অনিশ্চয়তায় কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলপথ পুনর্বাসন
প্রকাশিত হয়েছে : ১৮ জুন ২০২৬, ৭:৫৬:৩৫ অপরাহ্ন
জালালাবাদ ডেস্ক: বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসেছে প্রায় চার মাস। ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকারের আমলে নেওয়া প্রকল্প এখনও শেষ হয়নি। শেষ দূরের কথা, অর্ধেক কাজও সারানো যায়নি। মাঝখানে অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরও পার হয়েছে। সরকার বদলায় কিন্তু রেলের প্রকল্প শেষ হয় না। বর্তমানে রেলের ৩১টি প্রকল্প চলমান। এর মধ্যে চারটি প্রকল্প রুগ্ন হিসেবে চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
প্রকল্পগুলো হলোকুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলপথ পুনর্বাসন, ঢাকা-টঙ্গী-জয়দেবপুর ডুয়েলগেজ লাইন নির্মাণ, মধুখালী-কামারখালী-মাগুরা রেলপথ নির্মাণ এবং ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণ।
এ চার প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা, চ্যালেঞ্জ ও করনীয় নির্ধারণে সম্প্রতি বৈঠক করেছে সংস্থাটি। রেলওয়ের মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও প্রকল্প পরিচালকেরা উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন বলেন, রেলের চারটি দুর্বল প্রকল্প রয়েছে। নানা কারণে এগুলোর অগ্রগতি কম। সেসব সমস্যা চিহ্নিত করে ত্বরিত পদক্ষেপ নিতে কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
রেলের তথ্যমতে, শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে নেওয়া কয়েকটি বড় প্রকল্প এখন দীর্ঘসূত্রতা ও বাস্তবায়ন সংকটের প্রতীক হয়ে উঠেছে। একটি প্রকল্প শুরু হয়েছিল ২০১১ সালে, আরেকটি ২০১২ সালে। বাকি দুটিও এক দশকের কাছাকাছি সময় ধরে বাস্তবায়নের অপেক্ষায়। দেশের রেল যোগাযোগে গতি আনা, নতুন অঞ্চলকে রেল নেটওয়ার্কে যুক্ত করা এবং রাজধানীকেন্দ্রিক রেল চলাচলের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য এসব প্রকল্প নেওয়া হয়; যা এখন দীর্ঘসূত্রতা, ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাস্তবায়ন সংকটের উদাহরণ হয়ে উঠেছে। প্রকল্পগুলোর প্রধান বাধা শুধু জমি বা প্রশাসনিক জটিলতা নয়; বরং অর্থদাতা ও ঠিকাদারি ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাও। আর সে কারণেই এক দশকের বেশি সময় পার হওয়ার পরও দেশের গুরুত্বপূর্ণ রেল প্রকল্পগুলোর অনেকগুলো এখনও গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি।
নথি বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রকল্পগুলোর প্রায় সবকটিতেই একই ধরনের সমস্যা ঘুরেফিরে এসেছে। বিদেশি ঋণের অর্থ ছাড়ে জটিলতা, ঠিকাদারের আর্থিক দুর্বলতা, ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধ, নকশা পরিবর্তন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা।
সীমান্তে অনুমতি নেই, থমকে কাজ: ২০১১ সালে অনুমোদিত কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলপথ পুনর্বাসন প্রকল্পের অবস্থা তুলনামূলক ভালো হলেও এখানেও অনিশ্চয়তা কাটেনি। সাড়ে ৭৫৭ কোটি টাকার এই প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৬৮ শতাংশ। তবে শাহবাজপুর আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছে ১৫০ গজ এলাকায় রেললাইন নির্মাণের জন্য এখনও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর অনুমতি মেলেনি। এ ছাড়া দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টি, বিদেশি বিশেষজ্ঞদের ভিসা জটিলতা, প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতির ঘাটতি এবং ভারতীয় ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থ পাঠানোর সমস্যাও প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রভাব ফেলছে। বলা হয়েছে, ঠিকাদার পর্যাপ্ত জনবল ও সরঞ্জাম নিয়োগ না করায় কাজ পিছিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি সাব-ঠিকাদারদের বিল পরিশোধেও বিলম্ব হচ্ছে, যা মাঠপর্যায়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
রেলওয়ের নিজস্ব মূল্যায়ন বলছে, প্রকল্পগুলোর বড় অংশে কাজ পিছিয়ে আছে। কোথাও ঋণের অর্থ ছাড় বন্ধ, কোথাও ঠিকাদারের আর্থিক সংকট, কোথাও জমি মামলা, আবার কোথাও নকশাগত ত্রুটি নতুন করে কাজ আটকে দিয়েছে।
প্রশ্ন উঠছে, প্রকল্প গ্রহণের সময় বাস্তবতা যাচাই, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং বাস্তবায়ন সক্ষমতার বিষয়গুলো কতটা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল। কারণ একের পর এক মেয়াদ বৃদ্ধি, ব্যয় সমন্বয় এবং সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) এখন যেন এসব প্রকল্পের স্থায়ী বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়েছে।





