আমেরিকায় ডেমোক্রেটিক ঢেউয়েও মচকাবেন না ট্রাম্প!
প্রকাশিত হয়েছে : ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ৩:৩৬:৫০ অপরাহ্ন
জালালাবাদ রিপোর্ট : দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে হোয়াইট হাউসে পা রেখেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু ক্ষমতার কেন্দ্রে থেকে দু’বছরের মধ্যেই জোর ধাক্কা। আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে (মিড টার্ম ইলেকশন) ধরাশায়ী ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। মার্কিন কংগ্রেসের দখল নিল ডেমোক্র্যাটরা। সিনেট এবং হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস -দুই কক্ষেরই সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাল ট্রাম্পের দল।
শুধু তাই নয়, রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটিগুলোতে আছড়ে পড়ছে ডেমোক্র্যাটিক ঢেউ। যে অঞ্চলগুলোকে ঐতিহ্যগতভাবে রিপাবলিকান পার্টির ‘নিরাপদ জোন’ হিসেবে বিবেচনা করা হতো, সেখানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের এই অভাবনীয় উত্থান মার্কিন রাজনৈতিক সমীকরণকে পুরোপুরি ওলট-পালট করে দিচ্ছে।
দু’বছর পর আমেরিকায় রয়েছে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। তার আগে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ভরাডুবি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
এখনও পর্যন্ত যে হিসাব উঠে আসছে তাতে দেখা দেখা যাচ্ছে, মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ ১০০ আসন বিশিষ্ট সিনেটে ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে ৫৩টিতে এবং রিপাবলিকানরা ৪২টিতে। অন্যদিকে, নিম্নকক্ষ ৪৩৫ আসনের হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে ২২৪টিতে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা এবং ১৩৩টিতে এগিয়ে রিপাবলিকানরা। তবে কয়েকটি আসনের চূড়ান্ত ফল এখনও আসা বাকি।
বলে রাখা ভালো, এতদিন পর্যন্ত সিনেটে রিপাবলিকানদের দখলে ছিল ৫৩টি এবং ডেমোক্র্যাটদের দখলে ছিল ৪৭টি আসন। হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে রিপাবলিকানদের হাতে ছিল ২১৮টি আসন এবং ডেমোক্র্যাটদের ২১৪টি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ফলাফলের পথে ট্রাম্পের অনেক পরিকল্পনা আইনি পথে আটকে দিতে পারবে ডেমোক্র্যাটরা। এছাড়া তারা শুনানির আয়োজন করা, সমন জারি করা এবং তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতাও পেয়ে যাবে। যদিও ট্রাম্পের ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা এবং সিনেটে ‘ফিলিবাস্টার’ (আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা সৃষ্টির কৌশল)-এর কারণে বিষয়টা খুব একটা সহজ হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।
এদিকে, ভোটে ধাক্কা খেয়েও অবশ্য মচকাতে নারাজ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সামাজিকমাধ্যমে একটি পোস্ট করে তিনি লিখেছেন, ব্যালটে আমার নাম ছিল না। যদি থাকত, তা হলে বিপুল ভোটে জিততাম।
তবে বুধবার অবশ্য পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছেন ট্রাম্প। পরাজয়ের জন্য কারচুপি বা অন্য কোনও কারণকে দায়ীও করেননি। এমনকি বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছাপ্রকাশও করেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইম্স-কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ওদের (ডেমোক্র্যাট) সঙ্গে কাজ করার জন্য মুখিয়ে রয়েছি। ট্রাম্প এ-ও জানিয়েছেন যে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল ‘পুরোপুরি’ মেনে নিতে প্রস্তুত রয়েছেন তিনি। অবশ্য ভোটের প্রাথমিক ফল থেকে এটা স্পষ্ট যে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে মেয়াদের বাকি দুই বছর চাপের মধ্যে সরকার চালাতে হবে ট্রাম্পকে। কারণ যে কোনও গুরুত্বপূর্ণ বিল ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত হাউস অফ রিপ্রেজেন্টিটিভস আর সিনেটে পাশ করিয়ে আনতে হবে তাঁকে।
নির্বাচনী পরাজয়ের মধ্যে ট্রাম্প অবশ্য প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছেন। মার্কিন সংবিধান আমেরিকার প্রেসিডেন্টদের একটি বিশেষ ক্ষমতা দিয়েছে। এই ক্ষমতাবলে মার্কিন আইনসভায় পাশ হওয়া যে কোনও বিল ভেটো প্রয়োগ করে রদ করে দিতে পারেন প্রেসিডেন্ট। কোনও বিলে সম্মতি থাকলে প্রেসিডেন্ট তাতে স্বাক্ষর করবেন। না হলে তা পুনর্বিবেচনার জন্য ফের আইনসভার কাছে পাঠাবেন। ঘটনাচক্রে বুধবার ট্রাম্প সমাজমাধ্যমে একটি লাল রঙের টুপির ছবি পোস্ট করেন, যার উপরে লেখা রয়েছে সাদা অক্ষরে লেখা রয়েছে ‘ভেটো’ শব্দটি।





