শাহজালালে ট্রলির জন্য দুর্ভোগ
প্রকাশিত হয়েছে : ০৩ জুন ২০২৬, ৮:২৬:৩৯ অপরাহ্ন
জালালাবাদ ডেস্ক: হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ বহনে ট্রলির জন্য চলছে হাহাকার| ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও মিলছে না ট্রলি| একদিকে চলছে ফিরতি হজ ফ্লাইট অন্যদিকে রেগুলার ফ্লাইট| এতে করে ট্রলির জন্য হাহাকার লেগেছে|
এদিকে সময়মত ট্রলি না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন হাজি থেকে শুরু করে সাধারণ যাত্রীরা| তারা বলছেন, পর্যাপ্ত ট্রলির ব্যবস্থা করতে পারেনি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ| এর কারণে ফ্লাইট থেকে নামার পর ২/৩ ঘণ্টা লেগে যাচ্ছে লাগেজ নিয়ে বের হতে|
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই শাহজালাল বিমানবন্দরে ট্রলি সঙ্কট চলে আসছে| এক সঙ্গে ২/৩ টি ফ্লাইট অবতরণ করলেই যাত্রীরা আর ট্রলি পান না| বেল্ট থেকে লাগেজ সংগ্রহ করে তা ট্রলিতে করে নিয়ে বের হতে হতে ২/৩ ঘণ্টা সময় লেগে যায়|
বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর আসার পর বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় গুরুত্ব দিয়ে ট্রলি ও মশা মারার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেয়| ওই নির্দেশে সামনে হজের মৌসুমে ট্রলির কোনরুপ যেন সঙ্কট না হয় বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়|
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা আসার পর বেবিচকের কেনাকাটা দপ্তর থেকে ৫০০টি ট্রলি কেনার জন্য একটি প্রস্তাবনা অনুমোদনের জন্য সদরদপ্তরে প্রেরণ করা হয়| কিন্তু বেবিচকের সদস্য (অপারেশনস) মেহবুব খান ট্রলি কেনার প্রস্তাবনা বাতিল করে দেন|
জানা যায়, বর্তমানে এই সঙ্কট তীব্র হওয়ায় বিভিন্ন বিমানবন্দর থেকে ট্রলি সংগ্রহ করে শাহজালালে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে|
বেবিচকের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা বলেন, যেখানে শত কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে, সেখানে ৫০০টি ট্রলি কিনতে আর কত টাকাই লাগত| অথচ এই ট্রলি থাকলে হাজিদের বা সাধারণ যাত্রীদের ট্রলির জন্য হাহাকার পড়ত না| এই ট্রলি কেনার জন্য মন্ত্রণালয় থেকেও নির্দেশনা ছিল| কিন্তু মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মানেননি উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা|
তিনি বলেন, এখন যেহেতু ট্রলির তীব্র সঙ্কট শুরু হয়েছে, হাজিরা বিমানবন্দরে নেমে এ অব্যবস্থাপনা দেখে তা মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধমে প্রচার করছেন, তখনই টনক নড়ছে তাদের| এখন এত অল্প সময়ে যেহেতু কেনা সম্ভব না, সেহেতু অন্য বিমানবন্দর থেকে ট্রলি আনা হচ্ছে|
তারা বলছেন, এগুলো সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এক ধরনের খামখেয়ালিপনা| মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী যেখানে নির্দেশ দিয়েছেন; আর সঙ্কটও তীব্র হচ্ছে সেখানে ট্রলি কিনতে সমস্যা কোথায়? তাদের খামখেয়ালিপনার কারণেই বিমানবন্দরের সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে, কর্মকর্তারা অপমানিত হচ্ছেন|
বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ বলেন, ’একসঙ্গে অনেক ফ্লাইট নামলে যাত্রীর সংখ্যা বেশি হয়ে যায়| ঠিক সেই সময়ে ট্রলির ঘাটতি পড়ে যায়| এতে করে আমরা সমস্যার মধ্যে পড়ে যাই|’ তিনি বলেন, ’এই সঙ্কট কাটানোর জন্য আমরা ইতিমধ্যে সিলেট ও চট্টগ্রাম থেকে ২৫০টি ট্রলি এনেছি| এগুলো বুধবার যোগ করা হয়েছে|’





