তিন কিলোমিটার রাস্তার জন্য এর সুফল ভোগ করতে পারছেন না ঐ এলাকার মানুষ|
ভোলাগঞ্জ থেকে ছনবাড়ী পর্যন্ত সাড়ে ৫ কিলোমিটার রাস্তা| এরই মধ্যে ২.২ কিলোমিটার রাস্তা ২০২৩-২৪ সালে আরসিসি ঢালাইয়ের মাধ্যমে নির্মাণ করা হয়েছে| বাকি ৩.৩ কিলোমিটার রাস্তা এখন শাহ আরেফিন, ছনবাড়ী ও ছাতক উপজেলার মানুষের গলার ফাঁস হয়ে দাড়িয়েছে|
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এ রাস্তার বাবুল নগর থেকে ছনবাড়ী স্কুল পর্যন্ত ছোট বড় শতাধিক গর্ত রয়েছে| অনেক গর্ততে ২-৩ ফুট পর্যন্ত পানি জমে আছে| দেখে বোঝার উপায় নাই এটা নৌকা নাকি গাড়ি চলাচলের রাস্তা| অনেক গাড়ি এই পানির মধ্যে দিয়েও যাত্রী নিয়ে যাতায়াত করছে|
স্থানীয়রা জানান, একটু বৃষ্টি হলেই এই রাস্তায় গাড়ি চলাচল করতে পারে না| বিকল্প কোন রাস্তা না থাকায় পায়ে হেঁটে হলেও তাদের এই রাস্তা ব্যবহার করতে হয়| স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী ও অসুস্থ রুগীদের নিয়ে যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়| সময় মতো পাওয়া যায় না কোন ধরনের যানবাহন|
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা প্রকৌশলী আসিফ খান রাবি জানান, এই রাস্তাটি নির্মাণের জন্য আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি| তাছাড়া রাস্তাটির বিষয়ে স্থানীয় এমপি ও মাননীয় মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী অবগত আছেন| তিনিও নির্দেশ দিয়েছেন যেকোনো প্রকল্প থেকে যাতে এই রাস্তাটি দ্রুত বাস্তবায়ন করা হয়|






