তোফায়েল আহমেদের ইন্তেকাল
প্রকাশিত হয়েছে : ০১ জুন ২০২৬, ৮:৫৮:০২ অপরাহ্ন
জালালাবাদ ডেস্ক : সাবেক মন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা তোফায়েল আহমেদ ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না লিল্লাহি রাজিউন। সোমবার বেলা সাড়ে ৩টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
স্কয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর তোফায়েল আহমেদ নিউমোনিয়াজনিত শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ ও শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।
তার জামাতা ও সাবেক এমপি ডা. তৌহিদুজ্জামান তুহিন জানান, দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তোফায়েল আহমেদ। তিনি এক মেয়ে ও অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।
তোফায়েল আহমেদ ১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি ছিলেন। ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকা রাখেন তিনি।
তোফায়েল আহমেদের রাজনৈতিক জীবন ছিল বর্ণাঢ্য। ১৯৭০ সালে তিনি প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগের মনোনয়নে জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয় লাভ করেন। দেশ স্বাধীনের পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নিজ জেলা ভোলা থেকে ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করেন তিনি। সব মিলিয়ে তিনি ৯ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
১৯৯৬ সালের ২৩ জুন তিনি শেখ হাসিনা সরকারের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। পরে ২০১৩-১৮ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলেন। রাজনৈতিক কারণে ১৯৭৫ সাল থেকে টানা ৩৩ মাস এবং তার পর অনেকবার কারাভোগ করেন এই নেতা। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ছিলেন।
তোফায়েল আহমেদের ব্যক্তিগত সহকারী আবুল খায়ের জানান, সোমবার বাদ মাগরিব ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে তোফায়েল আহমদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। আজ সকালে হেলিকপ্টারে করে তাকে ভোলা নেওয়া হবে। পরে বাদ জোহর ভোলা জিলা স্কুল মাঠে জানাজা শেষে গ্রামের বাড়িতে মা-বাবার কবরের পাশে দাফন করা হবে।




