রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র পুনরায় সচলে ৫০ লাখ টাকা অনুদান ঘোষণা জামায়াতের
প্রকাশিত হয়েছে : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬:৩৯:৫৭ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক : রাজধানীর মিরপুরে দীর্ঘ অর্ধশতাব্দী ধরে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসা স্বাস্থ্যকেন্দ্র রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এসময় প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় সচল করতে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ৫০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, এ টাকার মাধ্যমে ভাঙা ঘর কিছুটা সচল করা এবং প্রয়োজনীয় কিছু যন্ত্রপাতি কিনে মা ও শিশুদের সেবা পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে। আমরা ট্রাস্টি বোর্ডের সঙ্গে বসে বাকি বিষয়টি সুরাহা করব এবং ভবিষ্যতেও এ সহায়তা অব্যাহত থাকবে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর মিরপুরে ক্ষতিগ্রস্ত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন জামায়াত আমীর।
এসময় ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, পুলিশের উপস্থিতিতেই তিন-চার ঘণ্টা ধরে ২০০ থেকে ২৫০ জন দুর্বৃত্ত এই ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। তিনি বলেন, সরকারি দলের নেতা ও গডফাদারদের আশ্রয়-প্রশ্রয় ছাড়া এ ধরনের দুঃসাহস দেখানো সম্ভব নয়।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, গত তিনদিন আগে রাতের আঁধারে দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে সেবা দিয়ে আসা প্রতিষ্ঠানটির ওপর একদল ভূমিদস্যু হামলা চালিয়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। পুলিশের উপস্থিতিতেই তিন থেকে চার ঘণ্টা ধরে তা চললেও হামলাকারীদের বিরত রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে জনমনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, এদের খুঁটির জোর কোথায়।
ক্ষোভ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকারি দলের লোকজন এখন এসে মায়াকান্না করছেন, মিনমিন করে কথা বলছেন। কিন্তু ডেসপারেটলি বলছেন না যে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অপরাধীদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনা হবে। দুই থেকে আড়াইশ লোক এত সময় ধরে তাণ্ডব চালাল, অথচ কাউকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না– এগুলো খুবই রহস্যজনক।
হাসপাতালটির ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই সেন্টারটি এলাকার গরীব মানুষ, শিশু ও সন্তানসম্ভবা মায়েদের নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা ও টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করত। এখন ভাঙচুরের কারণে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, যা কোনোভাবেই সেবা দেওয়ার উপযোগী নয়।
রাজধানীসহ দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াত আমীর বলেন, মোহাম্মদপুরে দিনের বেলা চাপাতি নিয়ে বাড়ি দখল ও ইসিবি চত্বরে জুলাইযোদ্ধার স্টুডিওতে হামলার মতো ঘটনা ঘটছে। এসব ক্ষেত্রে জমির সমস্যা বা অন্য কোনো অজুহাত দেখিয়ে পার পাওয়ার সুযোগ নেই। রাতের আঁধারে সন্ত্রাসী কায়দায় হানা দেওয়া কোনো সংবিধানে সমর্থন করে না।
অপরাধের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই অপকর্মের সঙ্গে বিরোধী দলকে জড়ানোর চেষ্টা করা হতে পারে। কিন্তু আমরা স্পষ্ট বলছি, এ ঘটনার সঙ্গে আমার দলের লোক তো দূরের কথা, আমি নিজেও যদি জড়িত থাকি, তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেন আমাকেও ক্ষমা না করে এবং আইনের আওতায় নিয়ে আসে।
সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, গাছের গোড়া কেটে মাথায় পানি দেওয়া কিংবা ‘সর্প হইয়া দংশন করা, ওঝা হইয়া ঝাড়া’র নাটক জনগণ দেখতে চায় না। অপরাধী যে দলেরই হোক, তাকে খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে, যেন ভবিষ্যতে কেউ এমন অপকর্ম করার সাহস না পায়।





