ওসমানীনগরে শয়ন কক্ষ থেকে লাশ উদ্ধার
প্রকাশিত হয়েছে : ১৯ জুন ২০২৬, ১০:১৬:২৫ অপরাহ্ন

ওসমানীনগর প্রতিনিধি: ওসমানীনগরে নিজ বসতঘরের শয়ন কক্ষ থেকে তুরন মিয়া (৪৬) নামের একজনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর রাইকদাড়া গ্রামের মৃত মানিক মিয়ার ছেলে। শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে লাশ উদ্ধার করা হয়। বিকাল ৪টার দিকে সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মানছুরা আক্তারের নেতৃত্বে একটি তদন্ত দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ সময় ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মুরশেদুল আলম, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিকসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। তখন পরিবারের লোকজন দাবি করে রাস্তা নিয়ে বিরোধের জের ধরে তাকে প্রতিপক্ষরা হত্যা করেছে। তবে পুলিশের সামনে প্রতিবেশীদের কেউই মুখ খোলেননি।
জানা যায়, গতকাল রাত থেকে তুরন মিয়ার ঘরের দরজা বন্ধ দেখে বাড়ির লোকজন তার বোন ও ভাইকে খবর দেন। সকালে এসে তার ভাই এলাইছ মিয়া দেখতে পান ঘরে রক্তাক্ত অবস্থায় তুরন মিয়ার লাশ পড়ে রয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় ওসমানীনগর থানা পুলিশকে জানালে দুপুর ১টার দিকে ওসমানীনগর থানার ওসি মুরশেদুল আলম ভূইয়ার নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহত ব্যক্তির লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে থানায় নিয়ে আসে। এরপর লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তুরন মিয়া একটি টিনের বেড়া দেওয়া ঘরে বাস করতেন এবং ঘরের দরজা ভাঙ্গা জিআই তার দিয়ে বাধা। স্থানীয়দের তথ্যমতে, ইতোপূর্বে তিনি ২ বার স্ট্রোক করেছেন আবার সম্প্রতি একটি রাস্তার সরকারি কাজে নিম্ন মানের ইট লাগানোর প্রতিবাদ করায় তাকে বসত ঘরে গিয়ে ঠিকাদার কর্তৃক মারধর করায় তার মৃত্যু স্বাভাবিক নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এ নিয়ে এলাকায় গুঞ্জন চলছে। অন্যদিকে মৃতের মুখে কালো দাগ থাকায় তার মৃত্যু নিয়ে রহস্যের দানা বাঁধছে।
তুরন মিয়ার ভাই এলাইছ মিয়া বলেন, সরকারি রাস্তায় নিম্ন মানের কাজ হচ্ছে এমন অভিযোগ এনে প্রতিবাদ করলে আমার বাড়িরই লোক এবং এই কাজের ঠিকাদার তার লোকজন নিয়ে বসতঘরে এসে আমার ভাইকে হামলা ও মারধর করে। এর প্রতিকার পেতে ৬ জুন আমার ভাই ওসমানীনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করে নিস্পত্তি করতে পারেননি। এই বিরোধের জের ধরেই অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আমার ভাইকে হত্যা করেছে।
ইউপি সদস্য এম রুম্মান আহমদ জানান, সরকারি রাস্তায় নিম্ন মানের ইট লাগানো হচ্ছে এমন অভিযোগ করলে তুরন মিয়ার সঙ্গে (তারই চাচাতো ভাই) ঠিকাদার পক্ষের মারামারি হয়। বিষয়টি আপোষে নিস্পত্তির উদ্যোগ নিয়ে শেষ করা যায়নি।
ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মুরশেদুল আলম বলেন, স্বাভাবিক মৃত্যু না হত্যাকান্ড তা নিশ্চিত করতে নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে লাশ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না।
সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মানছুরা আক্তার বলেন, পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও প্রাপ্ত আলামতের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন হবে।




