৫ মাস ধরে ইউক্রেনের জেলে সিলেটের যুবক!
প্রকাশিত হয়েছে : ২৯ জুন ২০২৬, ৮:৩৮:৪৩ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : ট্রাভেল এজেন্সির প্রতারণার শিকার হয়ে ইউরোপের দেশ ইউক্রেনে গত পাঁচ মাস ধরে একটি মাইগ্র্যান্ট কাস্টডি সেন্টারে মানবেতর জীবনযাপন করছেন সিলেটের এক যুবক| তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে তার পরিবার|
ভুক্তভোগী যুবকের নাম মো. আলমগীর মিয়া| তিনি সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমা উপজেলার পূর্ব দাউদপুর গ্রামের আব্দুল খালিকের ছেলে| আলমগীরকে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে গত ২৫ জুন তার বোন ফাতেমা বেগম সিলেট জেলা প্রশাসক এবং জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস (ডিইএমও)-এর কাছে লিখিত আবেদন করেন|
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ৭ অক্টোবর আলমগীর ইউক্রেনের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ত্যাগ করেন| প্রথমে তিনি মালদোভায় যান এবং পরে বাসযোগে ইউক্রেনে প্রবেশ করেন| ইউক্রেন ও মালদোভার ট্রানজিট ভিসা, বাস টিকিটসহ প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্রের ব্যবস্থা করেন সিলেট নগরীর সুরমা টাওয়ারে অবস্থিত এস আল করিম এয়ার ইন্টারন্যাশনাল-এর ¯^ত্বাধিকারী মো. আজমল হোসেন| এজন্য তার কাছে ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়| কাজের ভিসার ব্যবস্থা করে দেওয়ার বিষয়ে তাদের মধ্যে লিখিত চুক্তিও হয়েছিল বলে আবেদনে দাবি করা হয়েছে|
পরিবারের অভিযোগ, চুক্তি অনুযায়ী কাজের ভিসা দেওয়ার কথা থাকলেও আলমগীরকে তিন মাস মেয়াদি ডি-ক্যাটাগরির ভিসা দিয়ে ইউক্রেনে পাঠানো হয়| সেখানে পৌঁছে তিনি একটি প্রতিষ্ঠানে ˆদনিক ভিত্তিতে কাজ শুরু করেন| তাকে জানানো হয়েছিল, কাজের ভিসা না পাওয়া পর্যন্ত এভাবেই কাজ চালিয়ে যেতে হবে|
কিন্তু এক মাস পর ওই প্রতিষ্ঠান থেকে তাকে আর কাজে না আসতে বলা হয়| এরপর তিনি বেকার হয়ে পড়েন| এ সময় বাংলাদেশে থাকা আজমল হোসেন তাকে অপেক্ষা করতে বলেন এবং আশ্বস্ত করেন যে অল্প সময়ের মধ্যেই তার কাজের ভিসার ব্যবস্থা করা হবে| সেই আশ্বাসে কয়েক মাস তিনি বাসায় অবস্থান করেন|
আবেদনে আরও বলা হয়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে স্থানীয় একটি বাজারে গেলে ইউক্রেনের পুলিশ তাকে আটক করে| পরে তাকে ইউক্রেনের সীমান্তবর্তী অবলাস্ট জেলার ভলিন মাইগ্র্যান্ট কাস্টডি সেন্টার-এ পাঠানো হয়| এরপর থেকে তিনি সেখানে আটক রয়েছেন|
পরিবারের দাবি, বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে প্রতারণা এবং দায়িত্বে চরম অবহেলার কারণে তারা আর্থিক, মানসিক ও সামাজিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন| জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রবাসী কল্যাণ শাখার মাধ্যমে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করে আলমগীরকে উদ্ধার ও দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে|
ইউক্রেনের কাস্টডি সেন্টার থেকে হোয়াটসঅ্যাপে আলমগীর জানান, তিনি অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন| সেখানে আলু ও পাউরুটি খেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন| দ্রুত মুক্তি ও দেশে ফেরার জন্য তিনি সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন|
আবেদনকারী ফাতেমা বেগম বলেন, তার ভাইকে ইউক্রেন পাঠানোর বিষয়ে বর্তমানে আজমল হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করছেন| ফোন করলেও বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকার কথা বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন|
এবিষয়ে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. আজমল হোসেনের ব্যবহৃত মোবাইল ন¤^রে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি| ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি|






