হরমুজে জাহাজ চলাচলে ৬০ দিন কোনো ফি নেবে না ইরান
প্রকাশিত হয়েছে : ১৯ জুন ২০২৬, ৭:৫২:৫৪ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক : আগামী ৬০ দিনের জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের কাছ থেকে কোনো ট্রানজিট ফি নেওয়া হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে ইরান| যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ¯^াক্ষরিত ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেশটি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে|
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী সব বাণিজ্যিক জাহাজকে ফি ছাড় দেওয়া হবে| পরিষদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সময়ের জন্য প্রণালি ব্যবহারে যে ব্যয় সাধারণত নেওয়া হয়, তা ইরান সরকার নিজেই বহন করবে|
বিবৃতিতে বলা হয়, আগামী ৬০ দিনের জন্য আবেদনকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে কোনো ধরনের ট্রানজিট ফি নেওয়া হবে না| এর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল আরও সহজ হবে বলে আশা করছে তেহরান| মাসের পর মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার কারণে ˆবশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক নৌপথে যে অনিশ্চয়তা ˆতরি হয়েছিল, এই সিদ্ধান্তকে তা কাটিয়ে ওঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে|
বুধবার (১৭ জুন) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে ইলেকট্রনিকভাবে ¯^াক্ষরিত ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক কার্যকর হওয়ার পরই এই ঘোষণা আসে| ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে আগ্রহী সব বাণিজ্যিক জাহাজকে আগে পারস্য উপসাগর জলপথ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হবে| সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত আবেদন নিষ্পত্তি করতে এবং সমঝোতা স্মারকের আওতায় সেগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে| এই কর্তৃপক্ষই জাহাজগুলোর জন্য চলাচলের অনুমতিপত্র, নির্ধারিত সময়সূচি এবং রুট নির্ধারণ করবে|
ইরান বলেছে, সামুদ্রিক করিডোরে এখনো কিছু নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে| তাই জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রিতভাবে পরিচালনা করা হবে| কর্মকর্তাদের মতে, নির্ধারিত রুট ও সময়সূচি মেনে চললে নিরাপদ নৌযাত্রা নিশ্চিত করা, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা এবং ধীরে ধীরে হরমুজ প্রণালিতে ¯^াভাবিক জাহাজ চলাচল ফিরিয়ে আনা সহজ হবে|
এ কারণে অনুমোদন পাওয়া সব জাহাজকে নির্ধারিত সময় ও নির্দিষ্ট পথ অনুসরণ করেই হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে হবে বলে জানিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ| বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ এবং ˆবশ্বিক নৌপরিবহনে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে|




