আজ মৌলভীবাজার আসছেন প্রধানমন্ত্রী/
প্রকাশিত হয়েছে : ১৭ জুন ২০২৬, ১২:০১:৩৮ অপরাহ্ন
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: আজ বুধবার মৌলভীবাজারে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান| ফ্যামেলী কার্ড পাইলটিং কর্মসূচীর তৃতীয় পর্যায়ের উদ্বোধন করতে তার এই সফর| এই সফরকে ঘিরে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে| জেলা প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট সরকারি সকল দপ্তর ও বিএনপি’র সার্বিক সহযোগিতায় অনুষ্ঠানের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে|
শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভিক্টোরিয়া মাঠে সকাল ১১টায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ ও সভায় অংশ নেবেন| পরে সড়কপথে এসে মৌলভীবাজার শহরের ঐতিহাসিক সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বেলা আড়াইটায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ ও জনসমাবেশে ভাষণ দেবেন|
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে মৌলভীবাজারের গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলোর মধ্যে উঠে এসেছে শমশেরনগরে বিমানবন্দর পুনরায় চালু, মেডিকেল কলেজ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজনগর বালাগঞ্জে’র কুশিয়ারা নদীতে সেতু নির্মাণের|
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ফ্যামেলী কার্ড পাইলটিং কর্মসূচীর আওতায় জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ১ ন¤^র ওয়ার্ডের ১৫৫ জন ও রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের ৭ ন¤^র ওয়ার্ডের ১৫২ জন উপকারভোগীর মাঝে ফ্যামেলী কার্ড বিতরণ করা হবে|
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ুন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে আমাদের দলীয় তরফ থেকে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে| তিনি বলেন, এ জেলার প্রধান দাবিগুলো হচ্ছে মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, শমশেরনগরে পুনরায় বিমানবন্দর চালু ও কুশিয়ারা নদীতে সেতু ˆতরি|
এদিকে, আমাদের শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি জানান, শ্রীমঙ্গল সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের সদস্যদের মাঝে তৃতীয় ধাপের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন|
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে শ্রীমঙ্গলে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে| অনুষ্ঠানস্থলসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, সড়ক সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শেষ করা হয়েছে| জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সমš^য় নিশ্চিত করতে কাজ করছে|
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী দুপুর ১টায় শহরের ঐতিহ্যবাহী ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন| এ সময় তিনি উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন|
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. সোয়েব আহমেদ জানান, তৃতীয় ধাপে মির্জাপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ১৫৫টি সুবিধাবঞ্চিত পরিবারকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে| যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে| অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী প্রতীকীভাবে ১০ জন উপকারভোগীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেবেন| এছাড়া আরও পাঁচজনকে অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা হবে| ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় সুবিধাভোগীরা প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা আর্থিক সহায়তা পাবেন|
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণমূলক কর্মসূচির আওতায় আর্থিক সহায়তাও বিতরণ করা হবে| ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোক-প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত পাঁচজনকে ৫০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে| পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় পাঁচজনকে ১০ হাজার টাকা, পাঁচজন শিক্ষার্থীকে ১০ হাজার টাকা করে শিক্ষা সহায়তা, চা-শ্রমিকদের টেকসই আবাসন নির্মাণে পাঁচজনকে দুই লাখ টাকা করে এবং দুঃস্থ, অসহায়, প্রতিবন্ধী ও গৃহহীনদের জন্য বিশেষ অনুদান কর্মসূচির আওতায় ১০০ জনকে ১০ হাজার টাকা করে চেক প্রদান করা হবে|
মঙ্গলবার দুপুরে মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে| তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে ¯^াগত জানাতে শ্রীমঙ্গলের মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন|
একই দিন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি পরিদর্শনকালে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. জাহিদ মালেক বলেন, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ক্রমাš^য়ে সম্প্রসারণ করা হচ্ছে| ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলো নিয়মিত আর্থিক সহায়তা পাবে, যা তাদের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে| তিনি প্রধানমন্ত্রীর শ্রীমঙ্গল সফরকে জেলার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট সকলকে সফলভাবে কর্মসূচি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান|
এ সময় মৌলভীবাজার সদর আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক মিজানুর রহমান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ফয়জুল করিম ময়নু, সদস্য সচিব রিপন আহমেদসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন|
তবে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে কোথাও ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড, অভিনন্দন বার্তা কিংবা ¯^াগত তোরণ নির্মাণ করা হয়নি| সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রচারণা পরিহারের নির্দেশনা থাকায় শহরে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক তোরণ বা প্রচারণামূলক সাজসজ্জা দেখা যাচ্ছে না|




